Suvendu Adhikari Haldia Plant Inauguration: হলদিয়ায় ৬ হাজার কোটি টাকার ফেনল ও অ্যাসিটোন কারখানার উদ্বোধন, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ
Haldia: পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের শিল্পশহর হলদিয়ায় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো, যেখানে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকা বিশাল বিনিয়োগে দেশের বৃহত্তম ফেনল এবং অ্যাসিটোন উৎপাদন কারখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চতুর্থীর দিন সকাল এগারোটা নাগাদ আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজ্য সরকারের একাধিক শীর্ষ মন্ত্রী, শিল্পপতি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন, যা বাংলার অর্থনৈতিক ও শিল্প মানচিত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। ২০১৪ সালে তৎকালীন সময়ে যে প্রকল্পের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, দীর্ঘ প্রতিকূলতা ও নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে প্রায় দুই দশক পর আজ তা বাস্তব রূপ পেল। হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিল্প মহলে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে, কারণ এই মেগা প্রকল্পের হাত ধরে রাজ্যের উৎপাদন ক্ষেত্রে এক বিরাট সাফল্যের মুকুট যুক্ত হলো।

এই নতুন ও অত্যাধুনিক প্ল্যান্টটি তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতায় রয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড কোম্পানি অ্যাডিপারমার, এবং সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী এই উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতি বছর আনুমানিক ৩.৪৫ লক্ষ টন ফেনল এবং ২.১৫ লক্ষ টন অ্যাসিটোন উৎপাদিত হবে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদ মেটাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে এতদিন এই সমস্ত রাসায়নিক উপাদানগুলির জন্য দেশকে মূলত বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হতো, কিন্তু আজকের পর থেকে সেই আমদানির নির্ভরতা একেবারে শূন্যে এসে ঠেকবে, যা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার স্বপ্নের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে বর্তমান সময়ে পশ্চিমবঙ্গ বরমাত্রায় বিভিন্ন ভাতা বা অনুদান নির্ভর হয়ে পড়েছে, এবং এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে পুরো রাজ্যকে সর্বাঙ্গীনভাবে আত্মনির্ভর করে তোলার সময় এসে গিয়েছে, যা আজকের দিনের সবচেয়ে বড় শপথ হওয়া উচিত।
হলদিয়া পেট্রোকেমিক্যালের এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, অর্থমন্ত্রী স্বপন মজুমদার, উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং শাসক দলের একাধিক বিধায়ক ও সংসদ সদস্য, এছাড়াও এইচপিএলের কর্ণধার পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর নবনীত নারায়ণও বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগ দেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় তুলে ধরেন কী ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মুখfacing হয়েও তাঁদের এই সংস্থা এই বিশাল মাপের প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শিল্পপতি পূর্ণেন্দুবাবুকে রাজ্যে আরও বড় মাপের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যার মধ্যে একটি অত্যাধুনিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার বিশেষ প্রস্তাবও রয়েছে, এবং এই প্রকল্পে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সমস্ত রকম প্রশাসনিক সাহায্য ও সহযোগিতার জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগের ফলে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এক বিরাট সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, যেখানে নতুন এই কারখানার মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় চৌদ্দ শ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এই শিল্পাঞ্চলে আরও প্রায় দশ হাজার কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ আসার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে তরান্বিত করবে। স্থানীয় স্তরে দক্ষ কর্মী নিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন যে স্থানীয় আইটিআই (ITI) প্রতিষ্ঠানগুলি পরিদর্শন করে সেখানকার পরিকাঠামো উন্নত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে শিল্পক্ষেত্রে স্থানীয় যুবসমাজই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পায়।
শিল্পোন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী হলদিয়া অঞ্চলের জন্য একাধিক বড় প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৯৮ একর জমির ওপর একটি আন্তর্জাতিক মানের নরম পানীয় সংস্থার উৎপাদন ইউনিট এবং ৫০ একর জমির ওপর একটি আধুনিক চিকিৎসার সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী কারখানা গড়ে তোলা। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিকের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আগামী ২০২৭ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রায় আচল কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পঞ্চাশ শয্যা বিশিষ্ট ট্রমা কেয়ার এবং বার্ন ইউনিট তৈরির কাজও সম্পন্ন করার কাজ ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে হলদিয়ায় এই মেগা শিল্প প্রকল্পের উদ্বোধন এবং একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক ঘোষণা বাংলার শিল্পায়নের পথকে কেবল প্রসস্তই করেনি, বরং কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরতার এক নতুন বার্তার জন্ম দিয়েছে।




