দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু তার পরেও জেলায় জেলায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ভিন্ন ছবি প্রকট হচ্ছে। এবার তারকেশ্বরে খোদ এক বিজেপি নেতার বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠল। আলো নিভিয়ে নেতার স্ত্রীকে বেধড়ক মা*রধর করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর নাবালক ছেলের মাথা ফা*টিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই হা*মলায় দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন খোদ তারকেশ্বরের বিজেপি নেতা।
তারকেশ্বরে বিজেপি নেতার উপর হা*মলার নেপথ্যে কি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব?
আক্রান্ত ওই নেতার নাম গণেশ চক্রবর্তী। তিনি আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার বিজেপি সহ-সভাপতি। তাঁর স্ত্রী মিতা চক্রবর্তীও তারকেশ্বর চার নম্বর মণ্ডলের সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। গণেশবাবু জানিয়েছেন, সোমবার রাতে একদল দুষ্কৃতী তাঁর চাঁপাডাঙা কলেজ রোড স্কুলপাড়ার বাড়িতে ঢুকে অতর্কিতে হা*মলা চালায়। স্ত্রী ও ছেলেকে বেধড়ক মা*রধর করা হয়। ছেলের মাথা ফেটে র*ক্তপাত শুরু হলে এবং প্রতিবেশীরা জড়ো হলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে তারকেশ্বর থানার পুলিশ গিয়ে আহ*তদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তারকেশ্বরের বিজেপি নেতার দাবি, যারা হা*মলা চালিয়েছে তাদের কয়েকজনকে তিনি চেনেন এবং তারা বিজেপিরই লোক।
দুর্নীতির প্রতিবাদেই কি আক্রোশ?
কিন্তু কেন নিজের দলের নেতার পরিবারের ওপর এমন হা*মলা প্রসঙ্গে আক্রান্ত ওই তারকেশ্বরের বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তী জানান, তারকেশ্বর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম কুণ্ডুর দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সরব হয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে গ্রে*ফতার হয়েছেন। এছাড়া তারকেশ্বরে ‘নব্য’ এবং ‘আদি’ বিজেপির মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব রয়েছে। তিনি আদি বিজেপি হওয়ায় কোনো বেচাল দেখলেই প্রতিবাদ করেন। পাশাপাশি, তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পানের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক অম্লমধুর। এই সব কারণেই দলের একাংশ তাঁর ওপর আক্রোশ থেকে এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তাঁর অনুমান। স্ত্রী ও ছেলেকে সোমবার রাতেই তারকেশ্বর হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। থানায় মৌখিক অভিযোগও জানিয়েছেন গণেশবাবু। গোটা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
আরো পড়ুন: পরিকল্পনা করে বিজেপি কর্মীর প্রাণহানি নাকি পুজো কমিটির বিবাদ? বারুইপুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা



