UP Judge Death Sentence: ৫ মাসে ২৩টি মৃত্যুদণ্ডের সাজা! ‘কাপুরুষ হওয়ার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়’, মুজফ্ফরনগরে স্ত্রী খুনের মামলায় মন্তব্য বিচারকের
MUZAFFARNAGAR: মাত্র ৫ মাসে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড! একের পর এক ঐতিহাসিক ও কড়া রায় দিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মুজফ্ফরনগরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক রবি কুমার দিবাকর (Judge Ravi Kumar Diwakar)। সম্প্রতি এক বধূ নির্যাতন ও হত্যা মামলায় তাঁর ২৩তম ফাঁসির সাজা শোনানোর পাশাপাশি তাঁর সাহসিকতাপূর্ণ মন্তব্য নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালে মুজফ্ফরনগরের বাসিন্দা নাদিম নামে এক ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় তার ২৩ বছর বয়সি স্ত্রী শাহজাদীকে মারধর করে। এরপর গায়ে কেরোসিন ঢেলে তাঁকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। এই মামলার শুনানিতেই বিচারক রবি কুমার দিবাকর অভিযুক্ত নাদিমকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের (Death Penalty) নির্দেশ দেন। ঘটনাটিকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ (Rarest of rare) এবং চরম নৃশংস আখ্যা দিয়ে আদালত এই সাজা ঘোষণা করে।

তবে শুধু রায় দানই নয়, রায় ঘোষণার সময় বিচারকের কিছু মন্তব্য উপস্থিত সকলকে চমকে দেয়। তিনি বলেন, “আমার বাবা-মা আমাকে শুধুমাত্র ঈশ্বরকে ভয় করতে শিখিয়েছেন। আমি যদি অপরাধী বা মাফিয়াদের ভয়ে বিচারবিভাগীয় দায়িত্ব পালন করি, তবে বিচারব্যবস্থার ওপর থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। কাপুরুষ বিচারক বলে পরিচিত হওয়ার চেয়ে আমি মৃত্যুকে শ্রেয় বলে মনে করি।” তিনি আরও জানান যে, তাঁকে মাফিয়া ও দুষ্কৃতীদের তরফে লাগাতার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত অগাস্ট মাসেই বিচারক রবি কুমার দিবাকর খবরের শিরোনামে এসেছিলেন। সেবার মাত্র ৪ মাসের মধ্যে তিনি ১০টি আলাদা মামলায় ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা শুনিয়েছিলেন। এত দ্রুত ফাঁসির সাজা দেওয়ায় তাঁর আদালত থেকে প্রায় ১০০টি বিচারাধীন খুনের মামলা প্রশাসনিক নির্দেশে অন্য বিচারকের এজলাসে সরিয়ে নেওয়া হয়। সেই ঘটনার পর এই প্রথম ফের কোনও অপরাধীকে চরম সাজা শোনালেন তিনি।




