Nandigram By Election Mamata Banerjee: নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বে না ঋতব্রত শিবির, প্রতীক যুদ্ধে নয়া মোড়
KOLKATA: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর— রাজ্যের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে বঙ্গ রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তেজনা। আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলা এই উপভোটের মুখে সবচেয়ে বড় নজর কেড়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত আইনি লড়াই। নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই জোড়াফুল প্রতীকের আসল দাবিদার হয়ে মুখোমুখি সংঘাতে লিপ্ত কালীঘাট শিবির ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন গোষ্ঠী। তবে এই চরম ডামাডোলের মাঝেই নন্দীগ্রাম আসন নিয়ে এক চমকপ্রদ রাজনৈতিক চাল দিল ঋতব্রত শিবির।
নন্দীগ্রামে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হতে পারেন কি না, তা নিয়ে জোর রাজনৈতিক চর্চা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার বিধানসভার বাইরে ঋতব্রত শিবিরের মুখপাত্র ঋজু দত্ত চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, নন্দীগ্রামে যদি খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে ‘আসল তৃণমূল’ দাবিদার ঋতব্রত শিবির কোনও প্রার্থী দেবে না।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কার্যত সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এই শিবিরের দাবি, মমতা অতীতে নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েছেন, তাই তাঁরা চান তিনি নিজে দাঁড়িয়ে জিতে বিধানসভায় ফিরে আসুন। একই সঙ্গে তাঁদের বক্তব্য, মমতা চাইলে জোড়াফুল প্রতীকেও লড়তে পারেন কিংবা অন্য কোনও প্রতীকে দাঁড়ালেও তাঁদের আপত্তি নেই, কারণ তাঁরা সম্পূর্ণ নিয়ম ও আইন মেনেই কাজ করছেন।
অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ঘাসফুল প্রতীকের অধিকার নিশ্চিত করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। তাদের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি ও বিধায়ক তাঁদের সঙ্গেই রয়েছেন, ফলে আইন অনুযায়ী প্রতীক তাঁদেরই প্রাপ্য। তবে কমিশন যদি প্রতীক ফ্রিজ করে দেয় বা সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখে, তবে বিকল্প হিসেবে নির্দল প্রার্থী দিয়ে লড়াই চালানোর পরিকল্পনাও চূড়ান্ত রেখেছে তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতাকে ফাঁকা মাঠ ছাড়ার এই ঘোষণার পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির কৌশল। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের ময়দানে নামেন কি না।




