Acropolis Mall: অ্যাক্রোপলিস মলে সিনেমা দেখতে গিয়ে চরম হেনস্তা! শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬
KOLKATA: Acropolis Mall বা কলকাতার অভিজাত অ্যাক্রোপলিস মলে সিনেমা দেখতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার হলেন এক চিকিৎসক দম্পতি। মলের ভেতরের প্রেক্ষাগৃহে একদল মদ্যপ যুবকের হাতে শ্লীলতাহানি এবং বেধড়ক মারধরের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা শহরের আইনশৃঙ্খলা ও শপিং মলগুলির সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। জানা গিয়েছে, স্ত্রীর শ্লীলতাহানির তীব্র প্রতিবাদ করায় ওই চিকিৎসককেও চরম হেনস্তা ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কসবা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে, অভিযুক্ত যুবকরা পুলিশের সঙ্গেও চরম দুর্ব্যবহার করতে পিছপা হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশ কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে ৬ জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। খাস কলকাতার বুকে, বিশেষ করে ছুটির দিনে এমন একটি অভিজাত শপিং মলে প্রকাশ্যে মহিলাদের এমন হেনস্তার ঘটনা শহরের নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অভিজাত মলগুলিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত?

পুলিশ ও নিগৃহীতদের বয়ান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় ওই চিকিৎসক তাঁর স্ত্রী, এক বন্ধু এবং আরও কয়েকজন মহিলা পরিচিতকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাক্রোপলিস মলের একটি নামী মাল্টিপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মলে এবং সিনেমা হলে যথেষ্ট ভিড় ছিল, প্রচুর পরিবার সেখানে সময় কাটাতে এসেছিলেন। অভিযোগ, সিনেমা চলাকালীন হলের ভেতরেই তাঁদের ঠিক পিছনের সারিতে বসা পাঁচ-ছয়জন মদ্যপ যুবক ওই চিকিৎসক দম্পতির সঙ্গে থাকা মহিলাদের উদ্দেশে ক্রমাগত কুরুচিকর মন্তব্য ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করতে শুরু করে। প্রথমদিকে তাঁরা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও, যুবকদের অশালীন আচরণ ক্রমশ মাত্রা ছাড়াতে থাকে। মহিলাদের উদ্দেশে অত্যন্ত জঘন্য এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করায় ওই চিকিৎসক এবং তাঁর বন্ধুরা আর চুপ থাকতে পারেননি এবং তীব্র প্রতিবাদ জানান। আর এই প্রতিবাদের জেরেই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়, যা পরবর্তীতে এক ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
প্রতিবাদ করায় অভিযুক্ত যুবকরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে শান্ত হওয়ার বদলে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠে। অভিযোগ, সিনেমা হলের ভেতরেই তাঁরা ওই চিকিৎসকের ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করতে শুরু করে। দম্পতিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং রীতিমতো প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিগৃহীতার স্বামীর অভিযোগ, এত বড় একটি ঘটনা ঘটে যাওয়ার সময় সিনেমা হলের ভেতরে কোনো বাউন্সার বা নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত ছিলেন না। মলের ভেতরে যাঁরা পপকর্ন বা কোল্ড ড্রিঙ্কস বিক্রি করছিলেন, তাঁরাই এগিয়ে এসে ওই উন্মত্ত যুবকদের আটকানোর চেষ্টা করেন। হল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই করুণ দশা নিয়ে নিগৃহীত দম্পতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল অবিলম্বে নিরাপত্তারক্ষী ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। কিন্তু হলের ভেতরে মদ্যপ অবস্থায় দর্শকদের প্রবেশ এবং নজরদারির এই অভাব মল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।

সিনেমা হলের ভেতরে পরিস্থিতি ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে মল কর্তৃপক্ষ এবং উপস্থিত অন্যান্য দর্শকরা বাধ্য হয়ে কসবা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে কসবা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুলিশের উপস্থিতি দেখেও অভিযুক্ত মদ্যপ যুবকদের বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ ছিল না। উলটে তাঁরা পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়ে এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করতে থাকে। এরপরই পুলিশ কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং ৬ জন অভিযুক্ত যুবককে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে সোজা থানায় নিয়ে যায়। নিগৃহীতা মহিলার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ৬ জনের বিরুদ্ধে মহিলাদের উদ্দেশে অশালীন আচরণ, প্রকাশ্যে শ্লীলতাহানি, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ও কড়া ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের আসল পরিচয় এবং তারা কোথা থেকে এসেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওই ৬ জন অভিযুক্ত যুবককে সোমবার আদালতে পেশ করা হবে এবং তদন্তের স্বার্থে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য বিচারকের কাছে আবেদন জানাবে পুলিশ। খাস কলকাতার বুকে, বিশেষ করে একটি হাই-প্রোফাইল শপিং মলের ভেতরে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনা নতুন করে প্রবল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, মলে ঢোকার সময় মেটাল ডিটেক্টর এবং সিকিউরিটি চেকিং থাকা সত্ত্বেও ওই যুবকরা মদ্যপ অবস্থায় বা মদের বোতল নিয়ে সিনেমা হলে প্রবেশ করল কী করে? সিসিটিভি ক্যামেরা বা নিরাপত্তা রক্ষীদের নজরদারি কি শুধুমাত্র নামমাত্র? কসবা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই মল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে হলের ভেতরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই ঘটনার পর অ্যাক্রোপলিস মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার জোরালো দাবি তুলেছেন শহরের সচেতন নাগরিকরা, যাতে ভবিষ্যতে পরিবার নিয়ে সিনেমা দেখতে এসে কাউকেই এমন চরম হেনস্তা ও লজ্জাজনক পরিস্থিতির শিকার না হতে হয়।




