Yuva Shakti Varosa Card: যুবশক্তির ৩০০০ টাকা পেতে কোন ৮টি নথি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক? রইল আবেদনের সম্পূর্ণ তালিকা
KOLKATA: Yuva Shakti Varosa Card বা যুবা শক্তি ভরসা কার্ড রাজ্য সরকারের একটি অন্যতম বড় এবং জনকল্যাণমূলক মেগা প্রকল্প হতে চলেছে, যা নিয়ে রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংকল্পপত্রে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণ করতেই এই যুগান্তকারী স্কিমটি চালু করার প্রস্তুতি একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের শিক্ষিত অথচ বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক স্বনির্ভরতার জন্য প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক অনুদান বা ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই বিশাল অংকের অর্থ বরাদ্দ করেছেন। খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের জন্য ডেডিকেটেড অনলাইন পোর্টাল চালু হতে চলেছে। কিন্তু আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সাধারণ আবেদনকারীদের জেনে রাখা উচিত যে, এই প্রকল্পে সফলভাবে আবেদন করতে গেলে নির্দিষ্ট ৮টি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। নথিপত্রের সামান্য ভুলেও বাতিল হয়ে যেতে পারে আপনার আবেদন।

যুবা শক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার পরিমাণকে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যে সমস্ত বেকার যুবক-যুবতী ন্যূনতম স্নাতক বা গ্র্যাজুয়েশন (Graduation) সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁরা এই প্রকল্পের আওতায় প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। অন্যদিকে, যাঁরা এখনও স্নাতক স্তরের গণ্ডি পার করেননি, কিন্তু ন্যূনতম মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে বসে আছেন, তাঁদের জন্য প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, চাকরি খোঁজার এই কঠিন সময়ে বেকার ছেলেমেয়েদের যাতায়াত, ফর্ম ফিলাপ বা বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির খরচে সাহায্য করা। এছাড়া, এই ভাতার টাকা ব্যবহার করে যুবক-যুবতীরা কম্পিউটার কোর্স, স্পোকেন ইংলিশ বা অন্য কোনো পেশাদার স্কিল ডেভেলপমেন্টের প্রশিক্ষণও নিতে পারবেন। তবে, এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং তাঁকে সম্পূর্ণভাবে কর্মহীন বা বেকার হতে হবে।
এই মেগা প্রকল্পে আবেদন করার জন্য যে ৮টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যাবশ্যকীয় নথিপত্রের প্রয়োজন হবে, তার একটি তালিকা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে আলোচিত হচ্ছে। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিটি হলো আবেদনকারীর নিজস্ব আধার কার্ড (Aadhaar Card), যা পরিচয়ের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কাজ করবে। দ্বিতীয়ত, যেহেতু এই প্রকল্পটি শুধুমাত্র রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য, তাই বাসস্থানের প্রমাণপত্র হিসেবে ভোটার আইডি কার্ড (Voter ID) বা রেশন কার্ড জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তৃতীয়ত, বয়সের সঠিক প্রমাণের জন্য বার্থ সার্টিফিকেট বা জন্ম শংসাপত্র, অথবা মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে। চতুর্থত, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক বা স্নাতক স্তরের মার্কশিট এবং পাসিং সার্টিফিকেট আপলোড করতে হবে। আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করেই যেহেতু ভাতার পরিমাণ নির্ধারিত হবে, তাই এই সার্টিফিকেটগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পোর্টালে জমা দিতে হবে।
নথিপত্রের তালিকার পঞ্চম স্থানে রয়েছে একটি বৈধ এবং সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ। টাকা সরাসরি ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে, তাই ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার ছবি বা একটি ক্যানসেলড চেক (Cancelled Cheque) দেওয়া বাধ্যতামূলক। উল্লেখ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। ষষ্ঠ নথি হিসেবে আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি লাগবে। সপ্তম নথিটি হলো ইনকাম সার্টিফিকেট বা পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র। যেহেতু আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের বেকারদের এই সুবিধা দেওয়া হবে, তাই পরিবারের বার্ষিক আয়ের একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারে, যা প্রমাণের জন্য এই শংসাপত্র কাজে লাগবে। এবং অষ্টম নথি হিসেবে আবেদনকারীর একটি বৈধ মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল আইডি থাকা বাঞ্ছনীয়, যাতে রেজিস্ট্রেশন করার সময় ওটিপি (OTP) বা ভেরিফিকেশনের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া খুব শীঘ্রই অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে শুরু হবে। যাঁরা আগে পূর্বতন সরকারের ‘যুবশ্রী’ বা ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদেরও তথ্য নতুন করে যাচাই করে এই পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে জালিয়াতি রুখতে এবং প্রকৃত অভাবী প্রার্থীদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই আটটি নথির কঠোর যাচাইকরণ বা ভেরিফিকেশন করা হবে। যদি কোনো আবেদনকারী করদাতা (Tax Payer) হন বা পরিবারে কেউ অন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা পেনশন পান, তবে তাঁদের আবেদন গ্রাহ্য হবে না। যুবা শক্তি ভরসা কার্ডের এই উদ্যোগ বাংলার যুবসমাজের কাছে আক্ষরিক অর্থেই একটি বিরাট ভরসার জায়গা হয়ে উঠবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাই যাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ইচ্ছুক, তাঁদের এখন থেকেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিকভাবে গুছিয়ে রাখা উচিত, যাতে পোর্টাল খোলার সঙ্গে সঙ্গেই কোনো রকম ঝামেলা ছাড়া তাঁরা নিজেদের আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন।




