Dev Rachana Banerjee: NCPI-তে বড় দায়িত্বে দেব! রচনা ব্যানার্জি থেকে মিতালি বাগ পেলেন দলের জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদ
KOLKATA: Dev Rachana Banerjee এবং মিতালি বাগ সহ বেশ কয়েকজন দাপুটে এবং জনপ্রিয় বিক্ষুব্ধ সাংসদ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য গঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ বা NCPI-তে যোগ দেওয়ার পর এবার নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পেতে চলেছেন। তৃণমূল ছেড়ে একঝাঁক সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিলেও, এতদিন পর্যন্ত এই নতুন দলটির কোনো সুনির্দিষ্ট এবং পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই একটি জাতীয় দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি বড় দুর্বলতা ছিল। তবে এবার সেই খামতি সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে জাতীয় স্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে বড়সড় রদবদল করল এনসিপিআই নেতৃত্ব। দলের জাতীয় সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় পদাধিকারীদের নাম এবং তাঁদের দায়িত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। এই বিজ্ঞপ্তিতে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিনোদন জগৎ থেকে রাজনীতিতে আসা তারকা সাংসদদের দলের অন্দরে আনকোরা নতুন পদে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়টি, যা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায়ই আপাতত দলের সর্বভারতীয় বা জাতীয় সভাপতি পদে বহাল থাকছেন। তবে জাতীয় স্তরে সংগঠনকে দ্রুত শক্তিশালী করার জন্য এবং তৃণমূল স্তর পর্যন্ত দলের শিকড় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একাধিক নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে দেব, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগের মতো অতি পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখদের দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে দলের জাতীয় সহ-সভাপতি এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদকের মতো শীর্ষ পদে নিয়োগ করা হয়েছে। তৃণমূলের অন্দরে মেগা বিদ্রোহ করে যে ২০ জন লোকসভা সাংসদ গত জুন মাসে এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছিলেন, তাঁদেরকেই মূলত দলের এই নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে বসিয়ে সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে দলের ভিত্তি মজবুত করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণা, এই পরিচিত মুখগুলিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে তাঁরা বড়সড় রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে সক্ষম হবেন।
তৃণমূল ছেড়ে আসা এই সাংসদদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে দলত্যাগের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে বেশ কিছু প্রশ্ন এবং জল্পনা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, সম্পূর্ণ একটি নতুন এবং অপরিচিত দলে গিয়ে তাঁরা হয়তো সেভাবে কোনো সাংগঠনিক গুরুত্ব বা পদ পাবেন না। কিন্তু বর্তমান এই সাংগঠনিক রদবদল সেই সমস্ত জল্পনার চিরতরে অবসান ঘটিয়েছে। Dev Rachana Banerjee এবং অন্যান্য সাংসদরা তাঁদের নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর দলের আগামী কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে খুব দ্রুত নিজেদের মধ্যে এক মেগা আলোচনায় বসবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। বিশেষ করে দীপক অধিকারী ওরফে দেব এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তারকা সাংসদরা যাতে তাঁদের ব্যক্তিগত আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে দলের জনসংযোগ বাড়াতে পারেন, সেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই তাঁদের জাতীয় স্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁদের যে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাকে রাজনৈতিক মূলধনে পরিণত করতেই এনসিপিআই এই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে।

অন্যদিকে, এই ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে ঘিরে আইনি জটিলতা এবং আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত রয়েছে। দলত্যাগ-বিরোধী আইনে লোকসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূল কংগ্রেসের দায়ের করা সাংসদ পদ খারিজের আবেদনের বিষয়টি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে রয়েছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সাংসদদের লোকসভার সদস্যপদ অবিলম্বে খারিজের দাবিতে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সেই মেগা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই বিদ্রোহী সাংসদদের বক্তব্য জানতে চেয়ে নোটিস পাঠিয়েছে। এই তীব্র আইনি দোলাচল এবং অনিশ্চয়তার মাঝেই এনসিপিআই-এর তরফ থেকে তাঁদের শীর্ষ সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার এই পদক্ষেপ রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে দলের সভাপতি জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় কার্যত স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, হাজার আইনি বিপত্তি সত্ত্বেও দল এই সাংসদদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছে এবং কোনোভাবেই তাঁদের রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা হতে দেওয়া হবে না।
আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতিতে এনসিপিআই ঠিক কতটা প্রভাব ফেলতে পারবে, তা এখন অনেকটাই নির্ভর করবে এই নতুন পদাধিকারীদের রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ওপর। Dev Rachana Banerjee এবং মিতালি বাগের মতো জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের লোকসভা এলাকায় এবং জাতীয় স্তরে দলকে কতটা মজবুত করতে পারেন, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে গোটা রাজনৈতিক মহলের। আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক ময়দানেও নিজেদের অস্তিত্ব প্রমাণ করার এই মেগা চ্যালেঞ্জ নিয়েই এনসিপিআই-এর নতুন কমিটি তাদের কাজ শুরু করতে চলেছে। সাধারণ ভোটাররা তাঁদের এই রাজনৈতিক দলবদল এবং নতুন পদপ্রাপ্তিকে কীভাবে গ্রহণ করেন, তা হয়তো আগামী দিনের নির্বাচনগুলিই স্পষ্ট করে দেবে। তবে আপাতত নতুন দায়িত্ব পেয়ে দেব এবং রচনার মতো তারকারা যে দলের কাজ নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী, তা তাঁদের অনুগামীদের উচ্ছ্বাস দেখেই পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে।




