Mahua Moitra: ‘ক্রিমিনাল’ জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দিল্লির থানায় অভিযোগ মহুয়ার! এ ভাবে এফআইআর হয় না, জানাল পুলিশ
NEW DELHI: Mahua Moitra বা কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের রাস্তায় হাঁটলেন। নির্বাচন কমিশনের অন্দরে চলা বেনজির অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং এসআইআর (SIR) বিতর্কের আবহে এবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। শুধু অভিযোগ দায়ের করেই তিনি থেমে থাকেননি, অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ফৌজদারি তদন্তের আওতায় আনার কড়া আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি, একটি স্বাধীন সাংবিধানিক পদের শীর্ষ কর্তাকে সরাসরি ‘ক্রিমিনাল’ বা অপরাধী বলে চরম কটাক্ষও করেছেন এই দাপুটে তৃণমূল সাংসদ। তবে তাঁর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখনই কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নারাজ। থানা থেকে তাঁকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বর্তমান আইনের নিয়মে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সাধারণ প্রক্রিয়ায় এ ভাবে এফআইআর দায়ের করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

থানায় নিজের লিখিত অভিযোগ জানিয়ে আসার পর মহুয়া মৈত্র তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে একটি বিস্তারিত ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওবার্তায় তিনি গোটা ঘটনাটি এবং পুলিশের আইনি যুক্তির কথা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। মহুয়া জানান, দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে তিনি যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করেন, তখন থানার আধিকারিকরা তাঁকে ২০২৩ সালের একটি নতুন আইনের কথা মনে করিয়ে দেন। থানা থেকে তাঁকে বলা হয়, ২০২৩ সালে মোদী সরকারের আমলে যে নতুন আইন পাস করা হয়েছিল, তার ১৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ আইনি রক্ষাকবচ প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁদের বিরুদ্ধে সাধারণ নাগরিকের মতো কোনো আইনি পদক্ষেপ বা এফআইআর করা যাবে না। তবে এই যুক্তিতে দমে না গিয়ে মহুয়া পাল্টা দাবি করেন যে, জ্ঞানেশ কুমার একজন ‘ক্রিমিনাল’ এবং তিনি সর্বসম্মতিক্রমে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি।
আরও পড়ুন: Rahul Gandhi: ‘ভোট চুরি হয়েছে, অপরাধীদের শাস্তি পেতেই হবে’, ৭ চক্রান্তকারীর তালিকা প্রকাশ করে মোদী-জ্ঞানেশকে তোপ রাহুলের
তৃণমূল সাংসদ তাঁর অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারের বক্তব্যের কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। মহুয়ার দাবি, নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এবং লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন কমিশনের অন্দরে যা যা পদক্ষেপ করছেন, তা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি। অন্যান্য কমিশনারদের মতামতকে সম্পূর্ণভাবে গ্রাহ্য না করে, তাঁদের অন্ধকারে রেখে জ্ঞানেশ কুমার একনায়কের মতো নিজের মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে অভিযোগ। মহুয়ার বক্তব্য, যখন খোদ নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই শীর্ষ আধিকারিক মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যকলাপকে বেআইনি বলে লিখিত অভিযোগ জানাচ্ছেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে কোনোভাবেই ওই ২০২৩ সালের আইনের রক্ষাকবচ কার্যকর থাকতে পারে না। অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে আইনের চোখে সকলেই সমান, এবং সেই কারণেই অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা উচিত।

বুধবার প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট উল্লেখ করে মহুয়া মৈত্র ভোটার তালিকা বিকৃত করার এক গভীর চক্রান্তের অভিযোগ সামনে এনেছেন। তিনি জানান, ভোটারদের ফর্ম ৬-এ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে নতুন প্রশ্ন যোগ করা হয়েছে, যা আইন সংশোধন না করে কোনোভাবেই করা যায় না। সবচেয়ে মারাত্মক অভিযোগ হলো, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩৩ লক্ষ বৈধ ভোটারের বিরুদ্ধে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আবেদন জানিয়েছে। সঁধু এবং জোশী লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন এবং জ্ঞানেশের কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে এই বিশাল আবেদন কে বা কারা করল, কিন্তু তার কোনো উত্তর আসেনি। মহুয়ার আরও অভিযোগ, ডিজি আইটি সীমা খন্নার সঙ্গে আঁতাত করে জ্ঞানেশ কুমার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভোটার তালিকা বিকৃত করেছেন। ব্লকে ব্লকে এবং বুথে বুথে বিএলও (BLO) ও ইআরও (ERO)-দের ক্ষমতা সম্পূর্ণ খর্ব করে পিছন থেকে গোপনে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এই অন্তর্তদন্তমূলক রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর গোটা দেশে এবং জাতীয় রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই এক মেগা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে যে, গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনের বাকি দুই কমিশনার সঁধু এবং জোশী বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে তাঁদের তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। জ্ঞানেশ কুমারের একাধিক একক সিদ্ধান্তকে তাঁরা বেআইনি বলে আখ্যা দিলেও, তাঁদের সমস্ত আপত্তিকে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে জ্ঞানেশ কুমার একাই নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসার পর থেকেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী—সকলেই একযোগে জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং গ্রেফতারির দাবিতে সরব হয়েছেন। আর এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই মহুয়া মৈত্রের এই থানা-অভিযান গোটা বিষয়টিকে আরও এক ধাপ উত্তপ্ত করে তুলল।




