Anjana Basu: রাজ্য বিজেপিতে মেগা রদবদল! মহিলা মোর্চার নয়া সভানেত্রী অঞ্জনা, পদ হারালেন ‘বিতর্কিত’ শর্বরী

Published:

Anjana Basu: রাজ্য বিজেপিতে মেগা সাংগঠনিক রদবদল, মহিলা মোর্চার শীর্ষে অঞ্জনা বসু

KOLKATA: Anjana Basu বা জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী অঞ্জনা বসু এবার বঙ্গ বিজেপির রাজনীতিতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পেলেন। দলের সর্বভারতীয় সভাপতির পশ্চিমবঙ্গ সফরের ঠিক দু’দিন আগেই রাজ্য বিজেপিতে এক বড়সড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ রদবদল ঘটানো হলো। শমীক ভট্টাচার্য দলের রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় নতুন কমিটি ঘোষণা শুরু হয়েছিল। সেই রেশ ধরেই এবার দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি শাখা সংগঠন—মহিলা মোর্চা এবং যুব মোর্চার শীর্ষ নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আনা হলো। একইসঙ্গে দলের অন্দরে ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রয়োগ করে একাধিক মন্ত্রীকে দলের সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই মেগা রদবদলের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ফাল্গুনী পাত্রকে সরিয়ে রাজ্য মহিলা মোর্চার নতুন সভানেত্রী হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ অঞ্জনা বসুকে।

Advertisement Andaman Vibes

মহিলা মোর্চার শীর্ষ পদে অঞ্জনা বসুর এই নিযুক্তির মাধ্যমে রাজ্য বিজেপি যে ফের একবার ‘খ্যাতনামী মুখ’-এ আস্থা রাখার পুরনো নীতিতেই ফিরে গেল, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে একেবারে স্পষ্ট। অতীতে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে মহিলা মোর্চার মাথায় বসিয়ে বঙ্গ বিজেপির এই তারকা-নির্ভর যাত্রা শুরু হয়েছিল, যার পর লকেট চট্টোপাধ্যায় এবং অগ্নিমিত্রা পালের মতো গ্ল্যামার জগতের মানুষরা এই পদে এসেছিলেন। তবে মাঝের কয়েক বছর তনুজা চক্রবর্তী এবং ফাল্গুনী পাত্রের মতো সাধারণ স্তরের রাজনৈতিক কর্মীরা এই দায়িত্ব সামলেছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া অঞ্জনা বসু দলের পরাজয়ের পর কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও, সম্প্রতি দলের বৃত্তে তাঁর যাতায়াত চোখে পড়ার মতো বাড়ে। কয়েক মাস আগেই তাঁকে কেন্দ্রীয় ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের পরামর্শক সদস্য করা হয়েছিল, আর এবার সরাসরি মহিলা মোর্চার রাশ তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হলো। সদ্য প্রাক্তন সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্রকে অবশ্য দলের রাজ্য সহ-সভানেত্রী করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Suvendu Adhikari: রাজ্যের ‘গুন্ডাদমন’ বিলে স্বাক্ষর করলেন না রাষ্ট্রপতি! বড়সড় ধাক্কা খেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু 

অন্যদিকে, দলের আরেক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা সংগঠন যুব মোর্চার শীর্ষ পদেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন যুব মোর্চার সভাপতি পদে ছিলেন চিকিৎসক ইন্দ্রনীল খাঁ। কিন্তু ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার পর তিনি বর্তমানে রাজ্য সরকারের একজন মন্ত্রী। দলের ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির কারণে ইন্দ্রনীল যে আর যুব মোর্চার শীর্ষ পদে থাকবেন না, তা রাজনৈতিক মহলে একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। তাঁর জায়গায় এবার যুব মোর্চার নতুন সভাপতি হিসেবে তুলে আনা হলো বিধায়ক অমিত সামন্তকে। গত বিধানসভা নির্বাচনে আমতা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়লাভ করা অমিত এর আগে ইন্দ্রনীলের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সামলেছেন। তাই যুব মোর্চার রাশ এবার তাঁর হাতেই তুলে দিয়ে নির্ভরতার বার্তা দিল শীর্ষ নেতৃত্ব।

Advertisement

তবে এই রদবদলে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে দলের রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের আকস্মিক অপসারণ ঘিরে। শমীক ভট্টাচার্যের ঘোষিত কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে থাকা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, দীপক বর্মন এবং রাজ্য সম্পাদক শঙ্কর ঘোষকে মন্ত্রী হওয়ার কারণেই সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে। কিন্তু শর্বরী মুখোপাধ্যায় কোনও মন্ত্রী নন, তিনি শুধুমাত্র একজন বিধায়ক। বিজেপির নিয়ম অনুযায়ী বিধায়ক বা সাংসদ থাকা অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোয় কোনও আইনি বা গঠনতান্ত্রিক বাধা নেই। তা সত্ত্বেও তাঁকে অপসারণ করার পেছনে তাঁর নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্র যাদবপুরে তাঁর ‘বিতর্কিত’ কার্যকলাপই দায়ী বলে দলের একাংশ মনে করছে। যাদবপুরে তাঁর নানা পদক্ষেপ নিয়ে দলের ভেতরেই বারবার কড়া আপত্তি উঠছিল, যার জেরেই তাঁকে এই পদ খোয়াতে হলো বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে।

আরও পড়ুন: Sourav Palodhi: বাবা-ছেলের ইগোর লড়াই নিয়ে সৌরভ পালোধীর নতুন ছবি ‘শেষ অবধি’, মুখ্য চরিত্রে গৌতম-ইন্দ্রাশিস

রাজ্য বিজেপির এই নতুন পদাধিকারী তালিকায় দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসলের প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে। এ রাজ্যে ‘বুথ সশক্তিকরণ অভিযান’-এর সময় বনসলের ‘টিম’ হিসেবে যাঁরা কাজ করেছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই এই নতুন কমিটিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়ে গিয়েছেন। প্রবাল রাহা, শশী অগ্নিহোত্রী, শাখারভ সরকার, অনুপম ঘোষের পাশাপাশি রামপদ দাসকে সহ-সভাপতি এবং নীলাঞ্জন অধিকারী ও শঙ্কর চক্রবর্তীকে রাজ্য সম্পাদক করা হয়েছে। যুব মোর্চার নতুন সভাপতি অমিত সামন্তও বনসলের বিশেষ আস্থাভাজন বলেই দলের অন্দরে পরিচিত। শমীকের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অনল বিশ্বাস এবং মিঠুন চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সঞ্জয় বর্মাকেও রাজ্য সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য স্তরের পাশাপাশি জেলা স্তরেও বড়সড় পরিবর্তন এনে বনগাঁ, বারাসত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়া—এই সাতটি সাংগঠনিক জেলায় নতুন সভাপতি নিয়োগ করে আগামী লড়াইয়ের আগে দলের ভিত মজবুত করার কড়া বার্তা দিল গেরুয়া শিবির।

Ad

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img