Suvendu Adhikari: রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে বড় ধাক্কা খেল রাজ্য, ‘গুন্ডাদমন’ বিল ফেরত গেল বিধানসভায়
KOLKATA: Suvendu Adhikari পরিচালিত রাজ্য সরকারের অন্যতম চর্চিত ‘গুন্ডাদমন’ বিল বা পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল নিয়ে এবার একটি বড়সড় আইনি জটিলতা তৈরি হলো। রাজ্য বিধানসভায় সদ্য পাস হওয়া এই বিলে স্বাক্ষর করলেন না দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বরং বিলটিতে বেশ কিছু রদবদল এবং সংশোধনের কড়া পরামর্শ দিয়ে তা পুনর্বিবেচনার জন্য পুনরায় রাজ্যের কাছেই ফেরত পাঠানো হয়েছে। এই অভাবনীয় পদক্ষেপের ফলে স্বাভাবিকভাবেই চরম অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্যের শাসক শিবির। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে যে, প্রস্তাবিত এই গুন্ডাদমন বিলে উল্লিখিত কিছু নির্দিষ্ট বিধির সঙ্গে কেন্দ্রীয় মাদকবিরোধী আইন বা ‘এনডিপিএস’ (NDPS)-এর সরাসরি সংঘাত তৈরি হওয়ার কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া একটি বিশেষ নোটে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, প্রস্তাবিত বিলের একটি নির্দিষ্ট অনুচ্ছেদে বলা হয়েছিল, কোনও ব্যক্তি যদি মাদক সংক্রান্ত কোনও অপরাধ করেন বা অপরাধীকে সাহায্য করেন, তবে তাঁকেও ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। কিন্তু সমস্যা হলো, এই ধরনের ব্যক্তিকে যে ভাবে সন্দেহবশে বা নিবর্তনমূলক আটক রাখার কথা প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় আইনের পরিপন্থী। কারণ, কেন্দ্রীয় আইনে মাদক কারবারিদের প্রতিরোধমূলক সশ্রম সাজার জন্য আগে থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামো বলবৎ রয়েছে। ফলে এই বিলে রাজ্য সরকার নতুন করে মাদক অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করায় কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে একটি সমান্তরাল আইনি পরিকাঠামো তৈরি হচ্ছিল, যা ভারতীয় সংবিধানের ২৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদের সম্পূর্ণ বিরোধী। এই আইনি বিরোধ এড়াতেই বিলটি থেকে মাদক সংক্রান্ত ধারাটি ছেঁটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে নিশ্চিতভাবেই কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। রাজ্যের এক শীর্ষ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে জানিয়েছেন যে, এটি নিশ্চিতভাবেই সরকারের জন্য একটি সাময়িক ধাক্কা, কারণ খুব দ্রুত এই বিলটি রাজ্যে কার্যকর করার বিশেষ পরিকল্পনা ছিল। তবে তিনি আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় আইনি কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে পুনরায় বিধানসভায় পেশ করে বিলটি পাস করানোর আইনি পথ এখনও সরকারের সামনে খোলা রয়েছে। সংশোধনীর পর বিলটি আবার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য দিল্লিতে পাঠানো হবে। প্রস্তাবিত এই বিলে অসামাজিক কার্যকলাপের সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তিকে জেলাশাসক বা পুলিশ আধিকারিকের আদেশে নির্দিষ্ট কোনও এলাকা থেকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করার আইনি বিধানও রাখা হয়েছিল।

এই বিল আটকে যাওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে শুরু করেছে বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন যে, তাঁরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলেন এই বিলের কোনও ভিত্তি নেই এবং ভাগ্যিস রাষ্ট্রপতি এতে সই করেননি, না হলে মুখ্যমন্ত্রীকেই হয়তো জেলে যেতে হতো। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারও রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন যে, দোষীকে শাস্তি দিতে দেশে আইনের কোনও অভাব নেই, আসলে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে দমন করার জন্যই এই আইন আনার চেষ্টা চলছিল। সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী প্রায় একই সুরে সরকারকে আক্রমণ করে বলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী বড় বড় কথা বললেও তা আসলে ফাঁকা কলসির আওয়াজের মতো। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার রাজ্যে বিরোধীদের দমনপীড়নের জন্যই এমন একটি বিল তৈরি করেছিল।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন বিধানসভায় এই বিলটি পাস হওয়ার পর রাজ্যপালের সম্মতি নিয়ে ১৩ জুলাই সেটি রাজ্যে চালু হয়ে গিয়েছে বলে সরকারিভাবে দাবি করা হয়েছিল। এমনকী কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে কলকাতায় হওয়া গোলমালে এই আইনেই ধরপাকড় হয়েছে বলে প্রথমদিকে শোনা যায়। মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং দাবি করেছিলেন যে, এই বিল ইতিমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিবাদ মিছিলে অশান্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে এটি প্রয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু অগস্ট মাসে কলকাতা হাই কোর্টে হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানির সময়ে খোদ রাজ্য সরকারের আইনজীবীরাই আদালতে স্বীকার করে নেন যে, বিলটি তখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে। এখন রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপে বিলটি ফেরত আসায় রাজ্য রাজনীতিতে এই বিতর্ক যে এক নতুন মাত্রা পেল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।




