Suvendu Adhikari: কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
PURBA BARDHAMAN: Suvendu Adhikari বা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কৃষকদের সার্বিক কল্যাণে এক বিরাট এবং যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। পূর্ব বর্ধমান জেলায় আয়োজিত এক সুবিশাল কৃষক সমাবেশ থেকে তিনি কৃষকদের আর্থিক সহায়তা এবং কৃষি পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক প্রশাসনিক প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। বাংলার শস্যগোলা হিসেবে পরিচিত এই জেলার মাটি থেকে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতে ভর্তুকি প্রদান, পিএম কিষাণ সম্মান নিধির অনুদান বৃদ্ধি, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের বকেয়া মেটানো এবং আলু চাষিদের জন্য বিশেষ সহায়তার মতো একাধিক মেগা প্রকল্পের কথা এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। দীর্ঘদিনের দাবি দাওয়া পূরণ হওয়ায় স্বভাবতই জেলার পাশাপাশি গোটা রাজ্যের কৃষক সমাজের মধ্যে এক বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতির মূল মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষিক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে এবং কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বিরাট মেগা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহল মনে করছে।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় ঘোষণাগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল কৃষি বিদ্যুতের বিলে বিরাট ভর্তুকি প্রদান। কৃষিকাজে ব্যবহৃত পাম্পসেট এবং এগ্রিকালচার কানেকশনের ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিলে ইউনিটপিছু দুই টাকা করে ভর্তুকি দেওয়ার কথা তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। প্রশাসনিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান যে, আগামী দিনে রাজ্যের প্রায় চার লক্ষ কৃষক সরাসরি এই সুবিধার আওতায় আসতে চলেছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই প্রায় পঁচিশ হাজার কৃষক এই মেগা ভর্তুকির সুবিধা উপভোগ করবেন। আগামী ত্রৈমাসিক থেকেই এই ভর্তুকির সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে কোনো কোনো কৃষকের ক্ষেত্রে বছরে প্রায় পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ খরচ বাঁচানো সম্ভব হবে। সেচের জন্য বিদ্যুতের এই বিপুল ছাড় গ্রীষ্মকালীন ফসল উৎপাদনে কৃষকদের অনেকটাই চিন্তামুক্ত করবে। এই সমগ্র প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য রাজ্য সরকারের রাজকোষ থেকে অতিরিক্ত প্রায় তিনশো কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: Sajal Ghosh: রাজনীতি করলে কি খেলা ভালোবাসতে নেই? সিএবিতে দাঁড়িয়ে সপাট জবাব বিজেপি বিধায়ক সজলের
শুধু বিদ্যুৎ বিলেই নয়, পিএম কিষাণ সম্মান নিধির ক্ষেত্রেও রাজ্যের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতকাল কেন্দ্রের তরফ থেকে এই প্রকল্পে কৃষকদের বছরে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হতো। এবার তার সঙ্গে রাজ্য সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে আরও তিন হাজার টাকা যুক্ত করবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর ফলে রাজ্যের যোগ্য কৃষকরা বছরে মোট নয় হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। রাজ্যের প্রায় চুয়ান্ন লক্ষ কৃষক পরিবার এই বর্ধিত সুবিধার আওতায় আসবে বলে প্রশাসন দাবি করেছে। পাশাপাশি, রাজ্য জুড়ে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে পিএম কিষাণের জন্য আবেদনকারীদের যাবতীয় তথ্য দ্রুত যাচাই করে তাঁদেরও এই প্রকল্পের আওতায় আনার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের ভেরিফিকেশন বা যাচাই পর্ব আগামী ত্রিশ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার জন্য প্রশাসনকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। যাচাই সম্পূর্ণ হওয়ার পর যোগ্য কৃষকদের যাবতীয় বকেয়া অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এদিন বড়সড় প্রশাসনিক ঘোষণা করা হয়েছে। ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে রাজ্যের তরফ থেকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের নির্ধারিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপির সঙ্গে রাজ্য সরকার কুইন্টাল প্রতি আরও দুইশো টাকা অতিরিক্ত বোনাস হিসেবে প্রদান করবে। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই এই ধান কেনার কথা বলা হয়েছে, যাতে ফড়ে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট সম্পূর্ণভাবে কমানো যায়। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, একজন কৃষক একশো কুইন্টাল ধান বিক্রি করলে অতিরিক্ত কুড়ি হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন। পাশাপাশি, পূর্ব বর্ধমান জেলার ধান ও আলু উৎপাদনের ব্যাপকতার কথা বিবেচনা করে আলু চাষিদের জন্য একটি পৃথক বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। সার সরবরাহ, ফসলের দাম নির্ধারণ, হিমঘর আধুনিকীকরণ এবং আন্তঃরাজ্য পরিবহণের মতো অত্যন্ত জরুরি বিষয়গুলি এই বিশেষ প্যাকেজের আওতায় আসতে পারে। তবে প্যাকেজের নির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামো এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
কৃষিক্ষেত্রের আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি সার্বিক কৃষি পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ এবং গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও একাধিক নতুন প্রকল্প এদিন চালু করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের মহাচন্দায় প্রায় একশো তেইশ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত একটি ১৩২ কেভি সাবস্টেশন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে, যা গ্রামীণ এলাকায় লো-ভোল্টেজের সমস্যা দূর করবে। এছাড়াও হুগলির ধনিয়াখালি, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এবং বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের দৌলতপুরে আরও তিনটি নতুন সাবস্টেশন চালুর কথা ঘোষণা করা হয়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে মেমারি-চকদিঘি-তারকেশ্বর রোডের প্রায় এগারো কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ করা হয়েছে, যার জন্য প্রায় তেরো কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। পূর্ত দপ্তরের নির্মিত একটি নতুন সেতুও এদিন উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিশেষে, কৃষি দফতর, বিদ্যুৎ দপ্তর, পূর্ত দপ্তর এবং জেলা প্রশাসনকে কৃষকদের স্বার্থে সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে পারস্পরিক সমন্বয় বজায় রেখে একযোগে কাজ করার কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।




