Sajal Ghosh: রাজনীতি করলে কি খেলা ভালোবাসতে নেই? সিএবিতে দাঁড়িয়ে সপাট জবাব বিজেপি বিধায়ক সজলের

Published:

Sajal Ghosh: রাজনীতি করলে কি খেলা ভালোবাসতে নেই? সিএবির সাধারণ সভায় সপাট জবাব সজল ঘোষের

KOLKATA: Sajal Ghosh বা বরানগরের জনপ্রিয় বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বৃহস্পতিবার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল বা সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত হয়ে ক্রীড়া প্রশাসনে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি নিয়ে এক অত্যন্ত জোরালো বার্তা দিলেন। বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সদ্য জয়লাভ করে মানুষের বিপুল আশীর্বাদ পেয়েছেন তিনি। আর তাঁর এলাকার ঐতিহ্যবাহী বরানগর ক্লাবও গভীরভাবে বিশ্বাস করে যে, স্থানীয় ক্রিকেট পরিকাঠামোকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর মতো একজন সক্রিয় জনপ্রতিনিধিকে ক্রীড়া প্রশাসনে ভীষণভাবে প্রয়োজন রয়েছে। মূলত স্থানীয় ক্লাবের সেই অগাধ ভরসা এবং আস্থাকে সঙ্গী করেই বৃহস্পতিবার সিএবির এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম-এ ক্লাবের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বর্তমান রাজ্য সরকারের নতুন নীতির আবহে সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেই ক্রীড়াক্ষেত্রকে রাজনীতিমুক্ত করার একটি অত্যন্ত চর্চিত ইস্যু উঠে আসে। সেই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে কোনো রকম রাখঢাক না করে একেবারে স্ট্রেট ব্যাটে সপাট জবাব দিলেন তিনি। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন যে, কেউ রাজনীতি করলে কি তাঁর খেলার প্রতি ভালোবাসা থাকতে নেই?

Ad

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ একাধিকবার প্রকাশ্যে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন যে, বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রকে যেকোনো মূল্যে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত করতে হবে। রাজ্যের এই নতুন নীতির আবহে একজন বিজেপি বিধায়কের সিএবির মতো শীর্ষ ক্রীড়া সংগঠনের প্রশাসনিক সভায় উপস্থিতি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই একটি মেগা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে সাংবাদিকদের তরফ থেকে প্রশ্ন করা হলে সজল ঘোষ অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে কিন্তু দৃঢ় ভাষায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন। তিনি বলেন, “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন রাজনীতির কেউ খেলায় আসবেন না। তিনি যদি বলেন, তাহলে প্রাক্তন ক্রিকেটার, ক্রিকেটপ্রেমী, সংগঠকরা রয়েছেন তাঁরা আসবেন। সিএবি ভালোভাবে চলবে।” অর্থাৎ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান যদি তাঁকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন, তবে তিনি বিনা বাক্যব্যয়ে সিএবি থেকে সরে যেতে এক মুহূর্তও দ্বিধা করবেন না বলে এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Milan Pradhan: কোন আইনে রক্ষাকবচ? সিঙ্গল বেঞ্চকে তুলোধোনা করে মিলন প্রধানের আর্জি খারিজ প্রধান বিচারপতির 

তবে এই উত্তরের পরেই সাংবাদিকদের তরফ থেকে পালটা একটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক এবং তীক্ষ্ণ প্রশ্ন উড়ে আসে। অতীতে বিজেপির তরফ থেকেই বারবার বলা হয়েছিল যে, দলের কোনো বিধায়ক বা প্রথম সারির নেতাদের ক্রীড়া প্রশাসনে আর দেখা যাবে না। তাহলে সিএবির এই বার্ষিক সাধারণ সভায় তাঁর মতো একজন প্রথম সারির রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে দেখা গেল কী করে? এই প্রশ্নের উত্তরে সজল ঘোষ খানিকটা অভিমানী সুরেই জবাব দেন। তিনি বলেন, “দেখুন, আমার এলাকার ক্লাব আমাকে প্রতিনিধি হিসাবে পাঠিয়েছে। আমার কেন্দ্রেরই ক্লাব। কাল যদি আমাকে বলেন তাহলে আমি ছেড়েও দিতে পারি।” এরপর তিনি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত রূঢ় বাস্তবকে তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, “আচ্ছা সবসময় রাজনীতিবিদরাই কেন সফট টার্গেট? এখানে তো সাংবাদিক, পুলিশ, সরকারি আধিকারিক সকলেই রয়েছেন। আপনারা দেখুন, আমি এখানে রাজনীতি করি কিনা।” তাঁর মতে, স্থানীয় ক্লাব যদি মনে করে যে একজন বিধায়ককে পাঠালে ক্রিকেটের সার্বিক উন্নতি হবে, তাহলে তার পেছনে নিশ্চয়ই কোনো ইতিবাচক কারণ রয়েছে এবং সেখানে অহেতুক রাজনীতি খোঁজা অর্থহীন।

Advertisement Andaman Vibes

সাম্প্রতিক অতীতে বাংলার এই শীর্ষ ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থাকে ঘিরে নানা ধরনের বিতর্কের ঝড় বয়ে গিয়েছে, যা বাংলার ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকে অনেকটাই কালিমালিপ্ত করেছে। বিশেষ করে বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের বয়স ভাঁড়ানো থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূতভাবে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন লাভজনক প্রশাসনিক পদ আঁকড়ে বসে থাকার মতো প্রচুর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে এই প্রথমবার সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়া সজল ঘোষ সেই সমস্ত অতীত বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো রকম মন্তব্য করতে চাননি। তিনি মূলত ভবিষ্যৎ এবং বাংলার ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নের দিকেই নিজের নজর নিবদ্ধ রেখেছেন। সিএবির বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং সেই সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত পরিপক্ব রাজনীতিবিদের মতোই জবাব দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সংগঠনের যা নির্দিষ্ট নিয়মকানুন রয়েছে, সেই সমস্ত নিয়ম মেনেই যাবতীয় প্রশাসনিক কাজকর্ম পরিচালিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এবারের নির্বাচনে বিরোধী শিবিরের কেউ নমিনেশন বা মনোনয়ন জমা দেয়নি, আর ঠিক সেই কারণেই ভোটাভুটির কোনো প্রয়োজন হয়নি।

আরও পড়ুন: Umesh Rai: আইএএস অফিসারের পারিবারিক বিবাদে বিজেপি নেতার দাদাগিরি! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শোরগোল 

সমস্ত বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এদিন সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় সজল ঘোষ একটি অত্যন্ত গঠনমূলক এবং ঐতিহাসিক প্রস্তাব রেখেছেন, যা সভায় উপস্থিত সকলের বিশেষ নজর কেড়েছে। আগামী ২০২৮ সালে বাংলার ক্রিকেটের এই সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা তার গৌরবময় শতবর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলকটিকে স্মরণীয় করে রাখতে তিনি এখন থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেছেন। বিধায়ক সজল ঘোষ এদিন সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছেন যে, আগামী বছর থেকেই সিএবির এই শতবর্ষ উদযাপনের প্রস্তুতি এবং অনুষ্ঠান শুরু করে দেওয়া উচিত। তাঁর এই অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আবেগময় প্রস্তাবটি সভায় সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। সিএবির বর্তমান সভাপতি এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন কিংবদন্তি অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় স্বয়ং এই প্রস্তাব হাসিমুখে মেনে নিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। রাজনীতি এবং খেলার এই অদ্ভুত মেলবন্ধনে আগামী দিনে বাংলার ক্রিকেট প্রশাসন ঠিক কোন পথে এগোয় এবং সজল ঘোষ সেখানে কতটা সদর্থক ভূমিকা পালন করেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Advertisement

Mustakin Baidya
Mustakin Baidya
ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট ও ডিজিটাল কনটেন্ট বিভাগে নিউজ, ভিডিও ও ছবি আপলোড, প্রকাশনা এবং ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img