Umesh Rai: মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ছেলের বান্ধবীর বাড়িতে গুন্ডা পাঠানোর অভিযোগ বিজেপি নেতা উমেশ রায়ের বিরুদ্ধে
VIKASH VYAS, KOLKATA: Umesh Rai বা হাওড়া জেলার প্রভাবশালী বিজেপি নেতা উমেশ রায়ের বিরুদ্ধে এবার এক মারাত্মক এবং নজিরবিহীন অভিযোগ সামনে এল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও বার্তায় এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন খোদ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নীলম মীনার ছেলে অনীশ রায়। এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো এক বিরাট শোরগোল পড়ে গিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, রাজ্যের এক শীর্ষ আইএএস (IAS) আধিকারিকের ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক বিবাদ মেটাতে সরাসরি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছেন এই বিজেপি নেতা। নীলম মীনার নির্দেশ পেয়ে উমেশ রায় নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এক সাধারণ পরিবারের ওপর চূড়ান্ত দাদাগিরি করেছেন বলে ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে। একজন শীর্ষ আমলার সঙ্গে বিরোধী দলের একজন প্রভাবশালী নেতার এমন আঁতাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে অনীশ রায় বিস্তারিতভাবে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, তাঁর লাভিকা নামে একজন ঘনিষ্ঠ বান্ধবী রয়েছে, যাঁর সঙ্গে তিনি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নিয়মিত একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন। অনীশের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমদিকে লাভিকা তাঁদের বাড়িতে আসত, কিন্তু তাঁর মা নীলম মীনা এতে তীব্র আপত্তি জানান এবং লাভিকাকে তাঁদের বাড়িতে আসতে কড়াভাবে নিষেধ করেন। মায়ের সেই কথা পুরোপুরি মেনে নিয়ে অনীশ এরপর তাঁর বান্ধবীর সঙ্গে বাইরে বা বাসে যাতায়াত করে দেখা করতে শুরু করেন এবং লাভিকাদের বাড়িতে বসেই পড়াশোনা চালিয়ে যান। কিন্তু অনীশের দাবি, সমস্যা মেটার বদলে এরপর আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। ২১ বছর বয়সী একজন প্রাপ্তবয়স্ক যুবক হওয়া সত্ত্বেও, তাঁর মা এরপর তাঁর বান্ধবীর পরিবারের ওপর সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। আর এই কাজেই তিনি সরাসরি ব্যবহার করেন বিজেপি নেতা উমেশ রায়কে।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এবং উদ্বেগের বিষয়টি হলো উমেশ রায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং দাদাগিরির অভিযোগ। অনীশ রায় তাঁর ভিডিও বার্তায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, তাঁর মা হাওড়া জেলার এই বিজেপি মন্ত্রীর সাহায্য নিয়েছেন। অনীশের বিস্ফোরক অভিযোগ, ওই বিজেপি নেতা উমেশ রায়ের মদতে এবং নির্দেশে কোনো কারণ ছাড়াই লাভিকার বাড়িতে রাজনৈতিক কর্মী এবং গুন্ডা পাঠানো হয়েছিল। তারা সেখানে গিয়ে লাভিকার সাধারণ পরিবারকে চরম হুমকি দেয়, যাতে অনীশ আর কোনোদিন ওই বাড়িতে পা না রাখে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে পুলিশের তরফ থেকেও ওই বাড়িতে গিয়ে চূড়ান্ত মানসিক চাপ তৈরি করা হয় বলে অনীশ অভিযোগ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের মতো একটি চরম নিরপেক্ষ পদে বসে একজন আমলা কীভাবে উমেশ রায়ের মতো একজন নির্দিষ্ট রাজনৈতিক নেতার সাহায্য নিয়ে সাধারণ মানুষকে হুমকি দিতে পারেন, তা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

অনীশ অত্যন্ত আক্ষেপ এবং হতাশার সঙ্গে তাঁর ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন যে, গত প্রায় কুড়ি দিন ধরে তাঁর মা বাড়ি থেকে কার্যত নিখোঁজ রয়েছেন এবং ছেলের সঙ্গে সরাসরি কোনো কথাই বলছেন না। ছেলে নিজে থেকে বারবার ফোন করার চেষ্টা করলেও তিনি কোনো উত্তর দিচ্ছেন না, বরং উমেশ রায়ের মতো রাজনৈতিক নেতাদের দিয়ে বান্ধবীর বাড়িতে লোক পাঠাচ্ছেন। অনীশের কথায়, একজন আইএএস অফিসারের মূল কাজ হলো দেশের মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, কিন্তু তাঁর মা সেই বিশাল ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যক্তিগত বিষয়ে রাজনৈতিক দাদাগিরি চালাচ্ছেন। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে বিনীত আবেদন জানিয়েছেন, যাতে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সকলে সরব হন এবং ভিডিওটি বেশি করে শেয়ার করে আসল সত্যিটা সকলের সামনে তুলে ধরেন। রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার এই ভয়ংকর মিশ্রণে একটি সাধারণ পরিবার যে কতটা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে, তা অনীশের কথায় বারবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এই গোটা বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বতন টুইটার) অভিষেক নামের এক ব্যবহারকারী পোস্ট করার পর তা আরও বেশি করে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে এবং অনেকেই উমেশ রায়ের দাদাগিরি নিয়ে সরব হয়েছেন। একদিকে যেমন রাজ্যের এক শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে এক বিজেপি নেতার এই পারিবারিক বিবাদে নাক গলানোর বিষয়টিও চরম রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা উমেশ রায় বা নীলম মীনার তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি দেওয়া হয়নি। মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও এখনও পর্যন্ত এর কোনো আনুষ্ঠানিক উল্লেখ মেলেনি (তথ্য নেই), তাই পুরো খবরটিই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর ওপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হচ্ছে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা প্রমাণ হলে উমেশ রায় এবং ওই আইএএস আধিকারিক যে বড়সড় প্রশাসনিক ও আইনি জাঁতাকলে পড়বেন, তা বলাই বাহুল্য।




