Deepak Bapari: দেশবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে এনআইএ-র হাতে গ্রে*প্তার ইউটিউবার!
KOLKATA: Deepak Bapari বা কলকাতার এক চর্চিত ইউটিউবার এবার দেশবিরোধী কার্যকলাপের মারাত্মক অভিযোগে সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)-এর জালে ধরা পড়লেন। সোমবার বিকেলে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে এই বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া প্রভাবশলীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রে*প্তার করা হয়েছে বলে এনআইএ সূত্রে মেগা খবর সামনে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য পুলিশের খাতায় তিনি পলাতক ছিলেন এবং তাঁকে হন্যে হয়ে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজা হচ্ছিল। কিন্তু কিছুতেই তাঁর টিকি ছুঁতে পারছিল না প্রশাসন। পরবর্তীতে এই স্পর্শকাতর মামলার তদন্তভার সরাসরি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং অবশেষে এই মেগা সাফল্য মেলে। এই হাই-প্রোফাইল গ্রে*প্তারির খবর প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে নেটমাধ্যমে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

সাধারণ মানুষের কাছে তিনি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেই বেশি পরিচিত ছিলেন। ফেসবুক এবং ইউটিউবে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সমসাময়িক বিষয় নিয়ে অত্যন্ত তীক্ষ্ণ, আক্রমণাত্মক এবং বিতর্কিত বক্তব্য রাখার জন্য তাঁর চ্যানেলে যথেষ্ট ভিউজ আসত। কিন্তু তাঁর বেশ কিছু ভিডিও এবং উস্কানিমূলক পোস্ট নিয়ে অতীতেও নানা মহলে চরম আপত্তি উঠেছিল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সম্প্রতি তাঁর বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম এবং মন্তব্য দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করা হচ্ছিল। সেই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সূত্র ধরেই এনআইএ-এর কড়া রাডারে আসেন এই ব্যক্তি এবং তাঁর বিরুদ্ধে এই চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

আরও পড়ুন: SRFTI: ক্যাম্পাসে বহিরাগত তাণ্ডব! ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ঋত্বিক, টলিউডের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন ঊষসীর
দীর্ঘদিন ধরে নিজের পরিচয় গোপন করে এবং গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর অবশেষে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের নিখুঁত ছকের কাছে হার মানতে বাধ্য হন তিনি। এনআইএ-এর একটি বিশেষ দল গোপন সূত্রে তাঁর লুকিয়ে থাকার নির্দিষ্ট খবর পেয়ে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর এলাকায় মেগা অভিযান চালায়। সেখান থেকেই তাঁকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে প্রথমে আটক করা হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রে*প্তার দেখানো হয়। তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় নিয়ে এসে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দুঁদে আধিকারিকরা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ বিগত কয়েক মাস ধরে দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং গুপ্তচরবৃত্তি রুখতে রাজ্যজুড়ে অত্যন্ত কড়া নজরদারি চালাচ্ছে এবং একের পর এক মেগা অভিযান পরিচালনা করছে। এর আগে গত মে মাসেও খাস কলকাতা থেকে জাফর রিয়াজ নামক এক ব্যক্তিকে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং ভারত বিরোধী নানা মারাত্মক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রে*প্তার করেছিল তারা। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে থেকেই এনআইএ-এর তরফ থেকে লুকআউট নোটিস জারি করা ছিল। তদন্তে উঠে আসে যে, ওই অভিযুক্তের স্ত্রী এবং সন্তান দু’জনেই আদতে পাকিস্তানের নাগরিক এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন: Hindustan Motors: হিন্দমোটরে ফের শিল্পের সম্ভাবনা! বন্ধ কারখানার জমিতেই তৈরি হবে বৈদ্যুতিক গাড়ি
গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে সেই সময় আরও জানা গিয়েছিল যে, মে মাসে ধৃত ওই ব্যক্তি এর আগেও ২০০৫ সালে একই রকম পাক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল এবং জেল খেটেছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খাস কলকাতার এক ইউটিউবারের এহেন চাঞ্চল্যকর গ্রে*প্তারি নিঃসন্দেহে রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে মেগা প্রশ্ন তুলে দিল। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে কীভাবে দেশবিরোধী উস্কানি ছড়ানো হচ্ছিল, এখন তারই শেকড়ে পৌঁছাতে চাইছেন গোয়েন্দারা। আগামী দিনে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই বৃহত্তর চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছে, সেই সংক্রান্ত আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।




