Arabian Sea Drug Bust: তিন হাজার কোটির মাদক-সহ ধৃত পাঁচ পাকিস্তানি! মাঝসমুদ্রে এক বিরাট ছক বানচাল
Arabian Sea Drug Bust: দেশের সুরক্ষা বলয় ভেঙে মাদকের বিষ ছড়িয়ে দেওয়ার এক বিরাট ষড়যন্ত্র একেবারে মাঝসমুদ্রে রুখে দিল ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লাক্ষাদ্বীপের পশ্চিম দিকের বিস্তীর্ণ জলরাশিতে এক অভাবনীয় ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে পাহাড়প্রমাণ মাদক উদ্ধার করেছে ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড। এই অতি-গোপন মিশনে উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাত শক্ত করেছিল গুজরাট এটিএস। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও এই অপারেশনে যুক্ত ছিল। রাতের অন্ধকারে জলপথে একটি সন্দেহভাজন ইরানি নৌকা ভারতের দিকে ধেয়ে আসছিল। সঠিক সময়ে খবর পেয়ে সেই নৌকাটিকেই রুখে দেন জওয়ানরা। এই নজিরবিহীন অভিযানে উদ্ধার হয়েছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেআইনি মাদকদ্রব্য। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ফেলার যে নীল-নকশা তৈরি হয়েছিল, তা এই এক আঘাতেই গুঁড়িয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে সামুদ্রিক সীমানায় ভারতের নজরদারি যে কতটা অভেদ্য, সেটাও আরও একবার স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো।

এই রোমহর্ষক Arabian Sea Drug Bust কোনো হঠাৎ পাওয়া সাফল্য নয়। এর নেপথ্যে ছিল সুদীর্ঘ ও নিখুঁত এক পরিকল্পনা। গোয়েন্দা দপ্তরের কাছে আগেই খবর ছিল যে, সমুদ্রপথ ব্যবহার করে ভারতে বিপুল মাদকের চালান ঢুকতে পারে। সেই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আরব সাগরের বুকে কার্যত অদৃশ্য জাল বিছিয়েছিলেন কোস্ট গার্ডের দুঁদে আধিকারিকরা। রাডার এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে ওই ইরানি পালতোলা জলযান বা ধৌ-টির গতিপথের ওপর প্রতি মুহূর্তে কড়া নজর রাখা হচ্ছিল। দীর্ঘক্ষণ ধরে অত্যন্ত সন্তর্পণে ওই সন্দেহজনক নৌকোটিকে অনুসরণ করা হয়। এরপর সঠিক সুযোগ বুঝে কোস্ট গার্ডের জাহাজ সেটিকে ধাওয়া করতে শুরু করে। মাঝসমুদ্রে পালানোর সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে একেবারে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলা হয় ওই নৌকোটিকে। এরপর অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং নিখুঁত কৌশলে সেই জলযানে ওঠেন সশস্ত্র জওয়ানরা। শুরু হয় তন্নতন্ন করে তল্লাশি।

আরও পড়ুন: Budgam Encounter: কাশ্মীরে বাহিনীর বিরাট সাফল্য! খতম কুখ্যাত লস্কর জঙ্গি, রইল ৫ টি আপডেট
তল্লাশি অভিযান শুরু হতেই ওই নৌকোর ভেতরের গোপন কুঠুরি থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক চমক। জওয়ানরা দেখেন, নৌকোর পাটাতনের নিচে অত্যন্ত সন্তর্পণে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বস্তা বস্তা মাদক। উচ্চমানের হেরোইন এবং মেথামফেটামিনের মতো সাঙ্ঘাতিক সব নেশার দ্রব্য সেখানে মজুত ছিল। ওজন করার পর দেখা যায়, সব মিলিয়ে মোট পাঁচশো ছাব্বিশ কেজি মাদক পাচারের চেষ্টা চলছিল। তবে সবচেয়ে বড় বিপদ লুকিয়ে ছিল নৌকোর যাত্রীদের পরিচয়ের মধ্যে। এই চাঞ্চল্যকর Arabian Sea Drug Bust-এ জলযানটি থেকে মোট পাঁচজন পাচারকারীকে হাতেনাতে পাকড়াও করেছে বাহিনী। প্রাথমিক জেরা এবং পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখার পর জানা যায় যে, ধৃত ওই পাঁচজন ব্যক্তি আসলে পাকিস্তানের নাগরিক। ভারতের জলসীমায় ইরানি নৌকো ব্যবহার করে পাকিস্তানিদের এই অবাধ বিচরণ জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বিরাট বড় অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ধৃত পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে ইতিমধ্যেই কড়া পাহারায় মুম্বইয়ের উপকূলে নিয়ে আসা হয়েছে। এই ঘটনার পর তদন্তের রাশ নিজেদের হাতে তুলে নিচ্ছে একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই বিপুল পরিমাণ মাদকের উৎস ঠিক কোথায় তা জানার চেষ্টা চলছে। ভারতের ঠিক কোন কোন রাজ্যে এগুলো সরবরাহ করার কথা ছিল, তা জানতে ধৃতদের দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ হলো ‘নার্কো-টেররিজম’ বা মাদক-সন্ত্রাস। তিন হাজার কোটি টাকার এই মাদক বিক্রি করে যে বিপুল অর্থ উপার্জন হতো, তা দেশের জন্য চিন্তার। সেই কালো টাকা ভারতের মাটিতে কোনো বড়সড় নাশকতার কাজে ব্যবহারের ছক ছিল কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই Arabian Sea Drug Bust-এর মাধ্যমে আসলে কোনো আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হলো কি না, সেই রহস্য উন্মোচন করতেই এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী আধিকারিকরা।

এমন একটি দুর্দান্ত সাফল্যের পর ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা এক কড়া বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দেশের সমুদ্রপথকে কোনোভাবেই অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য হতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক স্তরের এই মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বাহিনীর শূন্য সহনশীলতা নীতি আগামী দিনে আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। সরকারের ‘মাদকমুক্ত ভারত’ গড়ার স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে নিরন্তর সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। Arabian Sea Drug Bust-এর এই ঘটনা আসলে ভারত বিরোধী শক্তিগুলির প্রতি একটি কড়া হুঁশিয়ারি। আগামী দিনে আরব সাগর কিংবা ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এই ধরনের কড়া নজরদারি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের মরণ-কামড় থেকে বাঁচাতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা অটুট রাখতে উপকূলরক্ষী বাহিনী যে সর্বদা প্রস্তুত, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।




