INDIA Alliance Meeting: দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক! সোনিয়া-রাহুলকে পাশে পেয়ে সুর চড়ালেন মমতা
INDIA Alliance Meeting: রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার জাতীয় স্তরে বিরোধী দলগুলির ঐক্যবদ্ধ মঞ্চ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার দেশের রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই মেগা বৈঠকে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে পাশে নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন তিনি। মূলত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের দ্রুত পদত্যাগের দাবিতেই এই বিশেষ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের একাধিক বিরোধী দলের শীর্ষ প্রতিনিধিরা এই দিন এক ছাতার তলায় এসে আগামী দিনের বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করেছেন। রাজ্যের হার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে জাতীয় স্তরে কীভাবে শাসকদলের বিরুদ্ধে আরও সুসংগঠিতভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ও দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে এই হাইভোল্টেজ বৈঠকে।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর জোটের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে একটি বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলন করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দেশবাসীর সামনে জানিয়ে দেন যে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সমস্ত বিরোধী দলগুলি একেবারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই দিনের বৈঠকে রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উভয়েই আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বলে কংগ্রেস সভাপতি জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আঞ্চলিক দলগুলির প্রতিনিধিরাও নিজেদের মতামত স্বাধীনভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং সেই সমস্ত মতামতের ভিত্তিতেই সর্বসম্মতভাবে একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিবাদ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত সাম্প্রতিক ভোট প্রক্রিয়ায় যে ব্যাপক কারচুপির গুরুতর অভিযোগ বিরোধীরা তুলছে, তার প্রতিবাদেই এই সমস্ত দেশব্যাপী কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সাংবাদিক সম্মেলন থেকে আগামী দিনের জন্য মোট ছয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ধারাবাহিক কর্মসূচির কথা বিস্তারিতভাবে ঘোষণা করেন খাড়গে। প্রথমত, আগামী দুই থেকে আটই অক্টোবর পর্যন্ত দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ যাত্রার আয়োজন করবে ইন্ডিয়া জোট। এই যাত্রার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচনী অনিয়মের কথা তুলে ধরা হবে। দ্বিতীয়ত, আগামী ছয়ই অক্টোবর বিরোধী দলের সমস্ত সংসদ সদস্য একসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের উদ্দেশে একটি বিরাট পদযাত্রা করবেন। খাড়গে জানান যে, বুধবারই এই কর্মসূচি পালনের কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সমস্ত সাংসদকে একই দিনে একত্রিত করার সুবিধার জন্যই দিনক্ষণ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, দেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার জন্য বিরোধী দলনেতা দ্রুত সময় চাইবেন বলেও এই মঞ্চ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি আরও বেশ কিছু বড় রাজনৈতিক জনসভার কথা ঘোষণা করা হয়েছে এই যৌথ মঞ্চ থেকে। স্থির হয়েছে যে, আগামী অক্টোবর এবং নভেম্বর মাস জুড়ে সারা দেশে মোট পাঁচটি বিশাল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করবে ইন্ডিয়া জোট। এই সভাগুলির মাধ্যমে দেশব্যাপী জনমত গঠন করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া আগামী নভেম্বর মাসে খোদ দিল্লিতে একটি মেগা সমাবেশের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যেখানে দেশের সমস্ত প্রান্ত থেকে বিরোধী নেতা-কর্মীরা বিশাল সংখ্যায় জমায়েত হবেন। মল্লিকার্জুন খাড়গের এই ঘোষণার ঠিক পরেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রসঙ্গ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান এবং আগামী দিনের লড়াইয়ে দেশের সমস্ত বিরোধী শক্তিকে সম্পূর্ণ জোটবদ্ধ থাকার কড়া বার্তা দেন।

অন্যদিকে, দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের এই মেগা বৈঠক এবং তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উজ্জ্বল উপস্থিতি নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধী জোটের এই তৎপরতাকে তিনি কার্যত গুরুত্ব দিতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন যে, রাজ্যে হারের পরেও উনি এখন জাতীয় স্তরে মূল মন্ত্রণাদাতা হওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। শুভেন্দু অধিকারীর আরও অভিযোগ, এক হাতে একটি নির্দিষ্ট কট্টরপন্থী গোষ্ঠী বা জামাত এবং অন্য হাতে নকশালপন্থী মানসিকতার মানুষদের নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে দিল্লির এই মেগা বৈঠককে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন বিরোধীরা নিজেদের ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে, তেমনই অন্যদিকে শাসকদলের এই তীব্র কটাক্ষ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের মাত্রা যোগ করেছে।




