Nandigram By-Election: ‘ভেবেছিলাম এনকাউন্টার করে দেবে!’ জেল থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক কংগ্রেস প্রার্থী মিলন

Published:

Nandigram By-Election: ‘ভেবেছিলাম এনকাউন্টার করে দেবে!’ জেল থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক কংগ্রেস প্রার্থী মিলন

Nandigram By-Election: রাজ্য রাজনীতির এপিসেন্টার হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ চড়ছে। আর এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এক অত্যন্ত নাটকীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেল। আইনি লড়াইয়ের প্রথম ধাপে জয়ী হয়ে অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পেলেন নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া উপ-সংশোধনাগার থেকে তিনি বাইরে পা রাখেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে জেলের বাইরে আগে থেকেই ভিড় জমিয়েছিলেন প্রচুর কংগ্রেস কর্মী এবং সমর্থকরা। উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দলের প্রার্থীর এইভাবে কারাবন্দি থাকা কংগ্রেস শিবিরের জন্য এক বিরাট বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বুধবার তিনি যখন মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিতে বেরিয়ে আসেন, তখন তাঁকে মালা পরিয়ে এবং দলীয় স্লোগান তুলে এক উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। তবে জেলের বাইরে পা রেখেই তিনি প্রশাসন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে যে ধরনের মারাত্মক সব অভিযোগ তুলেছেন, তা রাজ্য রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই এক নতুন বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

Advertisement Andaman Vibes

হলদিয়া উপ-সংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে স্বভাবতই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিলন। তিনি অত্যন্ত তীব্র ভাষায় পুলিশি হেনস্থার বর্ণনা দেন। কংগ্রেস প্রার্থী দাবি করেন যে, তাঁকে যখন গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন তাঁর চোখে গামছা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই মুহূর্তের চরম আতঙ্কের কথা তুলে ধরে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “চোখে গামছা বেঁধে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম আমাকে হয়তো এনকাউন্টার করে দেবে।” শুধু এনকাউন্টারের ভয় দেখানোই নয়, তিনি আরও দাবি করেন যে, নির্বাচনের ময়দান থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে ক্রমাগত মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এমনকী নন্দীগ্রামের মতো হাইভোল্টেজ উপনির্বাচন থেকে তাঁর মনোনয়নপত্র যাতে তিনি প্রত্যাহার করে নেন, তার জন্যও তাঁকে জেলের ভেতর রীতিমতো চাপ দেওয়া হতো বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। তাঁর এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে এবং বিরোধী দলগুলি শাসকদলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে।

Indranil Sen: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি মোহরে ইডি তল্লাশি
Indranil Sen: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি মোহরে ইডি তল্লাশি।

আরও পড়ুনঃ Indranil Sen: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোয় দুর্নীতি! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের একাধিক ঠিকানায় ইডি হানা।

মিলন প্রধানের এই বহু প্রতীক্ষিত মুক্তির নেপথ্যে রয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক আইনি নির্দেশ। নন্দীগ্রামের আসন্ন উপনির্বাচনে যাতে তিনি একজন বৈধ প্রার্থী হিসেবে স্বাধীনভাবে নিজের প্রচার চালাতে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন, সেই কারণেই মহামান্য আদালত তাঁকে এই ছাড়পত্র প্রদান করেছে। গত মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কংগ্রেস প্রার্থীর আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য জেল থেকে মুক্তির নির্দেশ দেন। তবে এই মুক্তির সঙ্গে আদালত একটি নির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত কড়া শর্তও জুড়ে দিয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ভোট পর্ব সম্পূর্ণভাবে মিটে যাওয়ার পর তাঁকে পুনরায় আত্মসমর্পণ করতে হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীর অধিকার সুনিশ্চিত করার স্বার্থেই তাঁকে এই অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্টের এই রায় একদিকে যেমন কংগ্রেস নেতা কর্মীদের জন্য এক বিরাট স্বস্তির খবর, তেমনই অন্যদিকে এটি রাজ্য প্রশাসনের জন্য একটি বড়সড় ধাক্কা।

Advertisement Burger4u

তবে রাজ্য সরকারও এই আইনি লড়াই এত সহজে ছেড়ে দিতে নারাজ। কলকাতা হাইকোর্ট কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে যে অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেছে, সেই রায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করে ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতে এই জামিনের নির্দেশ দ্রুত খারিজ করার জন্য রাজ্যের তরফ থেকে জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী পাঁচই অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টে এই বহুচর্চিত মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শীর্ষ আদালতের মামলার ফলাফলের ওপর নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে। রাজ্য সরকার চাইছে যে কোনো মূল্যে হাইকোর্টের দেওয়া এই জামিনের নির্দেশের ওপর দ্রুত স্থগিতাদেশ আনতে। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগে আগে এমন একটি হাই-প্রোফাইল মামলার আইনি লড়াইকে কেন্দ্র করে কলকাতা থেকে দিল্লি পর্যন্ত এখন ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

Jio Prepaid Plan: রিলায়েন্স জিও-র নতুন প্রিপেইড প্ল্যানে বিনামূল্যে জেমিনি প্রো ও ক্যানভা লাইট
Jio Prepaid Plan: রিলায়েন্স জিও-র নতুন প্রিপেইড প্ল্যানে বিনামূল্যে জেমিনি প্রো ও ক্যানভা লাইট।

আরও পড়ুনঃ Jio Prepaid Plan: জিও-র এক রিচার্জেই বাজিমাত! নিখরচায় মিলবে ১৮ মাস জেমিনি প্রো ও ক্যানভা।

সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার অত্যন্ত জরুরি শুনানির জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হয়েছিল। রাজ্যের হয়ে দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি আদালতের কাছে যুক্তি দেন যে, আগামী ছয়ই অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তাই পাঁচই অক্টোবর যদি এই মামলার শুনানি হয়, তবে মামলা দায়ের করার যে মূল উদ্দেশ্য, সেটাই কার্যত ব্যর্থ হয়ে যাবে। এই যুক্তিতে তিনি কালবিলম্ব না করে আগামীকালই অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানান। কিন্তু প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের সেই জরুরি শুনানির আর্জি সরাসরি খারিজ করে দেয়। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত কংগ্রেস প্রার্থীর প্রচারে নামার ক্ষেত্রে আর কোনো বড় আইনি বাধা রইল না। তবে আগামী পাঁচই অক্টোবরের শুনানিতে কী রায় আসে এবং ছয়ই অক্টোবরের নির্বাচনে নন্দীগ্রামের মানুষ শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র রাজনৈতিক মহল।

Ad

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img