Indranil Sen: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোয় দুর্নীতি! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীলের একাধিক ঠিকানায় ইডি হানা
Indranil Sen: প্রাক্তন মন্ত্রী, তৃণমূল নেতা তথা জনপ্রিয় গায়ক ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক ঠিকানায় সাতসকালে আচমকা হানা দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এদিন সকাল থেকেই কলকাতার কসবা, হাইল্যান্ড পার্ক, হিন্দুস্তান পার্কের পাশাপাশি হুগলির সিঙ্গুরে তাঁর বিলাসবহুল বাগানবাড়িতে একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ-শো ঘিরে বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেন এবং দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তেই ইডি-র এই আকস্মিক হানা বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠদের কয়েকটি ঠিকানাতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এই ঘটনার জেরে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার চরম শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

ইডি সূত্রের খবর, এই তল্লাশি অভিযানের মূল ভিত্তি হলো দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে ঘটা একটি বিশাল আর্থিক দুর্নীতি। অভিযোগ উঠেছে, ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোয় প্রিভিউ-শোয়ের টিকিট বিক্রির নামে কোটি কোটি টাকার নয়ছয় করা হয়েছে। সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় গেল এবং এর নেপথ্যে আর কাদের যোগসাজশ রয়েছে, তা জানতেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই চক্রের সঙ্গে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সরাসরি যোগ রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন মন্ত্রীর একাধিক সম্পত্তির হিসেবনিকেশ এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখতে এই জোরদার অভিযান চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: Jio Prepaid Plan: জিও-র এক রিচার্জেই বাজিমাত! নিখরচায় মিলবে ১৮ মাস জেমিনি প্রো ও ক্যানভা
কলকাতার পাশাপাশি ইডি আধিকারিকরা এদিন হুগলির সিঙ্গুরের বাগডাঙা ছিনামোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ছুটিপুর এলাকায় পৌঁছন। সেখানে চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল সেনের ‘মোহর’ নামক একটি বিশাল বাগানবাড়ি রয়েছে। কয়েক বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই বিলাসবহুল বাগানবাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে চিরুনি তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান এবং তদন্তকারীরা। আর ভেতরে যখন তল্লাশি চলছে, ঠিক তখনই এই বাগানবাড়ির বাইরে প্রবল ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা এবং এলাকার কৃষক সমাজ, যাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মূল অভিযোগ, পঞ্চায়েতের কোনো রকম আইনি অনুমতি ছাড়াই শুধুমাত্র ক্ষমতার দম্ভে এই বিশাল বাগানবাড়ি তৈরি করেছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী। নিজের বাড়ির চারপাশ উঁচু পাঁচিল দিয়ে ঘিরলেও প্রতিবেশী সাধারণ মানুষের জন্য কোনো নিকাশি নালার ব্যবস্থা তিনি করেননি। এর ফলে দশ বিঘা জমির ফসল সম্পূর্ণ জলে ডুবে নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন মান্নালাল ঘোষ নামের এক স্থানীয় কৃষক। অন্যদিকে, বিজেপির সিঙ্গুর মণ্ডলের সভাপতি উজ্জ্বল খামারু দাবি করেন, এই জমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণে বিশাল দুর্নীতি হয়েছে এবং এর পেছনে ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি বেচারাম মান্না ও স্থানীয় প্রাক্তন উপপ্রধানও সরাসরি যুক্ত।

আরও পড়ুনঃ Baba Vanga Rashifal: বাবা ভাঙ্গার মেগা ভবিষ্যৎবাণী! আজ কোন রাশির চরম সৌভাগ্য আর কাদের পদে পদে বিপদ?
এই চরম টানাপোড়েন এবং ইডি তল্লাশির বিষয়ে মুখ খুলেছেন চন্দননগরের বর্তমান বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। তিনি প্রাক্তন মন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, দুর্নীতির মূল চক্রী বা ‘কিংপিন’-এর ডেরাতেই এখন ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এই সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে। মোহর বাগানবাড়িকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি হয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি কড়া বার্তা দেন যে, যারা যেখানে দুর্নীতি করেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে কেউই পার পাবেন না এবং প্রত্যেককেই তাঁদের উচিত শাস্তি মাথা পেতে নিতে হবে।




