Supreme Court on Firecrackers: ধর্মীয় ভাবাবেগ ও পরিবেশ দুটোরই গুরুত্ব! বাজি পোড়ানোয় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়
Supreme Court on Firecrackers: উৎসবের মরশুম মানেই আলো এবং আনন্দের রোশনাই। আর এই আনন্দ উদযাপনের অন্যতম প্রধান অঙ্গ হলো বাজি ফাটানো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পরিবেশ দূষণের কারণে বাজি ফাটানোর ওপর কড়া নিয়মকানুন জারি করা হয়েছে। এবার আসন্ন দুর্গাপুজো এবং দীপাবলি উপলক্ষে বাজি ফাটানো নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানাল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, উৎসবের দিনগুলোতে বাজি পোড়ানোর ওপর কোনোভাবেই সম্পূর্ণ বা সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে না। আদালতের মতে, পরিবেশ রক্ষা করা যেমন একটি অত্যন্ত জরুরি বিষয়, ঠিক তেমনই দেশের সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগ এবং ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই দুইয়ের মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে মধ্যপন্থা অবলম্বন করার কথা ভাবছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই খবর প্রকাশ্যে আসার পর উৎসবপ্রেমী সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক খুশির হাওয়া দেখা গিয়েছে।

এদিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি ভারালের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি চলছিল। শুনানিপর্ব চলাকালীন দুই বিচারপতির বেঞ্চ মৌখিকভাবে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে। বেঞ্চের মতে, উৎসবের দিনগুলোতে বাজি ফাটানোর ওপর যদি পুরোপুরি বা সার্বিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে তা দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ভাবাবেগে গভীরভাবে আঘাত করতে পারে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে হঠাৎ করে বন্ধ করে দেওয়া কোনো মতেই সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু এর পাশাপাশি আদালত এও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ভাবাবেগের দোহাই দিয়ে দিনভর বা লাগামহীনভাবে বাজি ফাটানোও কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ হতে পারে না। কারণ লাগামহীনভাবে বাজি ফাটানো হলে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়। যার ফলে সমাজে বসবাসকারী বয়স্ক নাগরিক, শিশু এবং অসুস্থ রোগীদের স্বাস্থ্যে গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আরও পড়ুনঃ Gandhi Jayanti Meat Ban: ২ অক্টোবরে বন্ধ মাছ-মাংস বিক্রি! একাধিক রাজ্যে জারি নয়া নিয়ম।
এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একটি সঠিক এবং বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ খুঁজছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে যে, এমন একটি আইনি কাঠামো তৈরি করতে হবে যার মাধ্যমে পরিবেশ এবং উৎসব—দুটোই রক্ষা পায়। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য বাজি ফাটানোর ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বা টাইম লিমিট বেঁধে দেওয়ার কথা গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, মানুষ যাতে নিজেদের আনন্দ উদযাপন করতে পারেন, তার জন্য দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় বাজি ফাটানোর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। এই নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে কেউ বাজি ফাটালে তার বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতের এই ভাবনার পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো, উৎসবের আনন্দ যাতে অন্যদের জন্য কোনোভাবেই শারীরিক বা মানসিক কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা সুনিশ্চিত করা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাজি ফাটানো হলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষণের মাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তেমনই মানুষের উৎসব পালনের অধিকারও অক্ষুণ্ণ থাকবে।

শীর্ষ আদালতে বাজি সংক্রান্ত এই মামলার শুনানির সময় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়েছে যে, পরিবেশবান্ধব উৎসব পালনের লক্ষ্যে ‘নেক্সট-জেনারেশন জয়েন্ট গ্রিন ক্র্যাকার্স’ বা নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক সবুজ বাজি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এই বিশেষ ধরনের বাজিগুলি সাধারণ বাজির তুলনায় অনেক কম দূষণ ছড়ায়। তবে এই গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট সরকারি মানদণ্ড এবং নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। এই বাজিগুলি থেকে নির্গত ধোঁয়া এবং শব্দের মাত্রা যেন কোনোভাবেই নির্ধারিত সীমার ওপরে না যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে সরকার এবং প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিকে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রস্তাবটি বর্তমানে শীর্ষ আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের অনুমতি মেলে, তবে তা একদিকে যেমন পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে, তেমনই উৎসবের আনন্দকেও দ্বিগুণ করে তুলবে।

আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal: পার্টি অফিসে আক্রান্ত অনুব্রত! কলার ধরে পনেরো বছরের হিসেব চাইল আগন্তুকরা।
সুপ্রিমকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী পনেরোই অক্টোবর। আশা করা হচ্ছে, ওই দিনই বাজি ফাটানো এবং গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারের বিষয়ে একটি চূড়ান্ত এবং বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করবে শীর্ষ আদালত। আগামী পনেরোই অক্টোবরের রায়ের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। কারণ এই রায়ের ওপর ভিত্তি করেই ঠিক হবে আসন্ন দীপাবলি এবং অন্যান্য উৎসবে মানুষ কতটা আনন্দ করতে পারবেন। তবে আদালতের এই প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর বাজি প্রস্তুতকারক এবং বিক্রেতারাও কিছুটা আশার আলো দেখছেন। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে এবার হয়তো তাঁদের ব্যবসাতেও কিছুটা জোয়ার আসবে। তবে যাই হোক না কেন, উৎসবের আনন্দ যাতে কোনোভাবেই অপরের বিরক্তির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের একান্ত কর্তব্য। এখন দেখার বিষয়, আগামী পনেরোই অক্টোবর শীর্ষ আদালত চূড়ান্ত রায়ে কী নির্দেশ দেয় এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলি সেই নির্দেশ কীভাবে কার্যকর করে।




