Gandhi Jayanti Meat Ban: ২ অক্টোবরে বন্ধ মাছ-মাংস বিক্রি! একাধিক রাজ্যে জারি নয়া নিয়ম

Published:

Gandhi Jayanti Meat Ban: ২ অক্টোবরে বন্ধ মাছ-মাংস বিক্রি! একাধিক রাজ্যে জারি নয়া নিয়ম

Gandhi Jayanti Meat Ban: অহিংসার পূজারী মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গোটা দেশ জুড়ে এক বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে একাধিক রাজ্যের প্রশাসন। আগামী দুই অক্টোবর, অর্থাৎ গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনটিতে দেশের বেশ কয়েকটি বড় শহরে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকতে চলেছে মাছ এবং মাংস বিক্রি। এই দিনটিকে অহিংসা দিবস হিসেবে পালন করা হয়, আর সেই অহিংসার নীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানাতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই এই মর্মে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা বা নোটিশ জারি করা হয়েছে। শুধুমাত্র খোলা বাজারে কাঁচা মাংস বিক্রিই নয়, হোটেল বা রেস্তোরাঁতেও কোনো রকম আমিষ পদ পরিবেশন করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই নতুন নিয়মের ফলে ওই দিনটিতে খাদ্যরসিকদের কিছুটা হলেও নিরামিষ খাবারের ওপর নির্ভর করতে হবে।

Advertisement Andaman Vibes

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণের অন্যতম বড় শহর হায়দরাবাদে এই নিয়ম অত্যন্ত কঠোরভাবে পালন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফ থেকে একটি অত্যন্ত কড়া নোটিশ জারি করা হয়েছে। কর্পোরেশনের বর্তমান কমিশনার আরভি কার্নানের স্বাক্ষর করা ওই নির্দেশিকায় একেবারে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে যে, আগামী দুই অক্টোবর শহরের কোথাও কোনো রকম মাংস বিক্রি করা যাবে না। বিশেষ করে পাঁঠার মাংস এবং গরুর মাংস বিক্রির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। শুধু বিক্রিই নয়, ওই নির্দিষ্ট দিনে শহরের কোনো প্রান্তে প্রকাশ্যে বা গোপনে পশু জবাই করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রশাসনের এই নির্দেশের কথা শহরের সমস্ত মাংস বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গ্রেটার হায়দরাবাদে গত বছরেও গান্ধী জয়ন্তীর দিন একইভাবে মাংসের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং তা সফলভাবে কার্যকরও হয়েছিল।

হায়দরাবাদের পাশাপাশি ছত্তিশগড়ের রাজধানী রাইপুরেও এই একই ধরনের কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। রাইপুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আগামী দুই অক্টোবর শহরের সমস্ত ধরনের আমিষ খাবার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে রাইপুরের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই নির্দেশিকা আরও একধাপ কড়া। সেখানে বলা হয়েছে যে, খোলা বাজারে মাংস বিক্রি বন্ধ তো থাকবেই, এর পাশাপাশি শহরের কোনো রেস্তোরাঁ, হোটেল বা খাবার দোকানেও কোনো রকম মাংসের পদ তৈরি বা বিক্রি করা যাবে না। অর্থাৎ, যারা বাইরে খেতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের বাধ্য হয়েই সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবারের মেনু বেছে নিতে হবে। শহরের রেস্তোরাঁ মালিকদের এই নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কেউ যদি এই নিয়ম অমান্য করেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও প্রচ্ছন্ন বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পশ্চিম ভারতের রাজ্য গুজরাটেও গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুজরাটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজকোট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফ থেকেও একটি সরকারি নোটিশ প্রকাশ্যে আনা হয়েছে। এই ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, আগামী দুই অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে শহরে মাছ এবং মাংস বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ওই দিন রাজকোট শহরের সমস্ত মাংসের দোকান, মাছের বাজার এবং কসাইখানাগুলি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের আরও একটি বড় শহর অর্থাৎ কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরুতেও গত বছর গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে মাংসের দোকান বন্ধ রাখা এবং বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। যদিও চলতি বছরে বেঙ্গালুরু শহরের জন্য এখনও পর্যন্ত সেই রকম কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা সরকারি নোটিশ জারি করা হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হয়তো সেই নির্দেশিকাও চলে আসতে পারে বলে মনে করছেন শহরের নাগরিকরা।

প্রশাসনের এই ধারাবাহিক পদক্ষেপের পেছনে মূলত মহাত্মা গান্ধীর অহিংসা এবং সর্বজীবে দয়ার আদর্শই কাজ করছে। জাতির জনকের জন্মদিনে জীবহত্যা বন্ধ রেখে তাঁর নীতির প্রতি প্রতীকী সম্মান জানানোর জন্যই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ঐতিহ্য পালন করা হয়। মাংস বিক্রেতা এবং রেস্তোরাঁ মালিকরা প্রশাসনের এই নির্দেশিকাকে সাধারণত সম্মানই জানিয়ে থাকেন। যদিও একদিনের জন্য ব্যবসা বন্ধ রাখলে কিছুটা আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবুও জাতীয় নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁরা সানন্দেই দোকানপাট বন্ধ রাখেন। সাধারণ নাগরিকদের কাছেও প্রশাসনের তরফ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন ওই বিশেষ দিনটিতে নিরামিষ আহার গ্রহণ করে এই সরকারি উদ্যোগকে সফল করে তোলেন। সব মিলিয়ে আগামী দুই অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীতে দেশের একাধিক বড় শহর আক্ষরিক অর্থেই এক দিন সম্পূর্ণ অহিংস এবং নিরামিষ আহারের দিন হিসেবে পালন করতে চলেছে।

Ad

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img