Suvendu Adhikari on Mamata Banerjee: ২১-এর ভোটে মমতার পা ভাঙেইনি! পিজি-র রিপোর্ট হাতিয়ার করে চরম বিস্ফোরক শুভেন্দু
Suvendu Adhikari on Mamata Banerjee: রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের এক চরম বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে আক্ষরিক অর্থেই শোরগোল ফেলে দিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের মাটিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে চোট লাগার ঘটনাটি সমগ্র বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে রীতিমতো নাড়িয়ে দিয়েছিল। সেই ঘটনার দীর্ঘ ৫ বছর পর, সেই একই জায়গা, অর্থাৎ নন্দীগ্রামের ঐতিহাসিক বিরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি দাবি করলেন যে, ২০২১ সালে মমতার পায়ে কোনো রকম ফ্র্যাকচার বা হাড় ভাঙার ঘটনাই ঘটেনি। তাঁর এই অভাবনীয় এবং চাঞ্চল্যকর মন্তব্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক মহলেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও এক তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আসন্ন উপনির্বাচনের আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সেই বহুল চর্চিত হুইলচেয়ারের প্রচার এবং ভাঙা পায়ে ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বাংলার মানুষকে ভুল বুঝিয়ে সহানুভূতি আদায়ের যে চেষ্টা সেই সময় করা হয়েছিল, তার আসল সত্যিটা আজ তিনি সবার সামনে নিয়ে আসতে চান।

আরও পড়ুনঃ PM Modi on Gandhi Jayanti: উন্নত ভারত গড়তে বাপুর আদর্শই দিশা! দেশবাসীকে ৫টি বার্তা মোদীর।
ঠিক কী ঘটেছিল ২০২১ সালের ১০ই মার্চ? সেই সময় বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ঝড় তুলতে এবং মানুষের সমর্থন আদায় করতে নিজের সেসময়ের কেন্দ্র নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই বিরুলিয়া বাজারে মানুষের ভিড়ের মাঝে আচমকা তাঁর গাড়ির দরজা চেপে গিয়ে তিনি পায়ে গুরুতর আঘাত পান বলে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। এরপর প্লাস্টার করা পায়ে হুইলচেয়ারে বসেই গোটা রাজ্যে প্রচার সেরেছিলেন তিনি। কিন্তু এই পুরো ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে দাবি করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে, সেদিন বিরুলিয়ায় লোহার বিমে গাড়ির দরজা লেগে তা ফিরে এসে তাঁর পায়ে সামান্য একটু লেগেছিল মাত্র। এর বাইরে আর বড় কোনো আঘাত ছিল না। শুভেন্দুর কথায়, “নন্দীগ্রামে হেরেই তো ঘরে ঢুকে গিয়েছিল। ভালো পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে ঘুরছিল। সেদিন আপনাদের বদনাম করেছিল।” এই মন্তব্য থেকে এটা একদম স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ওই আঘাতের ঘটনাটিকে তিনি নিছকই সহানুভূতি আদায়ের সস্তা রাজনৈতিক কৌশল বলে মনে করছেন।

নিজের এই চরম বিস্ফোরক দাবির সপক্ষে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, তাঁর হাতে সেই সময়কার কলকাতার পিজি বা এসএসকেএম হাসপাতালের অরিজিনাল মেডিক্যাল রিপোর্ট একদম সুরক্ষিত রয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি পিজি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। যেহেতু পিজি হাসপাতালটি খোদ ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে এবং তিনি ওই এলাকার বিধায়ক ও হাসপাতালের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, তাই সেই সংক্রান্ত সমস্ত গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাঁর কাছে রয়েছে। শুভেন্দু অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন যে, ডাক্তারদের কাছে এক্স-রে প্লেট না থাকলেও রিপোর্টটি রোগীর কাছে অবশ্যই থাকে, আর সেই রিপোর্টে স্বয়ং ডাক্তাররাই স্পষ্ট লিখেছিলেন ‘নো ফ্র্যাকচার’ বা কোনো হাড় ভাঙেনি। তিনি খোলা ময়দানে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন যে, যেদিন প্রয়োজন পড়বে, তিনি জনসমক্ষে ওই আসল কাগজটি প্রকাশ করে দেবেন। রাজ্যের বর্তমান পুলিশমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই দাবি যে যথেষ্ট ওজনদার এবং ইঙ্গিতপূর্ণ, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাতের প্রসঙ্গ তোলার পাশাপাশি নিজের ছেড়ে আসা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের আসন্ন উপনির্বাচন নিয়েও এদিন প্রবল সুর চড়ান শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তাঁরই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। তাঁর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে তিনি তাঁর সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চান নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে। তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে অভিযোগ করেন যে, তাঁর সঙ্গে থাকার ‘অপরাধেই’ চন্দ্রনাথকে বিহারের মুঙ্গের এবং উত্তরপ্রদেশ থেকে পেশাদার সুপারি কিলার ভাড়া করে এনে একেবারে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু চরম বিস্ফোরক অভিযোগ করে বলেন যে, এই জঘন্য খুনের জন্য সুপারি কিলারদের হাতে ২ কোটি টাকা তুলে দিয়েছিল তৃণমূলের তথাকথিত ‘ভাইপো গ্যাং’। পুলিশমন্ত্রী জানান যে, তদন্তকারীদের হাতে ইতিমধ্যেই সমস্ত প্রামাণ্য তথ্য রয়েছে এবং বেশ কয়েকজন অপরাধী গ্রেপ্তারও হয়েছে।
![]()
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের খুব শিগগিরই সম্পূর্ণভাবে আইনের আওতায় আনা হবে বলে কঠিন আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নন্দীগ্রামের সাধারণ ভোটারদের কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ আবেদন জানিয়ে বলেন যে, ১ জন তরতাজা যুবককে খুন করার গণতান্ত্রিক বদলা নিতে হবে ইভিএম বা ভোটযন্ত্রের বোতাম টিপে। উপনির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভের ডাক দিয়ে তিনি নন্দীগ্রামের মানুষের পাশে সব সময় থাকার জোরালো বার্তা দেন ‘বন্ধু’ শুভেন্দু। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপনির্বাচনের ঠিক মুখে দাঁড়িয়ে একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ের চোট নিয়ে মেডিক্যাল রিপোর্ট ফাঁসের চরম হুমকি, আর অন্যদিকে নিজের সহযোগীর হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আবেগপূর্ণ প্রচার—এই জোড়া অস্ত্রে শান দিয়ে নন্দীগ্রামের মাটি আরও একবার নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া শুভেন্দু অধিকারী। এখন সমগ্র বাংলার মানুষের দেখার বিষয়, আগামী দিনে তিনি সত্যিই সেই বহু চর্চিত ‘নো ফ্র্যাকচার’ রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করেন কি না এবং উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের মানুষ কাকে সমর্থন করেন।



