PM Modi on Gandhi Jayanti: উন্নত ভারত গড়তে বাপুর আদর্শই দিশা! দেশবাসীকে ৫টি বার্তা মোদীর
PM Modi on Gandhi Jayanti: আজ ২রা অক্টোবর, সমগ্র দেশজুড়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপিত হচ্ছে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী। এই বিশেষ ঐতিহাসিক দিনে জাতির জনকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সত্য, অহিংসা, সারল্য এবং স্বদেশির যে চিরন্তন বার্তা মহাত্মা গান্ধী বিশ্ববাসীকে দিয়ে গিয়েছিলেন, তা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত প্রত্যয়ের সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, তাঁর এই আদর্শ আজও সমগ্র সমাজকে সঠিক পথের দিশা দেখাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ এক আবেগপূর্ণ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বাপুর প্রদর্শিত পথ ও অমূল্য শিক্ষাই ভারতকে এক সুন্দর সমাজ এবং একটি স্বনির্ভর ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিরাম প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। দেশের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি আজকের দিনে গান্ধীর মূল্যবোধকে দৈনন্দিন জীবনে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গান্ধী জয়ন্তীর আন্তর্জাতিক গুরুত্ব এবং ভারতীয় প্রেক্ষাপটের তাৎপর্য সবিস্তারে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২রা অক্টোবরের গুরুত্ব আমাদের দেশের প্রতিটি শিশুর কাছে অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও গভীরভাবে পরিচিত। মহাত্মা গান্ধীর জীবনদর্শন শুধুমাত্র ভারতের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি মুক্তিকামী মানুষকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করেছে। গান্ধীর চারিত্রিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাত্মা গান্ধী এমন একজন বিরল ব্যক্তিত্ব ছিলেন যিনি আজীবন সমস্ত ক্ষমতার মোহ থেকে শতহস্ত দূরে অবস্থান করেছিলেন, অথচ আজও তিনি দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে রাজত্ব করছেন। মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে গান্ধীজির চিন্তাভাবনার প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে মোদী বলেন, যতদিন মানবজাতি সত্য ও মানবিকতাকে লালন করবে, ততদিন বাপুর আদর্শের প্রেরণা আমাদের মধ্যে অম্লান হয়ে থাকবে।

মহাত্মা গান্ধীর স্বদেশি ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রতি এক আন্তরিক আবেদন জানিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধীজির স্বদেশি আন্দোলন ছিল এক অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, আর সেই স্বদেশি আন্দোলনের সবচেয়ে বড় ও দৃশ্যমান প্রতীক হলো খাদি বস্ত্র। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ২রা অক্টোবর উপলক্ষ্যে প্রত্যেকে যেন অন্তত একটি করে খাদি পণ্য ক্রয় করেন এবং অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে বলেন যে ‘এটি স্বদেশি’। স্থানীয় কারিগর ও তাঁতিদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে খাদির গুরুত্ব যে অপরিসীম, তা উল্লেখ করে তিনি আত্মনির্ভর ভারত গঠনের সঙ্গে গান্ধীর অর্থনৈতিক দর্শনের গভীর সংযোগের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে স্থানীয় পণ্য ব্যবহারের এই মানসিকতা গড়ে উঠলেই প্রকৃত স্বদেশি ভাবনার জয় হবে বলে তিনি মনে করেন।

অন্য এক পৃথক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মহাত্মা গান্ধীর সমগ্র জীবনকে সত্য, অহিংসা, করুণা এবং নিঃস্বার্থ সেবার এক উজ্জ্বল বাতিঘর হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, পূজনীয় বাপুর আদর্শ মানবজাতির সামগ্রিক কল্যাণের পথকে প্রতিটি যুগে একইভাবে আলোকিত করে যাবে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। তিনি বলেন, গান্ধীজির দেখানো সত্য ও অহিংসার পথেই ভারত একসময় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে বিশ্বমঞ্চে স্বকীয় বার্তা পৌঁছে দিয়েছিল। যোগী আদিত্যনাথ উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে একটি স্বাবলম্বী এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে বাপুর জীবনদর্শন ও অহিংস প্রতিরোধের নীতিগুলি এখনও এক কার্যকর পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করে চলেছে।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ২রা অক্টোবর তারিখটি সমগ্র ভারতে যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে গান্ধী জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর অনন্য নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এই দিনটিকে সমগ্র বিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস’ হিসেবেও পালন করা হয়। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালে সর্বসম্মতিক্রমে ২রা অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা মহাত্মা গান্ধীর অহিংস দর্শনের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে চিরস্থায়ী মর্যাদা দিয়েছে। এই বিশেষ দিনে সমগ্র দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, সত্য, স্বনির্ভরতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একাধিক স্মৃতিচারণমূলক কর্মসূচি ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। উন্নত ও শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে গান্ধীর এই কালজয়ী আদর্শকে পাথেয় করেই দেশ এগিয়ে চলেছে।




