Sumit Roy Arrested: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ককে ফের ২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ আদালতের
Sumit Roy Arrested: বেআইনি বালি পাচার এবং শালবনী জমি কেলেঙ্কারি মামলায় ধৃত তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। পুলিশি জেরায় এবার উঠে এল একেবারে চমকে দেওয়ার মতো বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শালবনী থানার পুলিশের হাতে তদন্ত চলাকালীন জানা গিয়েছে যে, সুমিত রায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সিম কার্ড ব্যবহার করতেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এর মধ্যে শুধুমাত্র ১টি সিম কার্ড তাঁর নিজের নামে নথিভুক্ত ছিল এবং বাকি অন্যান্য সমস্ত সিম কার্ডগুলি সম্পূর্ণ অন্য সাধারণ লোকজনের নামে তোলা হয়েছিল। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যাঁদের নামে এই একাধিক সিম কার্ডগুলি তোলা হয়েছিল, তাঁরা প্রত্যেকেই দক্ষিণ কলকাতার হাইপ্রোফাইল কালীঘাট এবং তার আশেপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ১ জন প্রভাবশালী নেতার আপ্তসহায়ক কেন অন্য সাধারণ মানুষের নামে তোলা এতগুলি সিম কার্ড ব্যবহার করতেন, তা নিয়েই এখন রাজ্যজুড়ে চরম আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
![]()
এই মামলায় সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, এর আগে টানা ৯ দিনের পুলিশি হেফাজতে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আপ্তসহায়ক সুমিত রায়। সেই ৯ দিনের ম্যারাথন জেরাতেই তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁর কাছ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল তথ্য জোগাড় করতে সক্ষম হয়েছেন। পুলিশি তদন্তে দেখা গিয়েছে যে, সুমিত রায় যোগাযোগের জন্য যে বিশেষ মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতেন, সেখানে মাত্র ১টিতে তাঁর নিজস্ব পরিচয়ে তোলা সিমকার্ড ঢোকানো ছিল। কিন্তু বাকি একাধিক সিমকার্ড, যেগুলি তিনি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ব্যবহার করতেন, সেগুলি সবই অন্যান্য ব্যক্তিদের নামে তোলা হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, যাঁদের নামে এই একাধিক সিম তোলা হয়েছে, তাঁরা সবাই ওই নির্দিষ্ট কালীঘাট এবং আশেপাশের এলাকারই সাধারণ বাসিন্দা। ঘটনাচক্রে, ঠিক এই কালীঘাট এলাকাতেই খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন অবস্থিত, যা এই ঘটনাটিকে আরও বেশি সন্দেহজনক করে তুলেছে।

পুলিশি তদন্তে আরও ১টি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বিষয় উঠে এসেছে যে, বিভিন্ন সাধারণ ব্যক্তিদের নামে তোলা ওই ভুয়ো সিমগুলির মধ্যে অধিকাংশ সিমই এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি সক্রিয় বা অ্যাক্টিভ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু ঠিক কীভাবে বা কোন উপায়ে একাধিক ব্যক্তির নামে ধৃত সুমিত রায় এতগুলি সিম কার্ড নিজে তুললেন বা জোগাড় করলেন, পুলিশ এখন মূলত তারই গভীর খোঁজ চালাচ্ছে। কেনই বা তাঁর মতো ১ জন হাইপ্রোফাইল ব্যক্তির এতগুলি বেনামি সিম কার্ডের প্রয়োজন হতো, সেই রহস্যের গভীরে গিয়ে সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশ ও তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, আধুনিক ইউপিআই বা ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহার করে অত্যন্ত গোপনে কোনো বড়সড় মোটা অঙ্কের বেআইনি টাকা লেনদেন করতেই একাধিক ব্যক্তির নামে ১টির পর ১টি সিম তোলা হয়েছিল। যদিও পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই বিপুল আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো অকাট্য প্রামাণ্য তথ্য বা নথি তাঁদের হাতে আসেনি, তবে তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে।

এই রহস্যের জট ছাড়াতে এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে এবার পুলিশ অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে। শালবনী থানার পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গিয়েছে যে, এতগুলি সিম কার্ড সুমিত রায় ঠিক কীভাবে পেলেন এবং ওই সমস্ত সাধারণ সিম হোল্ডারদের এতে আদৌ কোনো আইনসম্মত অনুমতি ছিল কি না, তা এবার সরাসরি যাচাই করা হবে। সেই উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট কালীঘাটের বাসিন্দাদের অবিলম্বে তলব করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়কের একেবারে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। খুব শিগগিরই ওই সমস্ত সাধারণ ব্যক্তিদের ডেকে এনে তদন্তকারীরা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন বলে গোপন সূত্রে জানা গিয়েছে। এই মুখোমুখি জেরার জন্যই পুলিশ নতুন করে সুমিত রায়কে আরও ৪ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে পাওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। অন্যদিকে, ধৃত সুমিত রায়ের জামিনের আবেদনের ওপর আদালতে জোরালো সওয়াল করেন তাঁর নিজস্ব আইনজীবীরা।

দুপক্ষের দীর্ঘ আইনি সওয়াল-জবাব এবং শুনানির পর আদালত সমস্ত পরিস্থিতি এবং তদন্তের গুরুত্ব বিবেচনা করে সুমিত রায়ের জামিনের আবেদন সরাসরি বাতিল করে দেয়। পাশাপাশি, পুলিশ ৪ দিনের মেয়াদ চাইলেও আদালত তাঁকে নতুন করে আরও ২ দিনের জন্য কড়া পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীর বহুল চর্চিত জমি কেলেঙ্কারিতে ১ম সুমিত রায়কে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। এরপর তদন্তের জাল যত গড়িয়েছে, ততই একের পর এক চাঞ্চল্যকর বিষয় সামনে এসেছে। শালবনীর জমি কেলেঙ্কারির পর এবার তাঁকে নতুন করে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে সরাসরি বেআইনি বালি পাচার মামলাতেও আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করা হয়েছে। পুলিশের অনুমান, আগামী ২ দিনের এই রিমান্ডে বেনামি সিম কার্ড এবং ইউপিআই লেনদেন নিয়ে আরও অনেক গোপন তথ্য সুমিত রায়ের কাছ থেকে আদায় করা সম্ভব হবে, যা আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে ১টি বিরাট বড় প্রভাব ফেলতে পারে।




