CJP Protest Against CEC: ‘পুলিশ যেখানে আটকাবে, সেটাই হবে যন্তর মন্তর!’ ১০ই অক্টোবর মেগা আন্দোলনের ডাক সিজেপি-র

Published:

CJP Protest Against CEC: জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে অহিংস সত্যাগ্রহের পথে ককরোচ জনতা পার্টি, কড়া হুঁশিয়ারি অভিজিৎ দিপকের

CJP Protest Against CEC: ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবং বিশেষ করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বর্তমানে দেশজুড়ে ১টি অভূতপূর্ব এবং ব্যাপক গণআন্দোলনের সূচনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় অস্বচ্ছতার মারাত্মক অভিযোগ তুলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেছে এই নবগঠিত রাজনৈতিক সংগঠনটি। গত শনিবার অর্থাৎ ৩রা অক্টোবর সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা এবং মূল আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে ১টি অত্যন্ত কড়া বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী ১০ই অক্টোবর দেশের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ১টি সুবিশাল গণবিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যদি অবিলম্বে নিজের পদ থেকে ইস্তফা না দেন, তবে দেশজুড়ে এই আন্দোলনের ঝাঁজ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নির্বাচন কমিশনের মতো ১টি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক সংস্থার বিরুদ্ধে এহেন জোরালো এবং সুসংগঠিত প্রতিবাদ কার্যত ১টি নজিরবিহীন ঘটনা বলেই মনে করছে দেশের ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক মহল।

India vs Brazil Match: শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গোলরক্ষক গুরপ্রীতের ভুলে ৪ গোল হজম করল ভারতীয় ফুটবল দল (1)
India vs Brazil Match: শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গোলরক্ষক গুরপ্রীতের ভুলে ৪ গোল হজম করল ভারতীয় ফুটবল দল (1)

আরও পড়ুনঃ India vs Brazil Match: গুরপ্রীতের ভুলে ব্রাজিলের কাছে ৪ গোল খেল ভারত! যুবভারতীতে মন জিতল রায়ানরা।

শনিবারের ওই বিশেষ বিবৃতিতে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে দেশের আপামর সাধারণ নাগরিকদের প্রতি ১টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, যাঁরা দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নির্বাচন চান, তাঁদের প্রত্যেককে আগামী ১০ই অক্টোবরের এই মেগা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগদান করতে হবে। তবে তিনি ১টি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁদের এই সম্পূর্ণ আন্দোলনটি হবে ১০০ শতাংশ শান্তিপূর্ণ এবং অহিংস। জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর দেখিয়ে যাওয়া অহিংস সত্যাগ্রহের পথ অনুসরণ করেই তাঁরা নিজেদের এই গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বলে তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। অভিজিৎ দিপকের কথায়, “জ্ঞানেশ কুমার যদি অবিলম্বে পদত্যাগ না করেন, তবে আগামী ১০ই অক্টোবর সারা ভারত থেকে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ বা সিজেপি-র ভাষায় ‘তেলাপোকা’রা রাজধানী দিল্লির রাজপথে পদযাত্রা করবেন এবং ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে জমায়েত হয়ে ১টি সুবিশাল গণপ্রতিবাদ গড়ে তুলবেন।”

Advertisement

রাজধানী দিল্লিতে এই সুবিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে যাতে কোনো রকম প্রশাসনিক বা পুলিশি বাধার সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও আগেভাগেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। অভিজিৎ দিপকে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, দিল্লি পুলিশ যদি তাঁদের এই শান্তিপূর্ণ পদযাত্রায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে বা যন্তর মন্তরে পৌঁছতে না দেয়, তবে পুলিশ তাঁদের ঠিক যেখানে আটকাবে, তাঁরা সেই নির্দিষ্ট জায়গাটিকেই নিজেদের ‘যন্তর মন্তর’ বানিয়ে ফেলবেন এবং সেখানেই অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়বেন। সিজেপি নেতৃত্বের তরফ থেকে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, তাঁদের এই দিল্লি আন্দোলন সম্পূর্ণভাবে অহিংস দর্শন কঠোরভাবে মেনে চলবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ঐতিহাসিক আইন অমান্য আন্দোলন থেকে কাঠামোগত অনুপ্রেরণা গ্রহণ করবে। তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো রকম আমলাতান্ত্রিক বাধা বা পুলিশি ব্যারিকেড তাঁদের এই বৃহত্তর আন্দোলনকে কোনোভাবেই রুখতে পারবে না।IMG 20261003 WA00111

আগামী ১০ই অক্টোবরের এই মেগা দিল্লি কর্মসূচির আগে গত শুক্রবার অর্থাৎ ২রা অক্টোবর মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক শিবাজি পার্কে ১টি অত্যন্ত সফল এবং সুবিশাল প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছিল ককরোচ জনতা পার্টি। পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে নানা কড়া বিধিনিষেধ এবং প্রবল বাধা থাকা সত্ত্বেও সেই হাইভোল্টেজ প্রতিবাদ সভায় হাজার হাজার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা গোটা দেশের নজর কেড়েছিল। মুম্বইয়ের সেই মেগা সমাবেশ থেকেই মূলত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিটি জাতীয় স্তরে ১টি জোরালো আকার ধারণ করে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ প্রমাণ করে যে, দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমানসে ১টি গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। মুম্বইয়ের ওই সভা থেকেই ১ম ঘোষণা করা হয়েছিল যে, নির্বাচন কমিশনার যদি অবিলম্বে সাধারণ মানুষের দাবি মেনে ইস্তফা না দেন, তবে এর পরবর্তী এবং সবচেয়ে বড় আঘাতটি হানা হবে সরাসরি রাজধানী দিল্লির বুকে।

Annapurna Yojana West Bengal: অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা নিয়ে কড়া ঘোষণা করছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
Annapurna Yojana West Bengal: অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা নিয়ে কড়া ঘোষণা করছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

আরও পড়ুনঃ Annapurna Yojana West Bengal: অক্টোবর থেকে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা পাবেন না ‘এই’ মহিলারা! কারা বাদ পড়ছেন?

ককরোচ জনতা পার্টির এই লাগাতার এবং ক্রমবর্ধমান আন্দোলন বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। “গণতন্ত্র বাঁচানোর এই লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে”, অভিজিৎ দিপকের এই আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য দেশের যুবসমাজ এবং প্রতিবাদী মানুষের মধ্যে ১টি নতুন উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে। আগামী ১০ই অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ এসে জড়ো হন এবং প্রশাসন সেই বিপুল জনস্রোতকে কীভাবে সামাল দেয়, এখন গোটা দেশের নজর সেদিকেই নিবদ্ধ রয়েছে। বিগত বেশ কিছুদিনের লাগাতার বিক্ষোভ এবং ধরপাকড় সত্ত্বেও সিজেপি কর্মীদের অদম্য জেদ এটাই প্রমাণ করছে যে তাঁরা নিজেদের দাবি থেকে বিন্দুমাত্র পিছু হটতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা অত্যন্ত কৌতূহলের। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তবে আগামী ১০ই অক্টোবর রাজধানী দিল্লি যে ১টি নজিরবিহীন গণবিক্ষোভের সাক্ষী হতে চলেছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

IMG 20261003 WA0013

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img