India vs Brazil Match: শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াই করেও গোলরক্ষকের চরম ভুলে স্বপ্নভঙ্গ ব্লু টাইগার্সদের
India vs Brazil Match: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল ইতিহাসের ১টি অত্যন্ত স্মরণীয় দিন! ৫ বারের বিশ্বজয়ী শক্তিশালী দল ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪টি গোল হজম করে পরাজয় বরণ করতে হলো ভারতীয় ফুটবল দলকে। শুক্রবার দুপুরে বাইপাসের ধারের হোটেলে বসে ব্রাজিলের অধিনায়ক মার্কুইনহোসের মুখে উঠে এসেছিল গুরপ্রীত সিং সান্ধুর নাম। খোদ ব্রাজিলের নেতা বলছিলেন, দেশের হয়ে ৯০তম ম্যাচ খেলতে নামা কতটা গর্বের। কিন্তু সেই গর্বের দিনে গুরপ্রীত এমন ২টি গোল খেলেন, যা কলকাতা ময়দানের ৩য় ডিভিশনে খেলা কোনো গোলকিপারও অনায়াসে বাঁচিয়ে দেবেন। কার্যত ওই ২টি চরম ভুলেই শেষ হয়ে গেল ভারতের লড়াই করার স্বপ্ন। ওই ২টি গোল না হলে হয়তো ১ম অর্ধে ০-০ অবস্থায় সাজঘরে ফিরত ২ দল, যা ভারতের কাছে ১টি বড় নৈতিক জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম হতো না। শেষ পর্যন্ত শনিবার যুবভারতীতে ব্রাজিলের কাছে মোট ৪টি গোল হজম করল ব্লু টাইগার্সরা। তবে হেরে গেলেও রায়ান উইলিয়ামস, বিজয় ভার্গিজ, অভিষেক সিংদের অদম্য লড়াই ৫০,০০০ দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গুরপ্রীতের এমন দায়সারা মানসিকতা প্রবল প্রশ্ন তুলে দিয়েছে যে, কেন তাঁকে প্রতিটি ম্যাচে শুরুর ১১ জনের দলে খেলানো হবে? কেন জাতীয় দলের কোচ বদলালেও গুরপ্রীত বারবার তেকাঠির নিচে থেকে যান? এই দলে বিশাল কাইথের মতো দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপারকে নেওয়াই হয়নি, আর প্রভসুখন গিলকে বসিয়ে রাখা হয়েছিল রিজার্ভ বেঞ্চে। বিরতির পর কিছুটা মুখরক্ষার তাগিদেই গুরপ্রীতকে তুলে নিয়ে গিলকে নামান কোচ খালিদ জামিল, যদিও ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে এই সিদ্ধান্তটি অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল। গোলরক্ষকের এই চূড়ান্ত ব্যর্থতা বাদ দিলে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই মোটেও খারাপ হয়নি। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকা ১টি দেশের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী হয়ে লড়াই করেছেন রায়ান, মনবীর, অভিষেকরা। ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে কড়া নজরে রেখে ডিফেন্সে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন অভিষেক, যা সবার নজর কেড়েছে।

শক্তিশালী ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তি যে ভারতকে বিন্দুমাত্র হালকাভাবে নেননি, সেটা বোঝা গিয়েছিল তাদের শুরুর ১১ জন খেলোয়াড়ের তালিকা দেখেই। ভিনিসিয়াস, মার্কুইনহোসদের মতো সুপারস্টারদের শুরুর দলে রেখেছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন বিশ্বকাপে খেলা দানিলো, ডগলাস সান্তোসেরাও। ১ম দিকে ভিনিসিয়াসের ওই ১টি আক্রমণ ছাড়া ব্রাজিলকে খুব ১টা বিপজ্জনক লাগেনি। বরং ভারত মরিয়া হয়ে রক্ষণ করছিল এবং সুযোগ পেলে প্রতি আক্রমণেও উঠছিল। বিরতির পরেই ব্রাজিল দলকে আমূল বদলে দেন আনচেলোত্তি এবং ভিনিসিয়াস-সহ একাধিক ১ম সারির ফুটবলারকে তুলে নেন। গিমারায়েস, ডগলাস লুইজ, স্যামুয়েল লিনোদের তিনি মাঠে নামান। সেই লিনোই ভারতের ভুলের সুযোগ নিয়ে ২য় অর্ধে পর পর ২টি গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ৫৮ মিনিটের মাথায় বিজয়ের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দূর থেকে জোরালো শটে গোল করেন লিনো।

ম্যাচের ৬৪ মিনিটে ১টি দুর্দান্ত সুযোগ পেয়েছিলেন রায়ান। মার্কারের নাগাল এড়িয়ে ব্রাজিলের বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন তিনি, কিন্তু তাঁর শট বাঁচিয়ে দেন বিপক্ষ গোলরক্ষক মাউরো। ঠিক ৩ মিনিট পরেই মনবীরকে পাস বাড়িয়ে ব্রাজিলের বক্সের ডান দিকে দৌড়ে গিয়েছিলেন রায়ান। মনবীর বল ক্রস করে তুলে দেন রায়ানের উদ্দেশ্যে, কিন্তু চলতি বলে ভারতের স্ট্রাইকার শট নিতে গেলেও তা সফল হয়নি এবং বল গড়িয়ে গড়িয়ে পোস্টের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর পরে ব্রাজিল এবং ভারত ২ দলই বেশ কয়েকবার পালটা আক্রমণ করেছে। ব্রাজিল তাদের ৪ নম্বর গোলটি করে সংযুক্তি সময়ের একেবারে শেষ মিনিটে। লিনোর শট প্রভসুখনের শরীরের তলা দিয়ে গোলে ঢুকে যায়। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৪টি গোল খেলেও এই ফলাফল ও লড়াই ভারতীয় দলকে আগামী ম্যাচের জন্য প্রবলভাবে উদ্বুদ্ধ করবে। আগামী ৬ই অক্টোবর ভারতের সামনে শক্তিশালী উরুগুয়ে।
![]()



