Annapurna Yojana West Bengal: পুজোর আগেই অ্যাকাউন্টে টাকা, নন্দীগ্রামের প্রচার থেকে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
Annapurna Yojana West Bengal: রাজ্য সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় এবং বহু চর্চিত প্রকল্প অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে এবার ১টি অত্যন্ত বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আসন্ন দুর্গাপুজোর ঠিক প্রাক্কালে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার মনে ১টি প্রবল উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল যে, পুজোর মাসে তাঁরা এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের ৩০০০ টাকা নির্দিষ্ট সময়ে হাতে পাবেন কি না। সেই সমস্ত জল্পনা এবং দুশ্চিন্তার সম্পূর্ণ অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উৎসবের মরশুমে মা-বোনেদের মুখে হাসি ফোটাতে পুজোর আগেই তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই ৩০০০ টাকা সরাসরি ঢুকে যাবে। তবে এই আনন্দের খবরের মাঝেই ১টি অত্যন্ত কড়া বার্তাও তিনি দিয়েছেন, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এবং সাধারণ উপভোক্তাদের মধ্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, আগামী অক্টোবর মাস থেকে বেশ কিছু নির্দিষ্ট মহিলা আর কোনোভাবেই এই প্রকল্পের কোনো টাকা পাবেন না।

আরও পড়ুন: SIR Voter List Bengal: SIR-এ বাদ বাংলার ২৭ লাখ ভোটার! নাম তোলার নয়া নির্দেশিকা কমিশনের
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সঠিক প্রাপকদের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান রাজ্য সরকার বর্তমানে ১টি অত্যন্ত কড়া নথিপত্র যাচাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, বিগত মাসগুলিতে বেশ কিছু অযোগ্য উপভোক্তা ভুল তথ্য দিয়ে বা বেনিয়ম করে এই প্রকল্পের ৩০০০ টাকা তুলে নিয়েছিলেন। কিন্তু অক্টোবর মাস থেকে সেই দুর্নীতির রাস্তা চিরতরে বন্ধ হতে চলেছে। শুভেন্দু অধিকারী একদম পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, অক্টোবর মাস থেকে শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র যোগ্য মহিলারাই অন্নপূর্ণা যোজনার এই ৩০০০ টাকা নিয়মিত পাবেন। যে সমস্ত অযোগ্য মহিলারা আগে কোনোভাবে এই টাকা পেতেন, এই মাস থেকে তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে। তবে তিনি ১টি বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করেছেন যে, কোনো প্রকৃত এবং যোগ্য মহিলাকে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না, অধিকারীরা তাঁদের প্রাপ্য টাকা ১০০ শতাংশ নিশ্চিতভাবে পাবেন।

সরকারি পরিসংখ্যান এবং তথ্যের দিকে নজর দিলে দেখা যায় যে, বিগত সেপ্টেম্বর মাসেও রাজ্যের প্রায় ১.৫ কোটির বেশি মহিলা সম্পূর্ণ সফলভাবে নিজেদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পেয়ে গিয়েছেন। এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে ১টি অত্যন্ত বড় সাফল্য হলো যে, সম্প্রতি আরও নতুন ১০ লাখ মহিলার নাম এই অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রকল্পের আওতায় সফলভাবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন নথিভুক্ত হওয়া উপভোক্তারাও যাতে পুজোর আগেই তাঁদের প্রাপ্য টাকা হাতে পেয়ে যান, তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব, আর শারদীয়ার এই আনন্দে যাতে কোনোভাবেই ভাঁটা না পড়ে, তার জন্য মহিলাদের হাতে ৩০০০ টাকা নগদ এলে তাঁদের পুজোর কেনাকাটা এবং আনন্দ যে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রশাসন চাইছে যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে উৎসবের আগেই গোটা রাজ্যে এই বিপুল অঙ্কের টাকা বিতরণ সম্পূর্ণ করতে।

বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক কাজকর্মকে আরও বেশি জনমুখী এবং স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে বর্তমানে ‘সেবা সেতু অভিযান’ নামের ১টি বিশেষ কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই মেগা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়ে তাঁদের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং দ্রুত তার সমাধান করা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন যে, এই সেবা সেতু অভিযানের মাধ্যমে অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ রাজ্য সরকারের অন্যান্য সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বিষয়ে সাধারণ মানুষের সরাসরি মতামত অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সংগ্রহ করা হচ্ছে। মানুষ এই প্রকল্পগুলি থেকে কতটা উপকৃত হচ্ছেন এবং এতে আরও কী কী উন্নতি করা প্রয়োজন, তার ১টি বাস্তব চিত্র এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশাসনের হাতে উঠে আসছে। এর পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে এই শিবিরের মাধ্যমে আরও বিশেষ কিছু সরকারি সুযোগ-সুবিধা সরাসরি প্রদান করা হচ্ছে, যা রাজ্যবাসীর কাছে ১টি বিরাট বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

যে সমস্ত মহিলারা এখনও পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে কোনো কারণে বঞ্চিত রয়েছেন বা নাম নথিভুক্ত করতে পারেননি, তাঁদের জন্যও ১টি অত্যন্ত বড় এবং আশাব্যঞ্জক খবর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আসন্ন নভেম্বর এবং ডিসেম্বর মাস জুড়ে সমগ্র রাজ্যব্যাপী সুবিশাল ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে। এই মেগা জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য নাগরিককে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হবে। সবচেয়ে বড় খবর হলো, এই শিবিরগুলিতে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্র বা ফর্ম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, যে সমস্ত মহিলারা অনলাইনে আবেদন করতে বা প্রযুক্তিগত কারণে ফর্ম জমা দিতে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁরা এই জনকল্যাণ শিবিরগুলিতে গিয়ে সম্পূর্ণ অফলাইনে নিজেদের ফর্ম জমা দিয়ে প্রকল্পের সুবিধা লাভ করতে পারবেন। সরকারের এই জনমুখী এবং বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনে রাজ্যের আরও লক্ষ লক্ষ গরিব ও মধ্যবিত্ত মহিলাকে আর্থিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করে তুলতে ১টি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।




