SIR Voter List Bengal: SIR-এ বাদ বাংলার ২৭ লাখ ভোটার! নাম তোলার নয়া নির্দেশিকা কমিশনের

Published:

SIR Voter List Bengal: বাড়ি বাড়ি যাবেন বিএলও, ফর্ম ৬-এ নিয়মের সরলীকরণ করল নির্বাচন কমিশন

SIR Voter List Bengal: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় যে, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বাদ পড়ে গিয়েছে প্রায় ২৭ লাখ ভোটারের নাম। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার খবর চাউর হতেই জনমানসে যেমন চরম আতঙ্ক তৈরি হয়, তেমনই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও বিষয়টি নিয়ে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। বাদ পড়া ভোটারদের একটি বড় অংশের দাবি, তাঁরা সম্পূর্ণ যোগ্য এবং ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও কেবল জটিল নিয়মের বেড়াজালে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে এবার অত্যন্ত সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বাদ পড়া এই যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাজ্যজুড়ে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করার আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

IMG 20261002 WA0135
Suvendu Adhikari Nandigram Bypoll: নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

আরও পড়ুনঃ Suvendu Adhikari Nandigram Bypoll: ৬ অক্টোবর ‘বন্ধুত্ব দিবস’! ভবানীপুর না ছাড়ার আসল কারণ জানালেন শুভেন্দু।

নির্বাচন কমিশনের গত ২৬শে সেপ্টেম্বরের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বা সিইও, জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিইও এবং মহকুমা স্তরের ইআরও-দের অবিলম্বে এই বিশেষ অন্তর্ভুক্তিকরণ অভিযান যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে, দেশজুড়ে যে ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সমাপ্ত হয়েছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারও রয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ হলো, এসআইআর চলাকালীন বা তার পরবর্তী সময়ে যাঁদের নাম কোনো কারণে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফের নাম তোলার আবেদন করতে পারবেন। কোনো প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক যাতে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা সুনিশ্চিত করতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

IMG 20261003 WA0011

এই মেগা অভিযানে সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ফের পড়তে চলেছে বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও-দের কাঁধে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিএলও-রা এবার সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে যাচাই করবেন। যে সমস্ত যোগ্য নাগরিকের নাম এসআইআর-এর সময় বাদ পড়েছে কিংবা যাঁদের বয়স নতুন করে ভোটার হওয়ার যোগ্য হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি গিয়ে চিহ্নিত করবেন তাঁরা এবং তাঁদের নতুন করে ফর্ম ৬ পূরণে সবরকম সহায়তা প্রদান করবেন। কমিশনের কড়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক বিএলও-কে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন ভোটারের বাড়িতে সশরীরে পৌঁছতে হবে এবং সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে এই গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিএলও-রা তাঁদের ফিল্ড রেজিস্টারে সংশ্লিষ্ট ভোটারের বর্তমান অবস্থান নথিভুক্ত করবেন এবং কাদের ফর্ম ৬ পূরণ করানো হলো, সেই তথ্য নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করবেন।

IMG 20261003 WA0010
Pakistan Fake Asif Exposed: ভারতের দাবি নস্যাৎ করতে গিয়ে নকল লস্কর জঙ্গি সাজিয়ে চরম হাসির খোরাক পাকিস্তান।

আরও পড়ুনঃ Pakistan Fake Asif Exposed: লস্কর জঙ্গি ‘নকল’ আসিফকে সামনে এনে চরম হাসির খোরাক পাকিস্তান।

উল্লেখ্য, এর আগে এসআইআর চলাকালীন নতুন ভোটার হওয়ার জন্য ফর্ম ৬ পূরণের ক্ষেত্রে একটি অতিরিক্ত ও জটিল ঘোষণাপত্র বা ডিক্লেয়ারেশন যুক্ত করা হয়েছিল। যেখানে আবেদনকারীকে জানাতে হতো যে, তাঁর বাবা-মা কিংবা ঠাকুরদা-ঠাকুমার নাম পূর্ববর্তী কোনো এসআইআর তালিকার অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না। এই অতিরিক্ত নিয়মের কারণে বহু সাধারণ মানুষের পক্ষে পুরোনো নথি জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠেছিল এবং কমিশনের অন্দরেও এই নিয়ম নিয়ে চরম মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। তবে নয়া নির্দেশিকায় কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, এসআইআর সমাপ্ত হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষেত্রে এই অতিরিক্ত ডিক্লেয়ারেশনের আর কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ, এখন সাধারণ নাগরিকেরা ১৯৬০ সালের ভোটার পঞ্জিকরণ নিয়মাবলী অনুযায়ী প্রচলিত সহজ ফর্ম ৬ পূরণ করেই খুব সহজে তালিকায় নিজেদের নাম তুলতে পারবেন।

IMG 20261003 WA0012

জাতীয় স্তরে এই এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে। সর্বভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া তালিকা মিলিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে বাংলার ২৭ লাখ নামও রয়েছে। তবে এই বিশাল সংখ্যাটিকে সরাসরি ‘ভুলবশত বাদ পড়া ভোটার’ হিসেবে মানতে নারাজ নির্বাচন কমিশন। কমিশনের যুক্তি হলো, দীর্ঘদিন ধরে মৃত ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম থাকা দ্বৈত ভোটার কিংবা স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন করা মানুষদের নামই এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে বাদ পড়া ১৩ কোটি মানুষের প্রত্যেকেই যে যোগ্য ভোটার ছিলেন, তা বলা ভুল। তবে কমিশন এটাও নিশ্চিত করতে চায় যে, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে যেন কোনো বৈধ নাগরিকের নাম বাদ না থাকে। তাই নিজের নাম যাচাই করে অবিলম্বে বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

IMG 20261003 WA0013

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img