Suvendu Adhikari Nandigram Bypoll: ৬ অক্টোবর ‘বন্ধুত্ব দিবস’! ভবানীপুর না ছাড়ার আসল কারণ জানালেন শুভেন্দু

Published:

Suvendu Adhikari Nandigram Bypoll: সংখ্যালঘুদের বিরাট বার্তা, উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামে প্রচারে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

Suvendu Adhikari Nandigram Bypoll: আগামী ৬ই অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত উপনির্বাচন। আর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মাত্র ৪ দিন আগে শুক্রবার নিজের ছেড়ে আসা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারে আক্ষরিক অর্থেই ঝড় তুললেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় মেগা প্রচার সারেন তিনি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক হিসেবে ১ সময় পরিচিত এই এলাকায় নিজেদের আধিপত্য আরও সুদৃঢ় করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান শাসকদল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী নিজে যখন সম্পূর্ণ শক্তি নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছেন, তখন এই উপনির্বাচনের লড়াই যে কার্যত ১ তরফা হতে চলেছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। শুক্রবারের এই সুবিশাল জনসভা থেকে নন্দীগ্রামের সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করতেও ছাড়েননি তিনি। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে নন্দীগ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান আজও অটুট রয়েছে।

Advertisement Andaman Vibes

এদিনের প্রচারসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সবচেয়ে বড় এবং তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক চালটি ছিল সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর বিশেষ বার্তা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের ২টো ব্লক মিলিয়ে কমবেশি প্রায় ৩৫ শতাংশ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার রয়েছেন, যাঁদের সমর্থন যেকোনো প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে ১টি অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটারদের সম্পূর্ণভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগামী ৬ই অক্টোবর ভোটের দিনটিকে পবিত্র ‘বন্ধুত্ব দিবস’ হিসেবে পালন করার ডাক দিয়েছেন। তিনি ওই এলাকার অন্তত ৫টি নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকার মানুষদের সরাসরি উদ্দেশ্য করে বলেন যে, তাঁরা যেন ৬ই অক্টোবর ইভিএমের মাধ্যমে নতুন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকারের আমলে ইতিমধ্যেই অনেকেই বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন এবং যাঁরা এখনও পাননি, আগামী দিনে তাঁরাও সমস্ত রকম সাহায্য পেয়ে যাবেন। ভেদাভেদের রাজনীতি ভুলে সকলকে ১ ছাতার তলায় আসার এই আহ্বান রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছে।

IMG 20261002 WA0125
CJP Protest Mumbai: নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে শাবানা আজমি ও বিশাল দাদলানির প্রতিবাদ

আরও পড়ুনঃ CJP Protest Mumbai: উত্তাল শিবাজি পার্ক! নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে একজোট বলিউড তারকারা।

নন্দীগ্রামের এই হাইভোল্টেজ প্রচারমঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন যে, বিগত নির্বাচনে ২০৮টি আসনের মধ্যে নন্দীগ্রাম বাদে ২০৭টি আসনেই ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল জয়লাভ করেছে এবং বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস বলে কোনো পার্টির আর কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট নেই। সাধারণ মানুষ যদি ইভিএমে জোড়াফুল প্রতীক খোঁজার চেষ্টাও করেন, তবুও তা আর পাবেন লালন বলে তিনি তীব্র শ্লেষের সঙ্গে মন্তব্য করেন। এর পাশাপাশি, তিনি কেন ভবানীপুর আসনটি না ছেড়ে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়েছেন, তার ১টি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর কারণও তিনি এদিন প্রকাশ্যে আনেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, তিনি যদি ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দিতেন, তবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পুনরায় সেই আসনে উপনির্বাচনে দাঁড়িয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে যেতেন, আর ঠিক সেই রাস্তাটি চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার জন্যই তিনি এই সুকৌশলী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বারবার মনে করিয়ে দেন যে, তিনি আগে যেমন নন্দীগ্রামের আত্মীয় ছিলেন, আজও আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন।

Advertisement Burger4u

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা প্রচার ঘিরে নন্দীগ্রামে পদ্ম শিবিরের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ১টি আলাদা ধরনের প্রবল উৎসাহ এবং উন্মাদনা লক্ষ করা গিয়েছে। শুক্রবার নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে পর পর ৩টি বিশাল জনসভা করেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। খোদ রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানকে নিজের সমর্থনে ময়দানে নামতে দেখে স্বাভাবিকভাবেই জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী হয়ে উঠেছেন প্রার্থী নিজেও। হাসিরানি দেবী সংবাদমাধ্যমের সামনে অত্যন্ত উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জানান যে, গত বৃহস্পতিবার তাঁর সমর্থনে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রচার করে গিয়েছেন এবং শুক্রবার স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তাঁর হয়ে ৩টি সভা ও নিবিড় জনসংযোগ করেছেন, যা তাঁর কাছে ১টি বিরাট বড় পাওনা। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন যে, এমনিতেই তিনি এই ভোটে নিশ্চিতভাবে জিততেন, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর মতো ১ জন প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতার আগমনে তাঁর সেই জয়ের মার্জিন এখন একেবারে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই বলে দিচ্ছে যে ফলাফল কী হতে চলেছে।

Naseeruddin Shah CJP Protest: মুম্বইয়ের আজাদ পার্কে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ
Naseeruddin Shah CJP Protest: মুম্বইয়ের আজাদ পার্কে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের সঙ্গে বর্ষীয়ান বলিউড অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ

আরও পড়ুনঃ Naseeruddin Shah CJP Protest: নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল মুম্বই! বিক্ষোভে নাসিরুদ্দিন শাহ।

নন্দীগ্রামের বুকে দাঁড়িয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক আক্রমণ বা ভোট ভিক্ষাই নয়, আগামী দিনে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের ১টি সুস্পষ্ট রূপরেখাও এদিন তুলে ধরা হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে। বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এলাকার যুবসমাজের উদ্দেশ্যে ১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে নন্দীগ্রাম তথা সমগ্র রাজ্য থেকে পরিযায়ী শ্রমিক প্রথার সম্পূর্ণ অবসান ঘটানো হবে। বিভিন্ন নতুন কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলার বেকার যুবকদের নিজেদের রাজ্যেই উপযুক্ত ও সম্মানজনক কাজে নিয়োগ করার ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি কঠিন আশ্বাস দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আগামী ৬ই অক্টোবরের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক পারদ এখন একেবারে চরমে পৌঁছেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক প্রচার এবং সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কাছে টানার এই সুকৌশলী প্রয়াস ইভিএমে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার জন্য এখন শুধুমাত্র আর মাত্র ৪টি দিনের অপেক্ষা। তবে এদিনের সভার পর এটা অন্তত পরিষ্কার যে, নন্দীগ্রামের মাটি এখনও শুভেন্দুর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Advertisement S Bhattacharya

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img