Sealdah Station Upgrade: শিয়ালদহ স্টেশনে তাকলাগানো চমক! তৈরি হচ্ছে মাল্টিপ্লেক্স, গেমিং জোন ও স্লিপিং পড

Published:

Sealdah Station Upgrade: ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী বছর দুর্গাপুজোর আগেই বদলে যাচ্ছে শিয়ালদহ স্টেশন

Kolkata: কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশন শিয়ালদহ এবার একেবারে খোলনলচে বদলে যেতে চলেছে। প্রতিদিন এই স্টেশন দিয়ে প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ নিজেদের গন্তব্যে যাতায়াত করেন। যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং স্টেশনের সার্বিক পরিবেশকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে পূর্ব রেলের তরফ থেকে ১টি মেগা আপগ্রেডেশনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনে খুব শীঘ্রই তৈরি হতে চলেছে ১টি অত্যাধুনিক বিনোদন বা রিক্রিয়েশন সেন্টার। যেখানে একই ছাদের তলায় মাল্টিপ্লেক্স, গেমিং জোন, ফুড কোর্ট, রিটেল আউটলেট এবং অপেক্ষারত যাত্রীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক স্লিপিং পডের মতো একেবারে তাকলাগানো সব ব্যবস্থা থাকতে চলেছে। রেল কর্তৃপক্ষের এই অভিনব উদ্যোগের ফলে শিয়ালদহ স্টেশন আগামী দিনে শুধুমাত্র ১টি সাধারণ ট্রানজিট পয়েন্ট বা যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি ১টি অত্যাধুনিক, যাত্রীবান্ধব এবং বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ১টি গন্তব্যে পরিণত হবে।

Koel Mallick BJP Candidate: জল্পনার অবসান! তৃণমূল ছেড়ে এবার রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক

পূর্ব রেলের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই এই অত্যাধুনিক বিনোদন জোনটি তৈরি, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ১টি বেসরকারি সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। রেলের আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন বিনোদন কেন্দ্রটিতে মোট ৩টি ওপরের তলা বা আপার ফ্লোর এবং ১টি প্রশস্ত ছাদ বা টেরেস থাকবে। তবে স্টেশনের একতলার অংশটি, যা রেলওয়ে ইতিমধ্যেই নিজেদের মতো করে উন্নত করেছে, তা এই লাইসেন্সপ্রাপ্ত এলাকার সম্পূর্ণ বাইরে রাখা হবে। এই বিশাল এবং অত্যাধুনিক কমপ্লেক্সের ভেতরে যাত্রীদের জন্য দৈনন্দিন ব্যবহারের সমস্ত প্রয়োজনীয় সামগ্রী বা গ্রোসারি, আধুনিক পোশাক এবং আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র, বিভিন্ন নামীদামি কোম্পানির ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটস এবং ১টি চোখধাঁধানো আধুনিক গেমিং জোন থাকবে। এছাড়াও বিনোদনের জন্য ১টি বড় মাল্টিপ্লেক্স, বিশাল ফুড কোর্ট, ক্যাফেটেরিয়া এবং দেশি-বিদেশি জনপ্রিয় খাদ্য প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ডের একাধিক বড় আউটলেট তৈরি করা হবে। দূরপাল্লার ট্রেনের জন্য অপেক্ষারত যাত্রীদের যাতে কোনো রকম কষ্ট না হয়, তার জন্য স্বল্পমেয়াদী বিশ্রামের সুবিধার্থে বেশ কয়েকটি আরামদায়ক স্লিপিং পডও স্থাপন করা হবে।

Advertisement Andaman Vibes

শিয়ালদহ স্টেশনের এই বিপুল এবং ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ১টি বড়সড় এবং ইতিবাচক প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। এই মেগা প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হলে রিটেল, খাদ্য ও পানীয়, হাউস কিপিং, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক পরিষেবা খাতে ব্যাপক হারে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বা ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা এই মেগা প্রকল্পটির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এই বিশাল প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে স্টেশনের সার্বিক নান্দনিক এবং কার্যকরী পরিবেশের ১টি অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হবে। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ যাত্রীর পদচারণায় মুখরিত এই ব্যস্ত স্টেশনে এমন প্রিমিয়াম বা উচ্চমানের সুযোগ-সুবিধা চালু হলে, তা সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সামগ্রিক অভিজ্ঞতাকে ১টি সম্পূর্ণ নতুন এবং আরামদায়ক স্তরে উন্নীত করবে।

Abhishek Banerjee Letter to Speaker: স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ? স্পিকারকে কড়া চিঠি অভিষেকের

এই মেগা প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি এবং সময়সীমা সম্পর্কেও রেলের তরফ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। রেল আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, এই পুরো প্রকল্পটির কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে ঠিক ১ বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রথমেই এই রিক্রিয়েশন সেন্টারের চূড়ান্ত নকশা বা ড্রয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে রেলের উচ্চপদস্থ কর্তাদের দ্বারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে এবং তারপর তা অনুমোদিত হবে। ড্রয়িং অনুমোদনের পরেই সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি তাদের মূল নির্মাণ কাজ পুরোদমে শুরু করবে। রেলের আশা, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের দুর্গাপুজোর আগেই শিয়ালদহের এই মেগা মার্ট বা বিনোদন কেন্দ্রটি যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত হয়ে যাবে। আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে রেলের এই চুক্তির মেয়াদ আপাতত ১০ বছরের জন্য স্থির করা হয়েছে। এবং এই গোটা আধুনিকীকরণ প্রকল্পের মোট চুক্তি মূল্য ধার্য করা হয়েছে জিএসটি সহ ৩৯ কোটি টাকারও বেশি।

Advertisement

শিয়ালদহ স্টেশনের এই নব কলেবর শুধুমাত্র যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যই কয়েক গুণ বৃদ্ধি করবে না, পাশাপাশি ভারতীয় রেলের নিজস্ব আয়ও আগামী দিনে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেলের পদস্থ আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন যে, শিয়ালদহ স্টেশনের সেন্ট্রাল গেট বা মূল ফটকটিকে বিশেষভাবে নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে মেল এবং এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীরা কোনো রকম ঝামেলা বা যানজট ছাড়াই সরাসরি স্টেশনে প্রবেশ করতে এবং স্টেশন থেকে খুব সহজেই বেরিয়ে যেতে পারেন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় মোড়া এই নতুন শিয়ালদহ স্টেশন আগামী দিনে কলকাতা শহরের অন্যতম প্রধান ১টি আকর্ষণ কেন্দ্র হয়ে উঠবে। স্লিপিং পড থেকে শুরু করে মাল্টিপ্লেক্সের মতো অত্যাধুনিক সুবিধা ভারতের খুব কম রেলওয়ে স্টেশনেই বর্তমানে উপলব্ধ রয়েছে। সেই দিক থেকে বিচার করলে পূর্ব রেলের এই সাহসী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ১টি বড়সড় মাইলফলক। এখন শুধু অপেক্ষা আগামী বছর দুর্গাপুজোর, যখন এই স্বপ্নের মেগা প্রকল্প বাস্তবে রূপ নিয়ে শিয়ালদহ স্টেশনের আপামর সাধারণ যাত্রীদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে তার দরজা খুলে দেবে।

Advertisement S Bhattacharya

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img