Koel Mallick BJP Candidate: সুখেন্দু ফর্মুলায় ৩ মাসের সাংসদ পদ ছেড়ে পদ্মশিবিরে যোগ দিলেন টলিউড অভিনেত্রী
Koel Mallick BJP Candidate: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের ১টি বড়সড় ও চমকপ্রদ রাজনৈতিক পালাবদল! বিগত কয়েকদিনের সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভার প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হলেন বাংলার অত্যন্ত জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। রবিবার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ২ রাজ্যের রাজ্যসভা উপনির্বাচনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের জন্য কোয়েল মল্লিক, যাঁর আসল নাম রুক্মিণী মল্লিক, তাঁকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে এবং উত্তরাখণ্ডের জন্য প্রার্থী করা হয়েছে দীনেশ আর্যকে। আগামী ১৬ই অক্টোবর এই শূন্য আসনগুলিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, কোয়েল মল্লিকের নিজের ছেড়ে যাওয়া শূন্য আসনেই এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সেই একই আসনে এবার শুধুমাত্র দলীয় ফুল বদল করে বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হচ্ছেন তিনি। এই ঘোষণার পর রাজ্য রাজনীতিতে ১টি প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং বিরোধী শিবিরে ১টি বড়সড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যসভার এই উপনির্বাচনের সম্পূর্ণ নির্ঘণ্ট ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এবং প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৬ই অক্টোবর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার একেবারে শেষ দিন হিসেবে ধার্য করা হয়েছে। এরপর ৭ই অক্টোবর সমস্ত জমা পড়া মনোনয়ন পত্রগুলির স্ক্রুটিনি বা পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই পর্ব সম্পন্ন করা হবে প্রশাসনিক আধিকারিকদের দ্বারা। কোনো প্রার্থী যদি নিজের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে চান, তবে তার জন্য আগামী ৯ই অক্টোবর পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৬ই অক্টোবর, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে ভোটগ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই একই দিনে, অর্থাৎ ১৬ই অক্টোবর ভোটগ্রহণের শেষে গণনা সম্পন্ন করে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনের দিকে এখন গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের তীক্ষ্ণ নজর নিবদ্ধ রয়েছে, কারণ বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে এই জয়-পরাজয় ১টি বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে।
কোয়েল মল্লিকের এই রাজনৈতিক শিবির বদলের নেপথ্যের ইতিহাসটি বেশ চমকপ্রদ এবং রাজ্য রাজনীতির সাম্প্রতিক পালাবদলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চলতি বছরের ৬ই এপ্রিল তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই শপথ গ্রহণের মাত্র ৩ মাসের মধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে যায় এবং তৃণমূল সরকারের দুর্ভাগ্যজনক পতন ঘটে। গত ৪ঠা মে বিধানসভা নির্বাচনে দলের চরম ভরাডুবি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ১টি বড়সড় ভাঙন ধরতে শুরু করে এবং দলের একের পর এক হেভিওয়েট নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী শিবির বদল করে বিজেপিতে যোগ দিতে শুরু করেন। এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই গত ১৬ই জুলাই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে হঠাৎ করেই ইস্তফা দিয়ে দেন কোয়েল মল্লিক। ইস্তফা দেওয়ার পরদিনই বিজেপির শীর্ষনেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর ১টি গোপন বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেই তাঁর দলবদলের জল্পনা প্রবল আকার ধারণ করেছিল, যা অবশেষে রবিবার সম্পূর্ণ সত্যি প্রমাণিত হলো।

টলিউড অভিনেত্রীর এই দলবদল এবং পুনরায় প্রার্থী হওয়ার পিছনে ১টি নির্দিষ্ট এবং অত্যন্ত সুকৌশলী রাজনৈতিক ফর্মুলা কাজ করেছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজ্য রাজনীতিতে এই বিশেষ কৌশলটি এখন ‘সুখেন্দু ফর্মুলা’ নামেই সবচেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করেছে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেবও ঠিক একই কায়দায় রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ পদ থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলিতে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে উপনির্বাচন ঘোষণা হলে ভারতীয় জনতা পার্টি তাঁদেরই সেই আসনগুলিতে পুনরায় নিজস্ব প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করায় এবং বর্তমানে ওই ৩ জনই রাজ্যসভায় বিজেপির সাংসদ হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করছেন। ঠিক সেই একই রাজনৈতিক ফর্মুলা প্রয়োগ করেই এবার কোয়েল মল্লিককেও তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে পদ্মশিবিরের তরফ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থিপদ দেওয়া হলো। এর ফলে রাজ্যসভায় বিজেপির সাংসদ সংখ্যা যে আরও ১টি বৃদ্ধি পেতে চলেছে এবং দলের শক্তি যে কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে, তা কার্যত নিশ্চিত।

বাংলার ঘরে ঘরে ১ জন অত্যন্ত জনপ্রিয় টলিউড অভিনেত্রী হিসেবে কোয়েল মল্লিকের ১টি বিরাট বড় ফ্যানবেস এবং বিপুল জনসমর্থন রয়েছে। তাঁর এই আচমকা রাজনৈতিক রূপান্তর রাজ্যের সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক মহলে ১টি অন্যতম প্রধান চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে মাত্র ৩ মাসের স্বল্পস্থায়ী সাংসদ জীবন অতিবাহিত করার পর ঠিক কী কারণে তিনি হঠাৎ এমন ১টি বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন এবং কেনই বা তিনি সম্পূর্ণ বিপরীত ১টি রাজনৈতিক আদর্শকে আপন করে নিলেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একাধিক কৌতূহলী প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গভীরভাবে মনে করছে যে, তাঁর মতো ১ জন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির অত্যন্ত জনপ্রিয় তারকাকে দলে টেনে প্রার্থী করার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে দলের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের কাছে আরও সুদৃঢ় হবে। আগামী ১৬ই অক্টোবরের নির্বাচনে তাঁর জয় কার্যত সময়ের অপেক্ষা হলেও, এই ফুল বদলের প্রভাব আগামী দিনে বাংলার সামগ্রিক রাজনীতিতে কতটা সুদূরপ্রসারী হয়, সেটাই এখন দেখার। কোয়েল মল্লিকের এই নতুন রাজনৈতিক ইনিংস ঠিক কতটা সফল হয়, তার উত্তর দেবে আগামী সময়।




