Gyanesh Kumar Corruption Probe: ২১৫ কোটির প্রকল্পে মালয়েশীয় ইঞ্জিনিয়ারের আত্মহত্যা, ভিজিল্যান্স তদন্তের মুখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার
Gyanesh Kumar Corruption Probe: ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে এই মুহূর্তে অন্যতম চর্চিত নাম হলো মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় এবং বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সরগরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর ঠিক এই প্রবল ডামাডোলের মাঝেই এবার সম্পূর্ণ পৃথক ১টি পুরনো ঘটনায় ফের চরম বিপাকে পড়লেন দেশের এই শীর্ষ নির্বাচন আধিকারিক। তাঁর বিরুদ্ধে এবার সরাসরি দুর্নীতির মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। জানা গিয়েছে, দীর্ঘ কয়েক বছর আগের অর্থাৎ ২০০৬ সালের ১টি চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রেক্ষিতে এই নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপে স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় রাজনীতিতে ১টি নতুন ঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে। কেরল সরকারের এই কড়া নির্দেশের পর মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর যে চাপ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেল, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে? সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবং কেরল প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ঘটনাটি ২০০৬ সালের। সেই সময় জ্ঞানেশ কুমার কেরল সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পূর্ত দপ্তর বা পিডব্লিউডি-র সচিব পদে কর্মরত ছিলেন। তাঁর সেই কার্যকালেই দপ্তরের অন্দরে ব্যাপক অনিয়ম এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। এই অভিযোগের মূলে রয়েছে কেরল রাজ্য পরিবহণ প্রকল্প বা কেএসটিপি-এর অধীনে রাস্তা সংস্কারের কাজের ১টি বড়সড় টেন্ডার। সেই সময় অঙ্গমালী থেকে তিরুঅনন্তপুরম পর্যন্ত বিখ্যাত ‘এমসি রোড’ পুনর্নির্মাণের জন্য ২১৫ কোটি টাকার ১টি মেগা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাঙ্কের বিপুল অর্থপুষ্ট এই প্রকল্পের কাজের দায়িত্ব পেয়েছিল ‘প্যাটি-বেল’ বা PATI-BEL নামের ১টি কনসর্টিয়াম, যা মূলত মালয়েশীয় ১টি সংস্থা এবং ভাগীরথী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১টি যৌথ উদ্যোগ ছিল। আর এই বিপুল টাকার প্রকল্পের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে ১টি মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা, যা এখন নতুন করে রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ওই ‘প্যাটি-বেল’ কনসর্টিয়ামের সঙ্গে যুক্ত মালয়েশীয় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার লি সি বিন-এর রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনা। সেই সময় ওই ইঞ্জিনিয়ার আচমকা আত্মহত্যা করেন এবং পুলিশ তাঁর কাছ থেকে ১টি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মৃত ওই ইঞ্জিনিয়ারের সুইসাইড নোটে তৎকালীন পূর্ত সচিব জ্ঞানেশ কুমারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সময়ে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু হলেও, পরবর্তীতে প্রবল রাজনৈতিক এবং বাহ্যিক প্রভাবশালীদের চাপে সম্পূর্ণ সত্যি আর কোনোদিন প্রকাশ্যে আসেনি বলে জোরালো দাবি করা হয়েছে। প্রভাবশালী মহলের চাপে সেই আত্মহত্যার মামলা এবং দুর্নীতির অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ এত বছর পর সেই পুরনো ফাইলই নতুন করে খুলতে চলেছে কেরল সরকার। ইতিমধ্যেই এই মামলা সংক্রান্ত প্রাথমিক তদন্তের সমস্ত পুরনো ফাইল তলব করেছে কেরলের স্বরাষ্ট্র দপ্তর, যা জ্ঞানেশ কুমারের জন্য ১টি বড় অশনিসংকেত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই পুরনো মামলাটি নতুন করে খোলার নেপথ্যে রয়েছে কংগ্রেস নেতা ভেনুগোপালের ১টি সাম্প্রতিক পদক্ষেপ। গত শনিবার তিনি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্তের জোরালো দাবি জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ১টি অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কেরলের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা পুনরায় এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী চেন্নিথালা অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, তিনি নিজে অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে খতিয়ে দেখেছেন এবং তার মধ্যে বেশ কিছুটা সত্যতাও খুঁজে পেয়েছেন। তিনি জোরালোভাবে বলেন, “আমি নিশ্চিত যে এ বিষয়ে ১টি বিস্তারিত ভিজিল্যান্স তদন্ত অত্যন্ত জরুরি।” তিনি আরও জানান যে, এই বিষয়ে তিনি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সথীসনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনার পরেই ভিজিল্যান্স অধিকর্তা মনোজ আব্রাহামকে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করে ১টি বিস্তারিত এবং নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেরল সরকারের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরো বা ভিএসিবি এই তদন্তভার গ্রহণ করায় বিষয়টি এখন অত্যন্ত ঘোরালো হয়ে উঠেছে। ১ দিকে গোটা দেশজুড়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যখন হাজারো প্রশ্ন উঠছে এবং সিজেপি-র মতো সংগঠনগুলি আগামী ১০ই অক্টোবর দিল্লিতে মহামিছিলের ডাক দিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই এই নতুন দুর্নীতির তদন্ত জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে আরও বেশি জোরালো করে তুলবে। ২১৫ কোটি টাকার সেই পুরনো বিশ্বব্যাঙ্কের প্রকল্পে ঠিক কী মাত্রায় দুর্নীতি হয়েছিল এবং মালয়েশীয় ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর নেপথ্যে ঠিক কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা ভিজিল্যান্সের তদন্তেই স্পষ্ট হবে। তবে এই মুহূর্তে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের মতো ১টি সাংবিধানিক পদের অধিকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির তদন্ত শুরু হওয়াটা ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ১টি অত্যন্ত নজিরবিহীন ঘটনা। আগামী দিনে এই তদন্তের রিপোর্ট কী আসে এবং তার জেরে জাতীয় রাজনীতিতে কী নতুন সমীকরণ তৈরি হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রাখছে গোটা দেশ।




