Suvendu Adhikari on Brazil Match: আগের সরকারের সমালোচনা করে উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য বিনামূল্যে ২২,০০০ টিকিট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
Suvendu Adhikari on Brazil Match: কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে শনিবার রাতে আয়োজিত ভারত বনাম ব্রাজিলের মেগা ফুটবল ম্যাচটি শুধুমাত্র ১টি ক্রীড়া অনুষ্ঠানই ছিল না, বরং তা ছিল বর্তমান রাজ্য প্রশাসনের কাছে ১টি বিরাট বড় অগ্নিপরীক্ষা। আর সেই কঠিন পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে আপামর রাজ্যবাসীর মন জয় করে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই মেগা হাইভোল্টেজ ম্যাচ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর রীতিমতো স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে প্রশাসনিক মহল। খোদ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে দাবি করেছেন যে, ফিফার আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করেই এই সুবিশাল আয়োজনে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। এই সফল আয়োজনের পরেই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যবাসীর মনে গত বছর ডিসেম্বর মাসে ঘটা সেই দুর্ভাগ্যজনক মেসি কাণ্ডের চরম লজ্জার স্মৃতি নতুন করে ফিরে এসেছে। আগের সরকারের আমলে হওয়া সেই চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার কালিমা মুছে ফেলে বর্তমান সরকার কীভাবে এই আন্তর্জাতিক মানের ম্যাচটি সম্পূর্ণ ত্রুটিহীনভাবে সম্পন্ন করল, তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন এবং প্রশাসনের এই সাফল্যের নেপথ্যের আসল কারণগুলি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

বর্তমান সরকারের এই অসামান্য সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে স্বভাবতই গত বছর যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া লিওনেল মেসির ম্যাচের সেই চরম নৈরাজ্যের প্রসঙ্গটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিকভাবেই উঠে এসেছে। গত বছর ডিসেম্বরে তৎকালীন রাজ্য সরকারের আমলে ফুটবল জাদুকর মেসিকে স্বচক্ষে ১ বার দেখার জন্য সারা রাজ্য থেকে হাজার হাজার দর্শক যুবভারতীতে ভিড় জমিয়েছিলেন। অনেকেই নিজেদের বহু কষ্টার্জিত টাকা খরচ করে চড়া দামে টিকিট কিনেছিলেন। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘিরে প্রবল ভিড়, চরম প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার অভাবের জেরে পরিস্থিতি ১ সময় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। চরম ধাক্কাধাক্কি এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে মেসিকে দ্রুত মাঠ ছেড়ে হোটেলে ফিরে যেতে হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক স্তরে রাজ্যের ভাবমূর্তিকে চরমভাবে কালিমালিপ্ত করেছিল। সবচেয়ে লজ্জাজনক বিষয় ছিল যে, সাধারণ দর্শকেরা যখন হাহাকার করছেন, তখন তৎকালীন সরকারের একাধিক নেতা-মন্ত্রী এবং খোদ পুলিশ আধিকারিকেরা মাঠে নেমে নিয়ম ভেঙে মেসির সঙ্গে সেলফি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন। টিকিট কেটেও প্রিয় তারকাকে দেখতে না পেয়ে হতাশ দর্শকেরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন এবং স্টেডিয়ামে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়েছিলেন।

আগের সরকারের আমলের সেই চরম লজ্জা এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার ব্রাজিল ম্যাচের আগে অত্যন্ত কঠোর এবং সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল বর্তমান পুলিশ ও প্রশাসন। মেসি কাণ্ডের লজ্জার পর ঠিক কীভাবে সফল হলো এই ভারত-ব্রাজিল ম্যাচের আয়োজন? এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এই মেগা আয়োজনের ক্ষেত্রে তাঁরা চরম সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন এবং ফিফার সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলেছিলেন। তিনি অত্যন্ত কটাক্ষের সুরে আগের সরকারের সমালোচনা করে বলেন যে, ফুটবল মানেই হলো কলকাতা, আর এই আবেগকে সম্মান জানাতেই তাঁরা শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো আপস করেননি। তাঁর সবচেয়ে বড় দাবি হলো, এই ম্যাচে তাঁদের সরকারের কোনো মন্ত্রী বা পুলিশ আধিকারিককে মাঠের মধ্যে ঢুকে কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সেলফি তুলতে দেখা যায়নি। শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এবং অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে তাঁরা সব টিকিট বিক্রি করতে কড়াভাবে বারণ করে দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র এই কঠোর পদক্ষেপগুলির ফলেই এত বড় মাপের ১টি ম্যাচ সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে এবং ডিসিপ্লিনডভাবে কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ Sumit Roy Arrested: কালীঘাটের বাসিন্দাদের নামে সিম! সুমিতের নেপথ্যে বড় লেনদেন?
প্রশাসনিক সাফল্যের এই খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশি শনিবার রাতে রাজ্যবাসীর জন্য আরও ১টি বিরাট বড় এবং চমকপ্রদ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত বছর লিওনেল মেসিকে দেখতে গিয়ে যে সমস্ত ফুটবলপ্রেমী দর্শক চরম বিশৃঙ্খলার কারণে টিকিট কেটেও চরম প্রতারিত এবং বঞ্চিত হয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি ১টি বড়সড় ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেছেন। আগামী ৬ই অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে বহু প্রতীক্ষিত ভারত বনাম উরুগুয়ে ম্যাচ। আর এই হাইভোল্টেজ মেগা ম্যাচের জন্যই তিনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মোট ২২,০০০ টিকিট দেওয়ার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন। তৎকালীন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দর্শকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষের সেই ক্ষোভ প্রশমিত করতে এবং তাঁদের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা মেগা ম্যাচের শেষে কলকাতার ক্রীড়ামহলে ১টি প্রবল উচ্ছ্বাস এবং উন্মাদনার সৃষ্টি করেছে।
![]()
এই বিপুল সংখ্যক বিনামূল্যের টিকিট ঠিক কারা এবং কীভাবে পাবেন, সেই বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ১টি রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, গত বছরের সেই মেসি ম্যাচের সময় যে সমস্ত দর্শকেরা অনলাইনে টিকিট কিনেছিলেন এবং প্রমাণস্বরূপ যাঁদের সমস্ত তথ্য সরকারি সার্ভারে সুরক্ষিত রয়েছে, ঠিক তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতেই এই ২২,০০০ দর্শককে নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করা হবে। তারপর সেই বৈধ এবং বঞ্চিত দর্শকদের আগামী ৬ই অক্টোবরের ভারত-উরুগুয়ে মেগা ম্যাচের টিকিট রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি যাতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হয়, তার জন্য কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রশাসনকে। ২ বারের বিশ্বকাপজয়ী লাতিন আমেরিকান পরাশক্তি উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ভারতের এই আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ ঘিরেও কলকাতায় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১টি প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলার পর ফের ১টি বড় আন্তর্জাতিক ম্যাচ ঘরের মাঠে বসে চাক্ষুষ করার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন কলকাতার ফুটবলপ্রেমীরা, আর সেই আনন্দেই এখন মাতোয়ারা গোটা তিলোত্তমা।




