Abhishek Banerjee Letter to Speaker: স্ট্যান্ডিং কমিটির শীর্ষে কেন বিদ্রোহী সাংসদ? স্পিকারকে কড়া চিঠি অভিষেকের

Published:

Abhishek Banerjee Letter to Speaker: কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নিয়োগে তীব্র আপত্তি তৃণমূলের, রাজ্যসভাতেও সরব ডেরেক

Abhishek Banerjee Letter to Speaker: সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বা স্ট্যান্ডিং কমিটির সাম্প্রতিক রদবদলকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে ফের ১টি বড়সড় বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। লোকসভার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে হঠাৎ করেই তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ কীর্তি আজাদকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর তাঁর জায়গায় সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। কালীঘাট তথা তৃণমূল নেতৃত্বকে কার্যত কোণঠাসা করে লোকসভায় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এই রদবদলে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসক দল। এই বিতর্কিত নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করে এবং গভীর আপত্তি জানিয়ে এবার সরাসরি লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে ১টি অত্যন্ত কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মূল অভিযোগ হলো, যাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সাংসদ পদ খারিজের আবেদন খোদ স্পিকারের কাছে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁকে কোন যুক্তিতে এমন ১টি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির মাথায় বসানো হলো।Advertisementস্পিকারকে লেখা চিঠিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নিজের যুক্তি তুলে ধরেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, গত ২৩শে সেপ্টেম্বর স্পিকারকে ১টি আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন যে, দলত্যাগ বিরোধী আইনে যে ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা চলছে, সেই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় পদে বিবেচনা না করা হয়। অভিষেকের দাবি ছিল, বর্তমানে কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে যাঁরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদেরই যেন সেই পদে বহাল রাখা হয়। কিন্তু তাঁর সেই অত্যন্ত যৌক্তিক আবেদনকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে নতুন করে এই নিয়োগ করা হয়েছে, যা তাঁর পূর্ববর্তী আপত্তির সম্পূর্ণ পরিপন্থী। লোকসভার সদস্যের পরিচয় সংক্রান্ত এমন ১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল বিতর্ক ঝুলিয়ে রেখে কাউকে চেয়ারম্যানের মতো ১টি দায়িত্বশীল পদে বসানো সম্পূর্ণভাবে সংসদীয় রীতির পরিপন্থী বলে চিঠিতে জোরালো দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা।

IMG 20261004 WA00011
Suvendu Adhikari on Brazil Match: যুবভারতীতে ব্রাজিল ম্যাচের সফল আয়োজনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

আরও পড়ুনঃSuvendu Adhikari on Brazil Match: ‘মন্ত্রী-পুলিশ কেউ সেলফি তোলেনি!’ মেসি কাণ্ডের লজ্জার পর কীভাবে সফল ব্রাজিল ম্যাচ?

এই রদবদলের নেপথ্যে থাকা সংসদীয় কোটা নিয়ে অত্যন্ত ধারালো এবং যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেক। চিঠিতে তিনি লিখেছেন যে, সংসদের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচিত সাংসদ সংখ্যা হলো ২৮ জন। কিন্তু যাঁকে রাসায়নিক ও সার সংক্রান্ত কমিটির নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছে, সেই কাকলি ঘোষ দস্তিদার নিজে প্রকাশ্যেই নিজেকে এনসিপিআই সদস্য বলে জোরালো দাবি করেছেন। এই সংক্রান্ত দলত্যাগের মামলাও স্পিকারের দপ্তরে বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। তাহলে ঠিক কোন দলের কোটায় তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়ে রীতিমতো ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। অভিষেক কড়া প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন, যদি তৃণমূলের কোটায় এই পদ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে দলের মনোনীত বৈধ প্রার্থী কীর্তি আজাদকে কেন সরানো হলো? আর যদি এনসিপিআই-এর কোটায় এই পদ দেওয়া হয়, তাহলে কোন আদেশে তাদের সেই নতুন দলীয় পরিচয় লোকসভায় সরকারিভাবে স্বীকৃত হলো এবং ঠিক কোন যুক্তিতে এনসিপিআই এই চেয়ারম্যানশিপ পেল, তা অবিলম্বে স্পষ্ট করা উচিত।Advertisementনিজের চিঠিতে লোকসভার স্পিকারের কাছে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, দলত্যাগের মতো অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ১ জন সাংসদকে এহেন পুরস্কার দেওয়া আদতে দলত্যাগ বিরোধী আইনের মূল উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় চিঠিতে জানিয়েছেন যে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই নতুন নিয়োগকে কোনোভাবেই তৃণমূলকে দেওয়া ১টি ‘চেয়ারম্যান’ পদ হিসেবে কিছুতেই ধরা যায় না। এই সম্পূর্ণ বিতর্কিত এবং অগণতান্ত্রিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে জোরালো আর্জি জানিয়েছেন। অভিষেকের দাবি, এই বেআইনি নিয়োগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দলের তরফ থেকে যথাযথভাবে মনোনীত বৈধ সদস্যকেই অবিলম্বে চেয়ারম্যান পদটি সসম্মানে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এর পাশাপাশি, যে সমস্ত বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে সাংসদ পদ বাতিলের আবেদন জমা পড়ে রয়েছে, অবিলম্বে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই মামলাগুলির নিষ্পত্তি করা হোক বলেও তিনি চিঠিতে জোর সওয়াল করেছেন।

IMG 20261004 WA0004 1
CJP Protest Against CEC: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সিজেপি বা ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকেরা

আরও পড়ুনঃ CJP Protest Against CEC: ‘পুলিশ যেখানে আটকাবে, সেটাই হবে যন্তর মন্তর!’ ১০ই অক্টোবর মেগা আন্দোলনের ডাক সিজেপি-র।

শুধুমাত্র লোকসভাতেই নয়, সংসদীয় কমিটির রদবদল নিয়ে বঞ্চনার জোরালো অভিযোগ উঠেছে রাজ্যসভাতেও। জানা গিয়েছে যে, বাণিজ্য সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ দোলা সেনকে। তাঁর জায়গায় ওই পদে নতুন করে দায়িত্ব পেয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ সুধাংশু ত্রিবেদী। লোকসভার পাশাপাশি রাজ্যসভাতেও মোট ৮টি সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটি নতুন করে পুনর্গঠন করা হয়েছে, আর সেখানেই তৃণমূলকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোণঠাসা করার অভিযোগ উঠেছে। এই চরম বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এবার রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণনকে ১টি কড়া চিঠি লিখেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন। চিঠিতে তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যসভায় বিজেপি সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং ২য় স্থানে রয়েছে কংগ্রেস। এরপরই ৩য় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হলো তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১৯ সালেও রাজ্যসভার ৩য় বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও তৃণমূলকে এমনভাবেই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছিল। পরে সেই ভুল সংশোধন করা হলেও, বর্তমানে ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

IMG 20261003 WA0013

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img