Bayron Biswas Health Update: আগুনে ঝলসে গুরুতর জখম সাগরদিঘির দাপুটে বিধায়ক, ডায়াবেটিস থাকায় প্রবল দুশ্চিন্তায় পরিবার
Murshidabad: মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘির জনপ্রিয় এবং দাপুটে বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের আকস্মিক অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল চাঞ্চল্য এবং গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকালে ধুলিয়ানে নিজের বাসভবনে ১টি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন তিনি। আগুনে তাঁর শরীরের একাধিক অংশ, বিশেষ করে হাত এবং পা মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়েছে। উন্নত এবং অত্যাধুনিক চিকিৎসার জন্য তাঁকে ইতিমধ্যেই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তড়িঘড়ি রাজধানী দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে তিনি দিল্লির ১টি বেসরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক এবং ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর নির্বাচনী এলাকা সাগরদিঘি সহ গোটা মুর্শিদাবাদ জেলায় তাঁর অগণিত অনুগামী এবং শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সকলেই প্রিয় নেতার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রার্থনায় রত হয়েছেন।
পরিবার এবং স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকালে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ানে বিধায়কের নিজস্ব বাসভবনের শোওয়ার ঘরে আচমকাই এই বিধ্বংসী আগুন লাগে। সেই সময় বিধায়ক বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। জানা গিয়েছে যে, তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা বা ব্লাড সুগার হঠাৎ করে অনেকটা কমে যাওয়ায় তিনি অত্যন্ত দুর্বল বোধ করছিলেন এবং সেই কারণেই বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘরে আগুন লেগে যায় এবং তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। স্বামীকে জ্বলন্ত আগুনের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীও বেশ কিছুটা আহত এবং দগ্ধ হন। তড়িঘড়ি তাঁদের ২ জনকেই উদ্ধার করে ধুলিয়ানে বিধায়কের নিজস্ব মালিকানাধীন ১টি নার্সিংহোমে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়। স্ত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরেই ছেড়ে দেওয়া হলেও বিধায়কের অবস্থা বেশ গুরুতর হওয়ায় তাঁকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। আগুনে বিধায়কের ২ পায়ের হাঁটু এবং বাঁ হাতের কনুই গভীরভাবে ঝলসে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ধুলিয়ানের ওই নির্দিষ্ট নার্সিংহোমে উন্নত মানের বার্ন ইউনিট বা অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অত্যাধুনিক পরিকাঠামো না থাকায় পরিবারের সদস্যরা রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যান। এরপর কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে রবিবার সকালে বিধায়ককে মুর্শিদাবাদ থেকে ১টি বিশেষ আইসিইউ অ্যাম্বুল্যান্সে করে তড়িঘড়ি কলকাতায় নিয়ে আসা হয়। কলকাতায় এনে তাঁকে ১টি নামী নার্সিংহোমে অস্থায়ীভাবে ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা চাইছিলেন তাঁকে দেশের সেরা চিকিৎসা প্রদান করতে। বিধায়কের দাদা মিল্টন বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমের কাছে জানিয়েছিলেন যে, ভাইয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁরা ভিনরাজ্যের কোনো বড় এবং অত্যাধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোমবার জানা যায় যে রবিবার সন্ধ্যায় ১টি বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে সোজা দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার কারণে দিল্লির ঠিক কোন হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়েছে, তা পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি।
সোমবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়কের দাদা মিল্টন বিশ্বাস জানিয়েছেন যে, বাইরনের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে অনেকটাই স্থিতিশীল রয়েছে, যা কিছুটা হলেও স্বস্তির খবর। তবে তিনি এও জানিয়েছেন যে, বিধায়কের দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার সমস্যা রয়েছে। এই ডায়াবেটিসের কারণে তাঁর শরীরের পোড়া ক্ষতগুলো সহজে শুকোতে চাইবে না এবং সেখান থেকে মারাত্মক সংক্রমণের ভয় থেকে যাচ্ছে। আর ঠিক সেই কারণেই পরিবারের সকলে তাঁর পোড়া ক্ষত নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগে রয়েছেন এবং কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে সর্বোচ্চ এবং সেরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন। অন্যদিকে, বিধায়কের এই দগ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে নানা ধরনের গুজব এবং জল্পনা ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে সেই সমস্ত ভিত্তিহীন জল্পনাকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে তাঁর দাদা জানিয়েছেন যে, সম্ভবত ঘরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র বা এসি-তে শর্টসার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুন লেগেছিল। যদিও পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত আগুনের সঠিক কারণ নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি, তদন্ত চলছে।

এই মুহূর্তে রাজনীতির ময়দান পেরিয়ে সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসার ঘেরাটোপে বন্দি রয়েছেন সাগরদিঘির এই চর্চিত বিধায়ক। তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার বরাবরই অত্যন্ত ঘটনাবহুল এবং বর্ণময় থেকেছে। ২০২৩ সালে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের বহু চর্চিত উপনির্বাচনে বামফ্রন্ট সমর্থিত জাতীয় কংগ্রেসের টিকিটে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন বাইরন বিশ্বাস। তাঁর সেই জয় রাজ্য রাজনীতিতে রীতিমতো আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি দল বদল করে রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন এবং ২০২৬ সালের মেগা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকেই পুনরায় জয়লাভ করেন। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি সাম্প্রতিককালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন দল ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন। রাজনীতির ময়দানে তাঁর এই বর্ণময় উপস্থিতি তাঁকে সবসময় চর্চায় রেখেছে। আপাতত তাঁর এই বিপদের দিনে সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে তাঁর দ্রুত এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা কামনা করছেন রাজ্যের আপামর মানুষ এবং তাঁর অগণিত অনুগামীরা।




