Murshidabad News Bayron Biswas: কীভাবে নিজের বাড়িতেই ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা? মুখ খুললেন বিধায়কের দাদা মিল্টন বিশ্বাস
Murshidabad News Bayron Biswas: মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে আচমকাই ১টি বড়সড় এবং উদ্বেগজনক খবরের উদয় হয়েছে। শনিবার ভরদুপুরে সাগরদিঘির বর্তমান বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের নিজের বাড়িতেই ঘটে গিয়েছে ১টি অত্যন্ত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান ডাকবাংলো এলাকায় অবস্থিত তাঁর নিজস্ব বাসভবনে হঠাৎ করেই দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন খোদ বিধায়ক বায়রন বিশ্বাস। বর্তমানে তিনি ধুলিয়ানের ১টি পারিবারিক বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বা ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে অত্যন্ত কড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। শনিবার দুপুরে হঠাৎ করেই বিধায়কের ঘরের জানলা দিয়ে গলগল করে কালো ধোঁয়া এবং আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে আসতে দেখেন স্থানীয় সাধারণ মানুষজন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে এলাকায় প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তড়িঘড়ি তাঁকে প্রায় অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গোটা মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে তাঁর অনুগামীদের মধ্যে ১টি প্রবল উৎকণ্ঠা এবং দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।

ঠিক কীভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক এবং প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা? এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলেছেন খোদ বিধায়কের দাদা মিল্টন বিশ্বাস। তিনি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, শনিবার দুপুরে আচমকাই বায়রন বিশ্বাসের সুগার লেভেল মারাত্মকভাবে ফল করে বা কমে যায়। শারীরিক এই আকস্মিক অসুস্থতার কারণেই তিনি নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন এবং ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। মিল্টন বিশ্বাসের মতে, সেই সময়েই ঘরের মধ্যে থাকা এসি বা এয়ার কন্ডিশনার মেশিনটি প্রবল শব্দে ফেটে যায় এবং সেখান থেকেই মুহূর্তের মধ্যে গোটা ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পেরে বায়রন যখন প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন, ঠিক সেই সময়েই তিনি আগুনের কবলে পড়েন এবং গুরুতরভাবে অগ্নিদগ্ধ হন। এই মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের জেরে বায়রন বিশ্বাসের ২ পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গিয়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে এবং তাঁর বাম হাতের কনুইয়ের নিচের অংশও বেশ কিছুটা অগ্নিদগ্ধ হয়েছে বলে তাঁর পরিবার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। দাদা আরও জানান যে, আগুন লাগার ঘটনায় পরিবারের আর কোনো সদস্য আহত হননি, শুধুমাত্র বায়ড়নের ঘরটিই সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়েছে।

দুর্ঘটনার ঠিক পরপরই বিধায়কের শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা মহলে প্রবল জল্পনা এবং চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে বায়রন বিশ্বাসের পরিবারের তরফ থেকেই জানানো হয়েছিল যে, তাঁর শরীরের পোড়া আঘাতের পরিমাণ যথেষ্টই বেশি এবং আঘাত অত্যন্ত গুরুতর। সেই কারণে তাঁকে উন্নত এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার ১টি জরুরি পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছিল। সেই খবর পাওয়া মাত্রই মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিধায়কের দ্রুত চিকিৎসার জন্য সমস্ত রকম আধুনিক পরিকাঠামো সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তাঁকে আর মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়নি। বায়রন বিশ্বাসের পরিবার রবিবার দুপুরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, ধুলিয়ানের ওই পারিবারিক বেসরকারি হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা অত্যন্ত ভালোভাবে চলছে এবং তিনি চিকিৎসায় খুব দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দিচ্ছেন। সেই কারণে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এই মুহূর্তে তাঁকে অন্য কোনো হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার কোনো প্রয়োজন নেই।
![]()
১ জন বর্তমান বিধায়কের বাড়িতে এহেন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের শীর্ষ স্তরেও প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই শনিবার গভীর রাতে বিধায়কের চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত খোঁজখবর নেওয়ার জন্য সরাসরি সামশেরগঞ্জে ছুটে গিয়েছিলেন জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার বর্তমান সুপার সুরিন্দর সিং। তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিধায়কের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ সুপার সুরিন্দর সিং সম্পূর্ণ আশ্বস্ত করে জানান যে, তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে শুনেছেন বিধায়কের আঘাত খুব বেশি গুরুতর বা প্রাণঘাতী নয়। তাঁর শরীরে মূলত ‘সুপার ফেসিয়াল ইনজুরি’ বা ওপরের স্তরের পোড়া ক্ষত রয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর অত্যন্ত নিবিড় চিকিৎসা চলছে। তবে এই অগ্নিকাণ্ডের আসল কারণ অনুসন্ধানে ইতিমধ্যেই আসরে নেমেছে প্রশাসন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন যে, ঠিক কী কারণে এসি মেশিনটি ফেটে গেল তা দমকল বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে এবং এর পাশাপাশি পুলিশের তরফ থেকেও সম্পূর্ণ পৃথক ১টি বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এই দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনার পাশাপাশি বায়রন বিশ্বাসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জীবনও রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত চর্চার ১টি অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বায়রন বিশ্বাস রাজ্যের তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে লড়াই করে সাগরদিঘি কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য রাজনীতিতে ১টি বিরাট বড় পালাবদল ঘটে। ওই একই রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের চরম ভরাডুবি এবং পতনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পূর্ণ পরিবর্তন করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল এবং হাত ছেড়ে দিয়ে তিনি বর্তমানে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তাঁর এই শিবির বদল মুর্শিদাবাদের স্থানীয় রাজনীতিতে ১টি বিরাট বড় প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমানে তিনি ওই নতুন শিবিরের ১ জন অত্যন্ত সক্রিয় নেতা হিসেবে কাজ করছিলেন। আপাতত তাঁর অনুগামীরা এবং রাজনৈতিক সহকর্মীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন এবং তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে কবে ফের রাজনীতির ময়দানে ফিরে আসেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সকলে।




