Indian Navy Honeytrap Case: পাক মহিলার হানিট্র্যাপে দেশের সঙ্গে গদ্দারি! নৌসেনার গোপন তথ্য পাচার বাঙালি জওয়ানের

Published:

Indian Navy Honeytrap Case: সোশ্যাল মিডিয়ায় পাতা ফাঁদ, কোয়েম্বাটোর থেকে গ্রেপ্তার ৩১ বছরের প্রদীপ মুখোপাধ্যায়

Indian Navy Honeytrap Case: দেশের প্রতিরক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে চরম গদ্দারি করার ১টি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং লজ্জাজনক ঘটনা এবার প্রকাশ্যে এল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ১ জন অচেনা মহিলার ‘মায়ায়’ বা হানিট্র্যাপে পড়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গোপন প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল ১ জন বাঙালি নৌসেনা কর্মীর বিরুদ্ধে। এই অত্যন্ত স্পর্শকাতর অভিযোগের ভিত্তিতে দীর্ঘ নজরদারি এবং তদন্ত চালানোর পর অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল বা সিআই শাখা ১ জন ৩১ বছর বয়সী নৌসেনা জওয়ানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে ১টি বিরাট বড় সাফল্য অর্জন করেছে। শনিবার তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোর থেকে ওই অভিযুক্ত নৌসেনা কর্মীকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশের সামরিক বাহিনীর অন্দরে বসে খোদ ১ জন জওয়ান যেভাবে শত্রুদেশের গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টের ফাঁদে পা দিয়ে দেশের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, তা প্রকাশ্যে আসতেই সমগ্র দেশের প্রতিরক্ষা মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

Advertisementপুলিশ এবং নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত ওই নৌসেনা জওয়ানের নাম প্রদীপ মুখোপাধ্যায় এবং তিনি আদতে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। তাঁর এই কুকীর্তি সামনে আসার পর তাঁর নিজ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। জানা গিয়েছে যে, ২০১৪ সালে প্রদীপ মুখোপাধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীতে যোগদান করেছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি দেশের সেবা করছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁকে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্টার্ন নাভাল কমান্ডের অধীনে কর্মরত হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। মাত্র ১ সপ্তাহ আগে তিনি তাঁর পেশাগত দায়িত্বের অঙ্গ হিসেবে ১টি বিশেষ ম্যানেজমেন্ট ডেভেলপমেন্ট কোর্সে যোগ দিতে তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরের রেড ফিল্ডস এলাকায় অবস্থিত নৌবাহিনীর ১টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইএনএস অগ্রণীতে গিয়ে পৌঁছন। আর ঠিক সেখান থেকেই তাঁকে শনিবার সকালে নাটকীয়ভাবে গ্রেপ্তার করে অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের স্পেশাল কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স দল।

Rahul Gandhi Satyagraha Platform: 'সত্যাগ্রহ' প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী
Rahul Gandhi Satyagraha Platform: ‘সত্যাগ্রহ’ প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী

আরও পড়ুনঃ Rahul Gandhi Satyagraha Platform: ‘সত্যাগ্রহ’ লঞ্চ রাহুলের! বিজেপি বিরোধী আন্দোলনকে ১ ছাতার তলায় আনতে নয়া প্ল্যাটফর্ম।

ঠিক কীভাবে এই বাঙালি জওয়ান পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের ফাঁদে পা দিলেন, তার ১টি অত্যন্ত রোমহর্ষক চিত্র তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে। অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল সূত্রে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, মাত্র কয়েক মাস আগে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ১ জন মোহময়ী মহিলার সঙ্গে প্রদীপের ১ম বার যোগাযোগ হয়। সেই মহিলাই ছিলেন আদতে ১ জন অত্যন্ত সুশিক্ষিত এবং ধুরন্ধর পাকিস্তানি গোয়েন্দা এজেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়াতেই তাঁদের মধ্যে নিয়মিত কথাবার্তা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে ১টি গভীর ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই মহিলা অত্যন্ত সুকৌশলে প্রদীপকে তাঁর হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে দেন। এরপরই ওই জওয়ানের কাছ থেকে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটির বিভিন্ন স্ট্র্যাটেজি, সেনা জওয়ানদের গতিবিধি এবং নৌবাহিনীর বিভিন্ন অত্যন্ত গোপন অপারেশনাল সিস্টেমের মতো সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়া শুরু হয়। মহিলার প্রেমের মোহে অন্ধ হয়ে প্রদীপ দেশের সুরক্ষার কথা সম্পূর্ণ ভুলে গিয়ে ১টির পর ১টি গুপ্ত তথ্য পাচার করতে থাকেন।

Advertisement

উল্লেখ্য, অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের এই বিশেষ কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেলটি মূলত সন্ত্রাসবাদী মডিউল শনাক্তকরণ, উপকূলীয় ও সীমান্ত এলাকায় গুপ্তচরবৃত্তি রোধ এবং উচ্চ-নিরাপত্তা সংক্রান্ত থ্রেটের মোকাবিলায় নিরলসভাবে কাজ করে থাকে। বেশ কিছুদিন ধরেই প্রদীপের দৈনন্দিন গতিবিধি এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিটি নিয়ে তদন্তকারীদের মনে গভীর সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। তাঁর এই সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করার পর থেকেই তাঁর ওপর কড়া নজরদারি বা সার্ভেইল্যান্স শুরু করে সিআই সেল। দীর্ঘ তদন্তে যখন এটা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রদীপ সত্যিই ওই পাক এজেন্টের কাছে দেশের সংবেদনশীল তথ্য পাচার করছেন, তখন আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট করা হয়নি। নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি এবং গ্রিন সিগন্যাল নেওয়া হয়। শনিবার সকালে বিশেষ সিআই দলটি আইএনএস অগ্রণীতে পৌঁছে প্রদীপকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং স্থানীয় থানাকেও গোটা বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

Abhishek Banerjee Letter to Speaker: বিদ্রোহী সাংসদকে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করায় লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়
Abhishek Banerjee Letter to Speaker: বিদ্রোহী সাংসদকে স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করায় লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিচ্ছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

আরও পড়ুনঃ Koel Mallick BJP Candidate: জল্পনার অবসান! তৃণমূল ছেড়ে এবার রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী কোয়েল মল্লিক।

কোয়েম্বাটোরে গ্রেপ্তারের পর প্রদীপ মুখোপাধ্যায়কে স্থানীয় ১ জন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করিয়ে পুলিশ দ্রুত তাঁর ট্রানজিট ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করে নেয়। এরপর শনিবার সন্ধ্যায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোজা বিজয়ওয়াড়ায় অবস্থিত কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে শীর্ষ তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে লাগাতার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। ঠিক কী ধরনের প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গোপন নথি বা তথ্য তিনি ইতিমধ্যেই ফাঁস করেছেন এবং কতটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের হাতে পৌঁছেছে, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। শুধুই কি প্রেমের মোহে পড়ে এই চরবৃত্তি, নাকি এর পাশাপাশি ওই নৌসেনা জওয়ান পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে কোনো রকম বড়সড় আর্থিক লেনদেনের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন, সেই দিকটিও অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করে দেখছেন আধিকারিকরা। এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা দেশের সামরিক বাহিনীর জওয়ানদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাইবার সুরক্ষার বিষয়টিকে ফের ১ বার কড়া প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

IMG 20261003 WA0013

Tania Ghosh
Tania Ghosh
Deputy News Editor ডেস্কে আসা সমস্ত খবরের সত্যতা যাচাই, নিখুঁত সম্পাদনা এবং চূড়ান্ত প্রকাশের দায়িত্ব সামলান। গ্রাউন্ড রিপোর্টারদের সাথে সমন্বয় বজায় রেখে 'বাংলার আওয়াজ'-এর খবরের মান ও বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img