Rejinagar Congress Candidate: পুলিশের সঙ্গে বচসা! থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি

Published:

Rejinagar Congress Candidate: ভোট লুটের মারাত্মক অভিযোগ তুলে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব প্রার্থী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত

Murshidabad: মুর্শিদাবাদের অত্যন্ত হাইভোল্টেজ রিজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্বকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই প্রবল রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং চরম অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেগা ভোটগ্রহণ পর্বে এবার পুলিশের সঙ্গে সরাসরি তুমুল বচসায় জড়িয়ে পড়লেন খোদ কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, বাধ্য হয়ে এই কংগ্রেস প্রার্থী সোজা রিজিনগর থানার সামনেই ১টি বড়সড় অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। এমনিতেই এই কেন্দ্রটিতে চতুর্মুখী লড়াই এবং রাজনৈতিক সমীকরণ অত্যন্ত জটিল, তার ওপর খোদ বিরোধী প্রার্থীর এমন অভিনব এবং চূড়ান্ত পদক্ষেপ গোটা মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথের বাইরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যে চাপা উত্তেজনা কাজ করছিল, প্রার্থীর এই অবস্থান বিক্ষোভে তা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবং সাধারণ ভোটারদের মনে ১টি গভীর আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

Supreme Court on Election Commission: ফর্ম ৬ বদলে অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট! কমিশনের দাবি নস্যাৎ করলেন প্রধান বিচারপতি

ঘটনার সূত্রপাত হয় মঙ্গলবার সকালে, যখন কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি নিজের নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন বুথ পরিদর্শনে বেরিয়েছিলেন। তিনি বুথে বুথে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলার এবং ভোটের পরিস্থিতি নিজের চোখে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছিলেন। ঠিক সেই সময়েই স্থানীয় পুলিশের ১টি বড় দল তাঁকে মাঝপথে আটকে দেয়। পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে কংগ্রেস প্রার্থীকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুরোধ জানানো হয় যে, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ ভোটারদের কোনোভাবেই প্রভাবিত না করতে তিনি যেন অবিলম্বে ওই এলাকা ফাঁকা করে দেন। কিন্তু পুলিশের এই নির্দেশ মানতে একেবারেই নারাজ ছিলেন আবদুল্লাহিল কাফি। তিনি পুলিশের এই আর্জি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন, যার ফলে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর ১টি দীর্ঘ এবং তুমুল বচসা শুরু হয়। এই বচসার রেশ ধরেই চরম ক্ষুব্ধ কাফি পুলিশের বিরুদ্ধে একতরফা আচরণের অভিযোগ তুলে সোজা রিজিনগর থানার সামনে গিয়ে ১টি ধর্না বা অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন।

Advertisement

থানার সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসে কংগ্রেস প্রার্থী আবদুল্লাহিল কাফি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং শাসক দল বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে একাধিক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এবং গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অত্যন্ত বিস্ফোরক ভাষায় বলেন যে, এই উপনির্বাচনকে শুধুমাত্র ১টি প্রহসনে পরিণত করে প্রকাশ্যে গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে এবং সহযোগিতায় শাসক দল যেভাবে অবাধে বুথ দখল করে ভোট লুট করছে, তা বাংলার সুস্থ গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং দুর্ভাগ্যজনক ১টি বিষয়। তিনি এই নজিরবিহীন ভোট লুণ্ঠনের গোটা প্রক্রিয়াটিকে তীব্র ভাষায় ধিক্কার জানিয়েছেন। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলে কাফি আরও জানিয়েছেন যে, রিজিনগরের অধিকাংশ বুথেই কংগ্রেসের কোনো পোলিং এজেন্টকে ভয় দেখিয়ে বসতে দেওয়া হচ্ছে না বা জোর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। উল্টে তাঁর অভিযোগ, সেই সব বুথে একাধিক বিজেপির এজেন্ট এবং আরএসএস-এর লোকেরা পুলিশের মদতে অবাধে ঢুকে পড়ে ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে এবং ভোট লুট করছে।

UP Rajya Sabha Election BJP List: ২ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সহ বাদ ৮ বিদায়ী সাংসদ! রাজ্যসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে বড় চমক বিজেপির

এই ভয়াবহ অভিযোগের পাশাপাশি কংগ্রেস প্রার্থী আরও ১টি মারাত্মক দাবি করেছেন। তাঁর মতে, শাসক দল বিজেপি খুব ভালোভাবে বুঝে গিয়েছে যে যদি অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট হয়, তবে কংগ্রেস নিশ্চিতভাবে এই সব বুথগুলোতে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করবে। সেই পরাজয়ের আতঙ্ক থেকেই তারা এই চরম সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। কাফির দাবি, “বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব যেমন সর্বভারতীয় স্তরে রাহুল গান্ধী বা রাজ্য স্তরে অধীর চৌধুরীকে ভয় পেয়েছে, ঠিক তেমনই আজ রিজিনগরে আমাকেও তাঁরা প্রবল ভয় পেয়েছে এবং সেই কারণেই আমাকে ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়া করতে চাইছে।” নিজের এই অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেদের ফোন বন্ধ করে রেখেছেন। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, জেলার পুলিশ সুপার সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকার দ্বারা পরিচালিত হয়ে শাসক দলকে অবাধে ভোট লুটে সাহায্য করছেন। বারবার নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগ জানিয়েও কোনো রকম সদর্থক সাড়া না পেয়েই তিনি শেষমেশ এই অবস্থান বিক্ষোভে বসতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

Advertisement

অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থীর তোলা এই সমস্ত মারাত্মক অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। পুলিশের তরফ থেকে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে যে, সমগ্র রিজিনগর বিধানসভা কেন্দ্র জুড়েই ভোটগ্রহণ অত্যন্ত অবাধ এবং শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত কিছু ছোটখাটো ঘটনা ঘটলেও, পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং বেশিরভাগ জায়গাতেই সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে ও শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। পুলিশের ১ জন পদস্থ আধিকারিক এই প্রসঙ্গে বলেন যে, “কিছু মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য অযথা শান্তি বিঘ্নিত করার এবং অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে। তাই নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে তাঁদের এলাকা ছাড়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করা হয়েছিল। আমরা চাই ভোট একেবারে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হোক। কোনো প্রার্থী যদি বুথের বাইরে ঘোরাঘুরি করে সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তা সরাসরি নির্বাচনী বিধিভঙ্গ।” এদিকে কংগ্রেস প্রার্থীর এই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানার সামনে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল সংখ্যক কংগ্রেস কর্মী-সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন।

IMG 20261003 WA0013

Taniya Roy
Taniya Roy
Taniya Roy (Asst. Editor) Website Management, Page:3 & Cultural News, Semi Political News Maker and mainly Social Media Publisher.

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img