UP Rajya Sabha Election BJP List: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাতপাতের সমীকরণ মেলাতে ৮ নতুন মুখকে প্রার্থী করল বিজেপি
Lucknow: আগামী বছর উত্তর প্রদেশের অত্যন্ত হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই রাজ্য রাজনীতিতে ১টি বিরাট বড় চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি। আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশ থেকে নির্বাচিত ৮ জন বিদায়ী সাংসদের কাউকেই এবার পুনরায় টিকিট দিল না পদ্ম শিবির। যে ৮ জন হেভিওয়েট সাংসদকে এবার রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হলো, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর মতো ১ জন প্রথম সারির দাপুটে নেতাও। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিকে কড়া নজর রেখেই বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এমন ১টি অভাবনীয় এবং সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শুধুমাত্র হরদীপ সিং পুরী নন, তাঁর পাশাপাশি বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আরও ১ জন অত্যন্ত প্রভাবশালী সদস্য বি এল ভার্মাকেও এবার আর উত্তর প্রদেশ থেকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়া হচ্ছে না বলে খবর। এই মেগা সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে এবং দলের অন্দরেও প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের সরিয়ে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার এই নীতি বিজেপির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই ১টি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন তাবড় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
![]()
আগামী ১৬ই অক্টোবর দেশের বৃহত্তম রাজ্য উত্তর প্রদেশ থেকে রাজ্যসভার এই ৮টি ফাঁকা আসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ পর্ব অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই ৮টি আসনে যাঁদের বিজেপি এবার নতুন করে দলের হয়ে মনোনয়ন দিয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন লোকসভার ২ প্রাক্তন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় সাংসদ প্রিয়াঙ্কা সিং রাওয়াত এবং শ্রুতি গাংওয়ার। শ্রুতি গাংওয়ার আবার ঝাড়খণ্ডের বর্তমান রাজ্যপাল এবং উত্তর প্রদেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা সন্তোষ গাংওয়ারের নিজ কন্যা, যা রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলে নতুন রক্ত সঞ্চালন করার জন্যই বিজেপি এমন কৌশল গ্রহণ করেছে। এই ২ হেভিওয়েট নেত্রী ছাড়াও ধরমপাল সিং, রাধাকান্ত ওঝা, প্রকাশ পাল, বিদ্যাসাগর সোনকার, গোপী কৃষ্ণ পাণ্ডে এবং রাম প্রতাপ সিং চৌহানকে এবার রাজ্যসভার টিকিট দিয়ে ১টি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আনকোরা নতুন প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে বিজেপি। পুরনোদের বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন মুখ এনে দলের নিচুতলার কর্মীদের ১টি কড়া বার্তাও দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশ থেকে সংসদের উচ্চকক্ষ বা রাজ্যসভার মোট ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আসন রয়েছে। এই ১০টি আসনের মধ্যে বর্তমানে ৮টি আসনেই একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে শাসক দল বিজেপির। বাকি ২ আসনের মধ্যে ১টি রয়েছে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি এবং অপর ১টি আসন রয়েছে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টির শক্ত দখলে। এবার বিজেপি রাজ্যসভায় উত্তর প্রদেশ থেকে যে ৮ জন নতুন মুখকে টিকিট দিয়েছে, তার মধ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে ৩ জন ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির প্রার্থীকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ২ জন তফসিলি জাতি বা দলিত সম্প্রদায় এবং ৩ জন সাধারণ সম্প্রদায় থেকে সরাসরি প্রার্থী করা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জাতপাতের কঠিন সমীকরণ মেলাতেই প্রার্থী তালিকা ঠিক এই নিপুণ ছকে চূড়ান্ত করেছে শাসক দল বিজেপি, যাতে সব শ্রেণির ভোটব্যাঙ্ক সুরক্ষিত থাকে। উত্তর প্রদেশের রাজনীতিতে ওবিসি এবং দলিত ভোটব্যাঙ্ক বরাবরই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে এসেছে। তাই উচ্চকক্ষে এই শ্রেণির যোগ্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে বিরোধী দলগুলির প্রধান ভোটব্যাঙ্কেই ১টি বড়সড় থাবা বসাতে চাইছে গেরুয়া শিবির।

এই মুহূর্তে দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে এবং রাজ্যসভার সমীকরণে এই মেগা সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে রাজ্যসভার মোট ২৪৫টি আসনের মধ্যে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের হাতে রয়েছে অন্তত ১৫০ জন সাংসদ, ফলে রাজ্যসভাতেও এনডিএ জোট অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও উত্তর প্রদেশের মতো সবচেয়ে বড় রাজ্য থেকে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ শীর্ষ নেতৃত্ব। যাঁদের টিকিট কাটা হলো, বিশেষ করে ২ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে, তাঁদের হয়তো ভবিষ্যতে দলের সাংগঠনিক কাজে লাগানো হতে পারে অথবা অন্য কোনো রাজ্য থেকে জিতিয়ে আনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। তবে উত্তর প্রদেশের মাটি থেকে এই মুহূর্তে দলের ভাবমূর্তি একদম স্বচ্ছ এবং নতুন রাখতেই এই ৮ বিদায়ী সাংসদকে একসঙ্গে বসিয়ে দেওয়ার মতো ১টি চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিরোধীদেরও রীতিমতো চমকে দিয়েছে। কোনো রকম প্রতিষ্ঠান বিরোধী হাওয়া বা অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর যাতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে না পারে, সেই কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ।

আগামী ১৬ই অক্টোবরের নির্বাচনে এই ৮ নতুন প্রার্থীর জয় একপ্রকার নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে, কারণ উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এই নতুন প্রার্থী তালিকার মাধ্যমে অখিলেশ যাদব এবং মায়াবতীর মতো বিরোধী দলগুলিকেও ১টি কড়া রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল গেরুয়া শিবির। দলিত এবং ওবিসি সমাজ থেকে আনকোরা নেতাদের রাজ্যসভায় পাঠিয়ে বিজেপি প্রমাণ করতে চাইছে যে তাঁরা প্রান্তিক মানুষের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২০২৭ সালের মেগা বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির এই মাস্টারস্ট্রোক বা সামাজিক সমীকরণের কৌশল ব্যালট বক্সে ঠিক কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। আপাতত উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক অলিন্দে এই ৮ জন নতুন রাজ্যসভা প্রার্থীর নাম এবং ২ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর টিকিট বাতিলের খবরই সবচেয়ে বড় চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। গোটা দেশের নজর এখন আগামী ১৬ই অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক ঘুঁটি সাজানোর দিকেই স্থির রয়েছে।




