India vs Uruguay Football: গুরপ্রীতের জঘন্য গোলকিপিং এবং রক্ষণের ভুলে ১-৬ গোলে লজ্জাজনক হার ভারতের
Kolkata: মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে বিশ্ব ফুটবলের ২ মহাশক্তিধর দেশ ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে ভারতীয় ফুটবল দলের আসল কঙ্কালসার চেহারাটা একেবারে প্রকাশ্যে চলে এল। আগের ম্যাচেই শক্তিশালী ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ০-৪ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছিল ভারত। সেই হারের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-৬ গোলের চরম লজ্জাজনক হার হজম করতে হলো কোচ খালিদ জামিলের ছেলেদের। তবে এই হতাশার অন্ধকারে ভারতের একমাত্র প্রাপ্তি বলতে মোহনবাগান তারকা অনিরুদ্ধ থাপার সেই দুর্দান্ত গোলটি। উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথমার্ধে ভারতীয় দল বেশ কিছুটা লড়াইয়ের মানসিকতা দেখালেও, দ্বিতীয়ার্ধে চূড়ান্ত ক্লান্তিতে পুরো দল কার্যত মাঠে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। মনবীর সিং এবং রায়ান উইলিয়ামসরা গুটিকয়েক ভালো আক্রমণ শানিয়ে কিছুটা হলেও মুখরক্ষার চেষ্টা করেছিলেন ঠিকই, কিন্তু সঠিক গোল করার লোকের চরম অভাব এদিনও প্রকট হয়ে উঠল। অন্যদিকে, বিপক্ষ দলের কোচ দিয়েগো ফোরলান হাসিমুখেই মাঠ ছাড়লেন।
India vs Brazil Match: গুরপ্রীতের চরম ভুলে ২ গোলে পিছিয়ে ভারত! কেমন হলো ১ম অর্ধ?
ম্যাচের শুরুর দিকে উরুগুয়ের পায়েই বলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল, কিন্তু ৫ মিনিটের পর থেকে ভারতীয় দল ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে। বিশেষ করে দুই প্রান্ত ধরে আশিক কুরুনিয়ন এবং মনবীর সিং বেশ কয়েকটি দুরন্ত আক্রমণ তুলে এনে উরুগুয়ের বক্সে ক্রস ভাসিয়েছিলেন। কিন্তু খেলার গতির একেবারে বিপরীতে গিয়ে মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় মারাত্মক ১টি ভুল করে বসে ভারতের রক্ষণভাগ। উরুগুয়ের ফেডেরিকো ভিনাস প্রতি-আক্রমণ থেকে তীব্র গতিতে বক্সে ঢুকে পড়লে তাঁকে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফাউল করে বসেন পরমবীর। রেফারি বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সরাসরি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক থেকে গোল করতে কোনো রকম ভুল করেননি লিভারপুলের বিশ্বখ্যাত তারকা ফুটবলার ডারউইন নুনেজ। ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সাঁধু সম্পূর্ণ ভুল দিকে ঝাঁপ দিয়ে গোল হজম করেন। যদিও গোল খেয়ে ভারত রক্ষণাত্মক না হয়ে মরিয়া হয়ে আক্রমণ করতে থাকে এবং ২৩ মিনিটের মাথায় রায়ান উইলিয়ামসের দূরপাল্লার শট বিপক্ষ গোলরক্ষক ফেরালেও, ফিরতি বলে দুরন্ত গোল করে ভারতকে ১-১ সমতায় ফেরান অনিরুদ্ধ থাপা।

অনিরুদ্ধ থাপার এই অবিস্মরণীয় গোলের পর গোটা ভারতীয় শিবিরের উচ্ছ্বাস বুঝিয়ে দিচ্ছিল যে এই গোলের গুরুত্ব ঠিক কতটা। এর মাত্র ২ মিনিট পরেই এডমুন্ড লালরিনডিকা ১টি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু নিজে শট নিতে গিয়ে তিনি বক্সের ভেতর পড়ে যান। ঠিক সেই সময়েই হঠাৎ করে মাঠে তীব্র বজ্রপাত এবং প্রবল বৃষ্টি শুরু হওয়ায় রেফারি নিরাপত্তার কারণে প্রায় ৩০ মিনিট খেলা বন্ধ রাখেন। বৃষ্টি থামার পর নতুন করে খেলা শুরু হতেই ভারত বড়সড় ধাক্কা খায়। ২৯ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে বেন্টানকুর বক্সে বল বাড়ালে অত্যন্ত দক্ষতায় ১টি ছোট্ট টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন ম্যাক্সি আরাউহো। গুরপ্রীতের সেখানে কিছুই করার ছিল না এবং উরুগুয়ে ২-১ গোলে এগিয়ে যায়। এরপর ৩৭ মিনিটে নুনেজ আরও ১টি গোল করার সুযোগ পেলেও গুরপ্রীতের মাথায় বল লেগে তা প্রতিহত হয়। প্রথমার্ধে ভারত সমানে সমানে লড়াই করলেও ১-২ গোলে পিছিয়ে থেকেই তাদের সাজঘরে ফিরতে হয়।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই ভারতীয় দলের আসল শারীরিক ক্লান্তির ছবিটা একেবারে পরিষ্কার হয়ে যায় এবং দলের রক্ষণভাগ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। আগের ম্যাচে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ হওয়ার পরেও কোচ খালিদ জামিল গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সাঁধুর ওপরই ভরসা রেখেছিলেন, আর দ্বিতীয়ার্ধে ঠিক তার চরম খেসারত দিতে হলো ভারতীয় দলকে। ৫৩ মিনিটের মাথায় টপ বক্স থেকে সালাজারের ১টি সাধারণ শট গুরপ্রীতের হাতের নিচ দিয়ে সহজেই গোলে ঢুকে যায়। প্রথম পোস্টে দাঁড়িয়ে থাকার পরেও তাঁর এই জঘন্য রিফ্লেক্স এবং গোল বাঁচাতে না পারার ব্যর্থতা রীতিমতো চোখে পড়ার মতো ছিল। এর ঠিক ৬ মিনিট পর উরুগুয়ের হয়ে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের চতুর্থ গোলটি করেন সেই আরাউহো। ভিনাসের কাছ থেকে বল পেয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে তিনি যখন গোল করছেন, তখন গুরপ্রীত কার্যত ১টি মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন, বল ধরার কোনো চেষ্টাই তিনি করেননি। দ্বিতীয়ার্ধে ভারতের প্রথমার্ধের সেই ঝাঁজ সম্পূর্ণ উধাও হয়ে গিয়েছিল।
India vs Brazil Match: গুরপ্রীতের ভুলে ব্রাজিলের কাছে ৪ গোল খেল ভারত! যুবভারতীতে মন জিতল রায়ানরা
ম্যাচের ৭১ মিনিটের মাথায় পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে যখন গুরপ্রীত তাঁর পঞ্চম গোলটি হজম করেন। এবার উরুগুয়ের হয়ে প্রতি-আক্রমণ থেকে পেলিত্রির মাপা পাসে অত্যন্ত নিখুঁত গোল করে ব্যবধান ৫-১ করেন সানাব্রিয়া। পরপর ৫টি গোল খাওয়ার পর কোচ খালিদ জামিলের অবশেষে টনক নড়ে এবং তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ গুরপ্রীতকে তুলে নিয়ে তাঁর জায়গায় আলবিনো গোমসকে মাঠে নামান। কিন্তু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে এবং ভারতের হারের কফিনে শেষ পেরেক পোঁতা হয়ে গিয়েছে। ম্যাচের একদম শেষ লগ্নে, ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ের ১টি বুলেট শটে উরুগুয়ের হয়ে ৬ নম্বর গোলটি করেন আগুইরে। শেষ পর্যন্ত ১-৬ গোলের ১টি বিশাল এবং লজ্জাজনক হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে ভারত। এই মেগা ম্যাচ আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, বিশ্বমানের দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে ভারতীয় ফুটবলে ফিটনেস, রিফ্লেক্স এবং সঠিক স্ট্রাইকারের কতটা অভাব রয়েছে, যা অবিলম্বে মেটানো প্রয়োজন।
![]()



