Bikash Ranjan Bhattacharya House Attacked: পূর্বালোকের বাড়িতে ভোরে বাইক বাহিনী নিয়ে তাণ্ডব, আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চাওয়ার হুংকার নেতার
Kolkata: সাতসকালে খাস কলকাতার বুকে নিরাপত্তা নিয়ে এক বিরাট বড় এবং গুরুতর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল ১টি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা সিপিআইএমের রাজ্যসভার প্রবীণ আইনজীবী নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে দুষ্কৃতী হামলার অভিযোগ উঠল। ই এম বাইপাস সংলগ্ন পূর্বালোক এলাকায় অবস্থিত সিপিআইএম নেতার বাসভবনে বৃহস্পতিবার ভোরে এই নজিরবিহীন তাণ্ডবের ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার একেবারে ভোরবেলা মুখ ঢাকা অবস্থায় কিছু অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী একাধিক মোটরসাইকেলে চড়ে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এসে এই হামলা চালায়। রাস্তা থেকে সরাসরি প্রবীণ বাম নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি বিয়ারের বোতল এবং ইট ছুঁড়তে শুরু করে তারা। এই আকস্মিক এবং হিংসাত্মক হামলায় বাড়ির সামনের বেশ কয়েকটি জানলার কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং বাড়ির একদিকের সিসিটিভি ক্যামেরাও সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় আশেপাশের এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।![]()
এই ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনার পর সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য অত্যন্ত শক্ত ভাষায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং ফুঁসে উঠেছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান যে, যাঁরা এই হামলা চালিয়েছে তাদের মুখ এবং তাদের মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট সম্পূর্ণভাবে ঢাকা ছিল, যা থেকে স্পষ্ট যে এটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত কোনো অপরাধমূলক চক্রান্ত। অভিযুক্তরা তাঁকে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি হুমকি দিয়ে বলে যায় যে, ‘আমাদের পিছনে লাগতে আসবি না’। এর পাশাপাশি এই ঘটনায় রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাক্তন মেয়র জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি এই ঘটনার পর আর চুপ করে বসে থাকবেন না, বরং নিরাপত্তার খাতিরে তিনি সরাসরি কলকাতার নগরপাল বা কমিশনার অফ পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্নেয়াস্ত্র বা পিস্তল রাখার লাইসেন্সের জন্য আবেদন করবেন। ভবিষ্যতে যদি এই ধরনের দুষ্কৃতীরা ফের তাঁর বাড়িতে চড়াও হতে আসে, তবে তিনি যে বসে থাকবেন না এবং তিনিও উপযুক্ত জবাব দেবেন, সেই বিষয়ে একপ্রকার কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন রাজ্যসভার এই প্রাক্তন সাংসদ।

ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পূর্ব যাদবপুর থানায় সটান হাজির হয়ে ওই দুষ্কৃতী দলের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট ও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সিপিআইএম-এর এই প্রবীণ আইনজীবী নেতা। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে এবং রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার জোরদার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এই হামলার নেপথ্যে ঠিক কী কারণ রয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। এই হামলার পিছনে রাজনৈতিক কোনো গভীর প্রতিহিংসা রয়েছে, নাকি তিনি ১জন বিশিষ্ট আইনজীবী হিসেবে যে সমস্ত হাই-প্রোফাইল মামলা লড়ছেন, তার জেরেই কোনো পেশাগত আক্রোশ থেকে এই হামলা চালানো হয়েছে, তা এখনও পুলিশের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। পুলিশ সমস্ত দিক খোলা রেখেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সাতসকালে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়ির সামনের চত্বরে এবং রাস্তায় বিয়ারের বোতলের ভাঙা কাচের টুকরো এবং ইটের টুকরোগুলি ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যা সেই সময়ের ভয়াবহতার স্পষ্ট সাক্ষ্য বহন করছিল। ১জন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতার এবং প্রবীণ আইনজীবীর বাড়িতে এই ধরনের প্রকাশ্য দুষ্কৃতী তাণ্ডবের ঘটনা রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ফের একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। পুজো বা উৎসবের ঠিক প্রাক্কালে খাস রাজধানীতে যদি একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা এমনভাবে বিঘ্নিত হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে, সেই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। পুলিশ প্রশাসন দ্রুত এই ঘটনার মূল রহস্য ভেদ করে দুষ্কৃতীদের পাকড়াও করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।




