Eden Gardens World Record: মুখ্যমন্ত্রীর হাতে উঠল শংসাপত্র, হাজার নৃত্যশিল্পীর উপস্থিতিতে অনন্য নজির তিলোত্তমার
Kolkata: শরৎকালের মহালয়ার পুণ্যলগ্নে শহর কলকাতা সাক্ষী থাকল এক বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের। দেবীপক্ষের সূচনাতেই ক্রিকেটের চিরপরিচিত নন্দনকানন ইডেন গার্ডেন্সের বুকে তৈরি হলো এক অনন্য বিশ্বরেকর্ড। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের জমানায় এটাই প্রথম দুর্গাপুজো। স্বাভাবিকভাবেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের সূচনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদ ছিল অত্যন্ত চড়া। শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত চোখ ধাঁধানো আগমনী উৎসব যেন সেই সমস্ত প্রত্যাশাকে এক নিমেষে ছাপিয়ে গেল। রাতের আকাশে আধুনিক ড্রোন আলোর মাধ্যমে দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গার রূপ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় উপস্থাপন গোটা তিলোত্তমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ঢাকির একসঙ্গে সমবেত ঢাক বাজানো, যার হাত ধরে সরাসরি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করে নিল কলকাতা।
Anti CEC Protest Tomorrow: ‘কাল আবার ফিরব’, নেতারা আটক হলেও যন্তর মন্তরে লড়াই জারি রাখার ডাক
শনিবারের এই মূল আয়োজন ইডেন গার্ডেন্সের ভেতরে থাকলেও তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল সংলগ্ন গোটা চত্বরে। বাংলার বিভিন্ন জেলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি ও শিল্পকে সামনে রেখে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল ঐতিহাসিক রেড রোডকে। সেখান থেকেই পদযাত্রা করে হেঁটে স্টেডিয়ামে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। প্রশাসনিক শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি শাসক শিবিরের এই পদযাত্রায় পা মেলান টলিউডের একঝাঁক জনপ্রিয় অভিনেতা ও অভিনেত্রী। গোটা চত্বরজুড়ে ঢাকের আওয়াজ, শঙ্খধ্বনি এবং উৎসবের আমেজে এক অভূতপূর্ব পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, যা দেখতে রাস্তার দুধারে সাধারণ মানুষের ঢল নামে।
![]()
মহালয়ার সন্ধ্যায় ইডেন গার্ডেন্স যেন পরিণত হয়েছিল অবিস্মরণীয় নানা চমকের আখড়ায়। স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচায় যখন একসঙ্গে ৩ হাজার ঢাকি নিজেদের কাঠি ছুঁইয়ে বাদ্য বাজাতে শুরু করেন, তখন সেই গুরুগম্ভীর আওয়াজে পুরো স্টেডিয়াম প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এই অভূতপূর্ব ঢাকের বোলের সঙ্গেই স্টেডিয়ামের মাঠে পা মেলান হাজারের বেশি প্রতিভাবান নৃত্যশিল্পী, যা গোটা দৃশ্যপটকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। এই সুবিশাল ও নিখুঁত সমন্বয়ের কারণেই অনুষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অর্জন করে। অনুষ্ঠান চলাকালীন মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বয়ং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল মুখ্যমন্ত্রীর হাতে এই বিশ্বরেকর্ডের শংসাপত্রটি তুলে দেন। সেই গৌরবময় মুহূর্তে মঞ্চে উপস্থিত থেকে এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী থাকেন ভারত সেবাশ্রম সংঘের কার্তিক মহারাজও।
এবারের দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনাটি ছিল অন্যান্য সমস্ত বছরের তুলনায় একেবারেই ব্যতিক্রমী ও স্বতন্ত্র। শনিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে ঐতিহ্যবাহী আদিবাসী নৃত্য এবং বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী ও ইমন চক্রবর্তীর গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা ঘটেছিল। মাঠে উপস্থিত দর্শকদের একের পর এক গানে মাতিয়ে রাখেন শিল্পীরা। এই উপলক্ষে মঞ্চের সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন জুন মালিয়া, প্রবীণ বুদ্ধিজীবী স্বপন দাশগুপ্ত এবং সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। এমনকি শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে একই মঞ্চে নজর কেড়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন লেখিকা তসলিমা নাসরিনও। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ক্ষেত্রের প্রতিনিধিদের এমন সমাহার অনুষ্ঠানটিতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শারদোৎসবকে কীভাবে উপস্থাপন করা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা চর্চা চলছিল। প্রথম বছরেই এত বড় মাপের একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করে সরকার কার্যত নিজেদের বড় উদ্যোগের প্রমাণ দিল। ইডেনের এই সাফল্য শুধু কোনো দলীয় বা সরকারি উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলার লোকশিল্প ও ঢাকের ঐতিহ্যকে নতুন করে সম্মানিত করল। মহালয়ার পুণ্যলগ্নে তিলোত্তমার মুকুটে জুড়ে যাওয়া এই নতুন পালকটি সমগ্র বাঙালির দুর্গাপুজোর আনন্দে বাড়তি গর্বের উপাদান যোগ করেছে।




