Abhijeet Dipke on Modi-Shah: ‘কোনও বন্ডে সই করিনি’, নাগপুরে ফিরে আন্দোলনের চরম হুঁশিয়ারি সিজেপি নেতার
Nagpur: দেশের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চলমান ছাত্র-যুব আন্দোলনের মাঝেই এবার এক নতুন রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি হলো। রবিবার পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। গত শনিবার দিল্লিতে সিজেপি-র ডাকা বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই তাঁকে এবং দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের বিমানবন্দর থেকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। এরপর রবিবার এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট বা সতর্কতামূলক গ্রেফতারির কথা জানানো হলেও, শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে তাঁরা নিঃশর্ত মুক্তি পান। পুলিশি হেফাজত থেকে বেরিয়ে নিজের ঠাকুমার মৃত্যুর কারণে আপাতত নাগপুরে নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন অভিজিৎ। কিন্তু সেখান থেকেই তিনি কেন্দ্র সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত তীব্র ভাষায় সুর চড়িয়েছেন। তাঁর এই অকুতোভয় মন্তব্য প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, পুলিশি ধরপাকড় বা আইনি চোখরাঙানি দিয়ে এই ছাত্র আন্দোলনকে কোনোভাবেই দমানো সম্ভব নয়।
রবিবার নাগপুরে পৌঁছনোর পর স্থানীয় সাংবাদিকরা অভিজিৎ দিপকে-কে ঘিরে ধরেন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে এই যুব নেতা জানান যে, তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন এমন কোনো মুচলেকা বা বন্ডে সই করেননি, যেখানে লেখা আছে যে তাঁরা আর আন্দোলন করতে পারবেন না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং কড়া ভাষায় জানান, “আমরা ফের রাজধানীর রাজপথে নামব। আমরা মোদী এবং শাহকে ভয় পাই না। আপনারা চাইলে আমাকে একশোবার জেলে ভরতে পারেন, কিন্তু আপনাদের এই স্বৈরতন্ত্রকে আমরা বিন্দুমাত্র ভয় করি না।” তিনি আরও হুঙ্কার দিয়ে বলেন যে, এই স্বৈরতন্ত্রের অবসান ঘটিয়েই তাঁরা ছাড়বেন। শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের সামনেই নয়, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্সেও (সাবেক টুইটার) তিনি একই বার্তার পুনরাবৃত্তি করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন যে, আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো বন্ডে তিনি স্বাক্ষর করেননি এবং খুব শিগগিরই তাঁরা পুনরায় রাজপথের দখল নেবেন। সিজেপি নেতার এই জেদ আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে।
![]()
এই রাজনৈতিক হুঙ্কারের পাশাপাশি অভিজিৎ দিপকের ঠাকুমার মৃত্যু সংবাদ পুলিশ ঠিক কখন তাঁকে দিয়েছিল, তা নিয়ে পুলিশ ও পরিবারের মধ্যে এক চরম বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। শনিবার অভিজিৎ যখন দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হন, ঠিক সেই দিনই গ্রামের বাড়িতে তাঁর ৮৫ বছর বয়সী ঠাকুমা সাবিত্রীবাঈ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অভিজিতের মায়ের অভিযোগ, তাঁরা শত চেষ্টা করেও ছেলের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি এবং ঠাকুমার মৃত্যুর এই মর্মান্তিক খবরটি অভিজিতের কাছে সময়মতো পৌঁছয়নি। কিন্তু দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে পরবর্তীতে দাবি করা হয় যে, হেফাজতে থাকাকালীনই অভিজিৎকে অত্যন্ত মানবিকতার সঙ্গে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি চাইলে তাঁকে বাড়ি যাওয়ার ব্যবস্থাও করে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি নাকি নিজেই তখন রাজি হননি। তবে পুলিশের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যাচার এবং অমানবিক বলে তীব্র আক্রমণ করেছে সিজেপি নেতৃত্ব এবং অভিজিতের পরিবার। একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত শোককে কেন্দ্র করে এই তরজা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
Chennai Metro Project: মেট্রোর নতুন রুটের উদ্বোধন, মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের সঙ্গে সফর মোদীর
সিজেপি নেতাদের এই আটকের ঘটনা এবং রাজধানীতে পুলিশের নজিরবিহীন দমনপীড়নের তীব্র নিন্দা করেছে দেশের প্রধান বিরোধী দলগুলি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী শনিবার দিল্লিতে যেভাবে পুলিশ সাধারণ মানুষ, ছাত্রনেতা এবং আন্দোলনকারীদের দলে দলে আটক করেছে, তার কড়া সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল দেশের সমস্ত বিরোধী শক্তিকে এই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই আন্দোলনকে দেশের গণতন্ত্র রক্ষা, ভোটাধিকার এবং ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার একটি অত্যন্ত শক্তিশালী লড়াই বলে অভিহিত করেছেন। বেণুগোপালের মতে, নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক সংস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ আসলে দেশের “দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম”। আগামী দিনে এই ইস্যুতে আরও বৃহত্তর এবং শক্তিশালী লড়াইয়ের ডাক দেওয়া হয়েছে কংগ্রেসের তরফ থেকে, যা বিরোধী শিবিরকে নতুন করে অক্সিজেন জোগাচ্ছে এবং সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

এই সার্বিক পরিস্থিতিতে এটা একদম পরিষ্কার যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখনই থামছে না। সিজেপি আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিবাদ কর্মসূচি লাগাতার চলতে থাকবে। শীর্ষ নেতাদের আটকের পরেও অজিঙ্ক শিন্ডের নেতৃত্বে মুম্বই থেকে যেভাবে আন্দোলনের নতুন রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে, তা প্রশাসনের কাছে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আদালতের নির্দেশে শীর্ষ নেতাদের মুক্তি এবং অভিজিৎ দিপকের এই আপসহীন মনোভাব সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন একদিকে যেমন পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে এই বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালাচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করে পথে নামার জেদ ধরে বসে আছেন। রাজপথের এই চরম স্নায়ুযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক তরজা আগামী দিনে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় তৈরি করতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




