বাণিজ্য বৈঠক ভেস্তে যেতেই কানাডার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প! শুল্ক যুদ্ধে নামছে দুই দেশ

Published:

আমেরিকা ও কানাডার মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যেতেই আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আলোচনা বন্ধ হতেই কানাডার ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি কানাডাকে তীব্র কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন যে, কানাডা আমেরিকার অন্তর্ভুক্ত অঙ্গরাজ্য না হয়েও একটি রাজ্যের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে চায়। পাশাপাশি মার্কিন কৃষকদের ওপর কানাডা দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত শুল্কের বোঝা চাপিয়ে আসছে বলেও তিনি গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

হোয়াইট হাউসের সাথে বাণিজ্য সংক্রান্ত চূড়ান্ত দরকষাকষির জন্য কানাডার একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে উপস্থিত ছিল। কিন্তু ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত শর্ত ও দাবি চাপানো হয়, যা কানাডার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না বলে জানানো হয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সেই প্রস্তাবগুলিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর’ বলে আখ্যা দেন এবং ওয়াশিংটনে থাকা কানাডার প্রতিনিধি দলকে অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। এর ফলেই দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি হয়।

trump vs carney in trade war

কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন যে শর্তাবলি দিয়েছিল, তাতে কানাডায় তৈরি হওয়া যানবাহনের ওপর শুল্ক ছাড় কমানোর কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে অন্য কোনো দেশের সাথে কানাডার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করার অধিকার খর্ব করা এবং কানাডার নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার্থে কানাডা কোনোভাবেই সেই অন্যায্য শর্ত মেনে নিতে রাজি হয়নি। কানাডা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা নিজেদের দেশে সম্পূর্ণ সার্বভৌম এবং কারও অর্থনৈতিক চাপের কাছে মাথা নত করবে না।

আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর পরই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সংঘাত আরও তীব্র রূপ নিয়েছে। আমেরিকার পক্ষ থেকে কানাডার প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে। এর জবাবে কানাডাও পালটা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে যে, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে তারা মার্কিন পণ্যের ওপর সমান হারে পালটা শুল্ক কার্যকর করবে। বিশেষ করে আমেরিকার ইস্পাত এবং দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারকে লক্ষ্য করেই কানাডা এই শুল্ক আরোপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৮৮০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা বাণিজ্য সম্পন্ন হয় এবং কানাডার মোট রফতানির প্রায় ৭২ শতাংশ পণ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যায়। এই পরিস্থিতিতে এমন সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক স্তরে শুরু হওয়া এই শুল্ক যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামবে? আপনার মতামত কমেন্ট করে আমাদের জানান।

 

Kingshuk Singha Roy
Kingshuk Singha Roy
Founder & Editor-in-Chief বাংলার আওয়াজের প্রতিষ্ঠাতা। ২০১৭ সাল থেকে ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের সাথে যুক্ত। সাংবাদিকতা ও ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img