উত্তরপাড়ায় ফের চিনা মাঞ্জার বলি হতে বসেছিলেন যুবক! মারণ সুতোর দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া ব্যবস্থার আর্জি প্রশাসনের কাছে

Published:

রাজ্যে চিনা মাঞ্জার ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এর দৌরাত্ম্য যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। ফের হুগলির উত্তরপাড়া শহরে চিনা মাঞ্জার শিকার হলেন এক যুবক। মারণ এই সুতোর কবলে পড়ে অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। বারবার সচেতনতা প্রচার চালানোর পরেও কেন এই বিপজ্জনক সুতোর বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জনমানসে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের কড়া হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

এর আগে কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চিনা মাঞ্জার কারণে একাধিক মানুষের মর্মান্তিক মৃ*ত্যু বা প্রাণহানি ঘটেছে। একের পর এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রশাসন কড়া নির্দেশিকা জারি করলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রভাব চোখে পড়ছে না। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এখনও গোপনে চিনা মাঞ্জা বিক্রি করছেন, আর সাধারণ মানুষ ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনায় তা দেদার কিনছেন। যার জেরে নিত্যদিন কোনো না কোনো নিরীহ মানুষ এই ভয়ঙ্কর সুতোর কবলে পড়ে বিপদের সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গতকাল রাত সাড়ে নটা নাগাদ মাখলা এলাকার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা প্রিয়জিৎ হালদার নিজের কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন। মাখলা তরুণ দল ক্লাবের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎই তাঁর গলায় চিনা মাঞ্জা জড়িয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো সুতোর টানে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। র*ক্তা*ক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে তড়িঘড়ি উদ্ধার করে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আহত যুবক পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে জানান, উত্তরপাড়া থানা এলাকার একাধিক জায়গায় এখনও অবাধে চিনা মাঞ্জা বিক্রি হচ্ছে। অবিলম্বে পুলিশ যাতে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেই আর্জি জানিয়েছেন তিনি। এই ঘটনার বিষয়ে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন যে, তাঁরা খবর পেয়েছেন এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়লে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পুলিশের ওই কর্তা আরও জানান যে, এর আগেও উত্তরপাড়া শহরের একাধিক দোকানে আচমকা হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ চিনা মাঞ্জা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তবে সাময়িক অভিযানের পর ফের কীভাবে এই মারণ সুতো বাজারে ফিরছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে চলছে এই বেআইনি ব্যবসা? আপনার এলাকায় কি এখনও চিনা মাঞ্জা বিক্রি হচ্ছে? কমেন্ট করে আমাদের জানান।

Related articles

spot_img

Recent articles

spot_img