Agnimitra Paul Road Decoration Cost: সরকারি কোষাগার থেকে এক টাকাও খরচ হয়নি, আসানসোলে দাঁড়িয়ে রামধনু সাজ নিয়ে বড় তথ্য ফাঁস পুরমন্ত্রীর
রিপোর্ট: তানিয়া ঘোষ
Asansol: দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে তিলোত্তমা কলকাতা থেকে শুরু করে শিল্পাঞ্চল আসানসোল—সর্বত্রই এখন উৎসবের রঙিন আমেজ। শহরের প্রধান পথঘাট থেকে শুরু করে ফ্লাইওভারগুলিতে রামধনু রঙের নজরকাড়া আলপনা ও বিশেষ মেকওভার দেওয়ার কাজ জোরকদমে চলছে। কলকাতার রেড রোড, বেলেঘাটা বা গড়িয়াহাট ব্রিজের পাশাপাশি আসানসোলের ভগত সিং মোড় সংলগ্ন এলাকাও চন্দননগরের ঐতিহ্যবাহী আলোকসজ্জায় ঝলমলে হয়ে উঠতে চলেছে। তবে এই জমকালো সাজসজ্জা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। বিরোধীদের প্রশ্ন ছিল, সাধারণ মানুষের করের টাকায় এই অতিরিক্ত জাঁকজমকের আসলে কতটা প্রয়োজন? সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এক অনুষ্ঠানে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন যে, এই নান্দনিক সৌন্দর্যায়নের পেছনে সরকারি তহবিল থেকে একটি পয়সাও খরচ করা হয়নি।
মঙ্গলবার আসানসোলের একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানান যে, বাঙালি যেমন শারদোৎসবের আগে নিজেদের ঘরদোর পরিষ্কার করে নতুন রঙে সাজিয়ে তোলে, তেমনই নিজেদের শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। নিজের অতীতের ফ্যাশন ডিজাইনার জীবনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, অতীতে মানুষকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার যে অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল, আজ সেটাই শহরকে রূপ দেওয়ার ভাবনায় রূপান্তরিত হয়েছে। দুর্গাপুজোর আনন্দকে সাধারণ মানুষের মনে দ্বিগুণ করে দিতেই কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার সড়ক ও সেতুগুলিতে এই বর্ণময় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিরোধীদের যাবতীয় কটাক্ষ ও খরচের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, রঙ প্রস্তুতকারী বিভিন্ন নামী সংস্থার বিশেষ সহযোগিতা এবং সিএসআর (CSR) ফান্ডের অনুদান থেকেই এই সাজসজ্জার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করা হয়েছে। ফলে রাজ্যবাসীর করের টাকার ওপর বিন্দুমাত্র আর্থিক চাপ পড়েনি। উৎসবের এই দিনগুলিতে বাংলার রূপকে আরও উজ্জ্বল করে তুলতে এই অভিনব প্রয়াস সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ তৈরি করেছে।
সাজসজ্জার খবরের পাশাপাশি এদিন আসানসোলের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের শিলান্যাস ও ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। আসানসোলের চিত্রা মোড় থেকে সাঁতা ব্রিজ পর্যন্ত একটি নতুন আধুনিক রাস্তা তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুজো মিটলেই এই রাস্তা নির্মাণের কাজ পুরোদমে শুরু হবে এবং তার আগে ১৭ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি বিশেষ প্যাচ ওয়ার্ক করা হবে। এছাড়া, দীর্ঘ প্রায় চল্লিশ বছর ধরে কেবল পাথর ও বোল্ডার বিছানো থাকা আসানসোলের ইসমাইল এলাকার ঐতিহাসিক ৬০ ফুট দীর্ঘ রাস্তাটি পাকা করার জন্যও ১ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণের শিলান্যাস করেছেন আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা পুরমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, একদিকে সাজসজ্জার অভিনব উদ্যোগ এবং অন্যদিকে পরিকাঠামো উন্নয়নের জোড়া উপহারে আপ্লুত শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারা।




