Suvendu Adhikari on Mamata Rally: নবরাত্রি পালনকারীরাই উত্তর দেবেন, রাজাবাজার-পার্ক সার্কাস মিছিলের রুট নিয়ে সরব মুখ্যমন্ত্রী
Kolkata: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত নির্ধারিত এই প্রস্তাবিত মিছিলের রুট এবং সময়সূচি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিমধ্যে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। মিছিলের ঠিক একদিন আগে, সোমবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই রুট নির্বাচন নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও আক্রমণ শানিয়েছেন। তিনি সরাসরি মন্তব্য করেছেন যে মিছিলের জন্য অত্যন্ত ‘ভাল জায়গা’ বেছে নেওয়া হয়েছে এবং যারা এই মুহূর্তে নবরাত্রি পালন করছেন, তাঁরাই এর উপযুক্ত জবাব দেবেন। মূলত আসন্ন উৎসবের মরশুমে এবং ধর্মীয় উৎসবের আবহে এই ধরনের স্পর্শকাতর রুটে মিছিল করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যদিও কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিতর্কিত মিছিলের চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমতি দেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠছে।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত ১০ই অক্টোবর রাজধানী দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ঘটনার পরই ক্ষোভ প্রকাশ করে রাজ্যে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর দুটো থেকে রাজাবাজার এলাকা থেকে শুরু হয়ে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এই বিশাল মিছিলটি হওয়ার কথা রয়েছে। তৃণমূল শিবিরের প্রচারপত্র ও বিবৃতির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে এই প্রতিবাদ মিছিলটি কেবল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের গণতন্ত্র দমনের চেষ্টার বিরুদ্ধেও এক জোরালো হুঙ্কার। এর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারী এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির ওপর ধরপাকড় ও প্রশাসনিক দমনপীড়নের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার কথা রয়েছে এই মিছিল থেকে। কিন্তু এই রুটটি বেছে নেওয়ার পরই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

আরও পড়ুনঃ Orange Line Metro Timing: মঙ্গলবার থেকেই কমলা লাইনে মেট্রোর সময় বদল, কখন মিলবে প্রথম ও শেষ ট্রেন?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার এই প্রস্তাবিত মিছিলের রুট নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেন এবং অত্যন্ত তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন। তিনি সরাসরি বলেন, “খুব ভাল জায়গা পছন্দ করেছেন। যারা নবরাত্রি পালন করছেন, তারাই এর উত্তর দিয়ে দেবেন।” তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে মূলত উৎসবের দিনগুলিতে এবং বিশেষ করে নবরাত্রির পবিত্র সময়ে শহরের একটি অত্যন্ত জনবহুল ও সংবেদনশীল সংখ্যালঘু প্রধান এলাকা দিয়ে মিছিল করার বিষয়টিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। শুভেন্দু অধিকারী আরও দাবি করেছেন যে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব আগামী দিনের পৌরসভা নির্বাচনেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হবে। যদিও তিনি তাঁর এই মন্তব্যে কোন নির্দিষ্ট জায়গায় বা কোন কারণে আপত্তি রয়েছে, তার কোনো দীর্ঘ ব্যাখ্যা দেননি, তবে তাঁর এই মন্তব্য যে শারদোৎসবের ঠিক আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এদিকে, এই রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা এবং অনুমতির বিষয়টি। সোমবার পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক বা লিখিত অনুমতি প্রদান করা হয়নি। উৎসবের মরশুমে যখন গোটা কলকাতা শহর দুর্গাপুজোর আনন্দে মেতে উঠেছে এবং রাজপথে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে পুলিশ প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা নিতে হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাসের মতো ব্যস্ত ও সংবেদনশীল রুটে এত বড় মিছিলের আয়োজন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে পুলিশ প্রশাসন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মিছিলের সমস্ত প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হলেও পুলিশের চূড়ান্ত ছাড়পত্র ছাড়া এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পুলিশ যদি শেষ মুহূর্তে অনুমতি না দেয়, তবে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বড় সংঘর্ষ বা রাজনৈতিক সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর আনন্দমুখর আবহ এবং উৎসবের প্রাক্কালে এসআইআর-এর প্রতিবাদে তৃণমূলের এই মিছিল এবং মুখ্যমন্ত্রীর কড়া কটাক্ষ রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে যখন বিরোধী শিবির তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি সফল করতে বদ্ধপরিকর, ঠিক অন্যদিকে শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই রুট নির্বাচনকে ধর্মীয় ভাবাবেগ ও উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ শানানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং উৎসবের আনন্দ যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে নজর রেখেই প্রশাসন এখন প্রতিটি পদক্ষেপে অত্যন্ত সতর্কতামূলক নীতি অবলম্বন করছে। মঙ্গলবার দুপুর গড়ালে এই মিছিল আদৌ রাজপথে নামতে পারে নাকি পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার কারণে স্থগিত হয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়। উৎসবের মরশুমে রাজনৈতিক দলগুলির এই স্নায়ুর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষ কতটা ভোগান্তির শিকার হন এবং আইনি বা প্রশাসনিক স্তরে কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে, তার ওপরই নজর রয়েছে সমগ্র রাজ্যের।



