Elon Musk Starlink India: আম্বানির রিলায়েন্স জিয়োকে কড়া টক্কর দিতে প্রস্তুত স্টারলিঙ্ক, জিওর মেগা আইপিও-র আগে বিস্ফোরক মন্তব্য মাস্কের
নিউ দিল্লি: ভারতীয় টেলিকম বাজারের নিয়ন্ত্রক ও শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)-র সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী এলন মাস্ক। জিওর পক্ষ থেকে ভারতের সর্বকালের সবচেয়ে বড় আইপিও (IPO) বা ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং আনার ঠিক প্রাক্কালেই স্পেসএক্স-এর মালিক এলন মাস্ক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে ভারতের বিশাল বাজারে স্টারলিঙ্ক (Starlink)-এর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা টিকিয়ে রাখতে হলে এর দাম অত্যন্ত সাশ্রয়ী এবং সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে হবে। ভারতীয় মুদ্রায় মোবাইল ডেটার দাম বিশ্বজুড়ে অন্যতম সর্বনিম্ন হওয়ায় স্টারলিঙ্কের মতো উচ্চপ্রযুক্তির স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা সফল করতে হলে স্থানীয় বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ট্যারিফ নির্ধারণ করতে হবে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে সামনে এল যখন দুই ধনকুবেরের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে কড়া বাক্যবিনিময়ের জেরে জাতীয় রাজনীতি ও প্রযুক্তিমহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
জিয়ো প্ল্যাটফর্মস তাদের এই মেগা আইপিও-র মাধ্যমে প্রায় ১০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা তারও বেশি মূল্যায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা ভারতীয় বাজারে এক নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে। রিলায়েন্স জিওর এই ঐতিহাসিক পাবলিক অফারিংয়ের ঠিক কয়েকদিন আগেই এলন মাস্কের এই আক্রমণাত্মক কৌশল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। রিলায়েন্সের নিজস্ব স্যাটেলাইট ইন্টারনেট উদ্যোগ এবং এলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক উভয় সংস্থাই বর্তমানে ভারতের মহাকাশ নিয়ন্ত্রক ও সরকারি মহলের কাছ থেকে চূড়ান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কেনিয়া সহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল বাজারে অত্যন্ত কম দামে ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে স্থানীয় টেলিকম সংস্থাগুলিকে যেভাবে মাস্ক একপ্রকার বিপাকে ফেলেছেন, সেই একই ব্যবসায়িক কৌশল এবার ভারতের বাজারেও প্রয়োগ করতে পারেন বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। তবে ভারতে মোবাইল ডেটার খরচ প্রতি গিগাবাইটে মাত্র আট সেন্টের কাছাকাছি হওয়ায়, স্টারলিঙ্কের মতো প্রিমিয়াম স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা এখানে কোন মূল্য কাঠামোর মাধ্যমে টিকে থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
![]()
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) পোস্ট করে এলন মাস্ক স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, ভারতে স্টারলিঙ্কের দাম যদি অতিরিক্ত বেশি রাখা হয় তবে সাধারণ কেউ তা কিনবে না, ফলে স্পেসএক্সকে অবশ্যই এর সঠিক এবং সাশ্রয়ী মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তিনি আরও জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতার উপস্থিতি ভারতের সাধারণ নাগরিকদেরই সবচেয়ে বেশি লাভবান করবে, কারণ এর ফলে উপভোক্তারা অনেক বেশি বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। মুকেশ আম্বানির মুনাফা কিছুটা কমতে পারে, তবে এর জেরে রিলায়েন্সের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে না বলেই তিনি মন্তব্য করেছেন। এর আগে মাস্ক মুকেশ আম্বানি এবং নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে একটি পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছিলেন এবং স্টারলিঙ্কের এন্ট্রি আটকে দেওয়ার জন্য ভারতীয় ব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন। যদিও ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে জানানো হয়েছে যে স্টারলিঙ্ক এবং জিয়ো স্যাটেলাইট সহ সমস্ত সংস্থাকেই নিয়ম মেনে সমানভাবে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করতে হবে।
এলন মাস্ক এবং রিলায়েন্সের এই দ্বৈরথের মধ্যেই ভারতীয় টেলিকম ও স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড বাজারের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত সামনে আসছে। অতীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে এলন মাস্কের সুসম্পর্ক দেখা গেলেও সাম্প্রতিক এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলিতে কিছুটা উত্তেজনার সুর লক্ষ্য করা গেছে। রিলায়েন্সের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত মাস্কের এই সমস্ত মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, তবে জিয়োর রেকর্ড আইপিও লঞ্চের ঠিক আগে এই ধরনের বাণিজ্যিক চাপ তৈরি করা অত্যন্ত সুপরিকল্পিত বলেই মনে করছে অর্থনৈতিক মহল। ভারতের বিশাল ভূখণ্ডে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে কর্পোরেট সংস্থাগুলো পর্যন্ত দ্রুত গতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের যে বিপুল চাহিদা রয়েছে, সেখানে প্রথম প্রবেশাধিকার বা ফার্স্ট-মুভার অ্যাডভান্টেজ পাওয়ার জন্য দুই প্রযুক্তি মহারথীর লড়াই এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে সমস্ত আইনি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র মেলার পরেই বাণিজ্যিকভাবে পরিষেবা শুরু করা যাবে।

সব মিলিয়ে, মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্স জিয়োর ঐতিহাসিক আইপিও লঞ্চের ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এলন মাস্কের স্টারলিঙ্কের সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট নিয়ে এই ঘোষণা ভারতীয় প্রযুক্তি ও টেলিকম বাজারকে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। একদিকে দেশের সবচেয়ে বড় কর্পোরেট সাম্রাজ্যের দেশীয় আধিপত্য এবং অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তির গ্লোবাল স্যাটেলাইট প্রযুক্তির লড়াই আগামী দিনে ভারতীয় গ্রাহকদের সামনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। স্টারলিঙ্ক যদি সত্যিই সাশ্রয়ী মূল্যে তাদের পরিষেবা ভারতে নিয়ে আসতে সফল হয়, তবে তা দেশের টেলিকম খাতে এক বিশাল ভূকম্পন সৃষ্টি করবে। সরকারের চূড়ান্ত নিরাপত্তা ছাড়পত্র পাওয়ার পর দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের এই বাণিজ্যিক লড়াইয়ের লাভ সাধারণ গ্রাহকরা কতটা পান এবং প্রতিযোগিতার বাজারে ট্যারিফ যুদ্ধ কোন পর্যায়ে পৌঁছায়, সেটাই এখন আগামী দিনের সবচেয়ে বড় কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



