Rahul Gandhi on Gyanesh Kumar: রাতে ঘুম হয় না, মোদী-শাহের চাপে এই কাজ করছেন CEC, চাঞ্চল্যকর দাবি কংগ্রেস নেতার
New Delhi: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যখন রাজধানী দিল্লি জুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এবং বিরোধীদের আন্দোলন চরমে উঠেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এক সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ও বিস্ফোরক দাবি করে বসল জাতীয় রাজনীতিতে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। সোমবার রাজধানী দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধী সরাসরি ইঙ্গিত দেন যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের তরফ থেকে তাঁর কাছে নিয়মিত বার্তা বা মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। এই চাঞ্চল্যকর দাবি সামনে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে চলা তুমুল আন্দোলনের আবহে রাহুলের এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাংবাদিক বৈঠকের চলাকালীন এক সাংবাদিক রাহুল গান্ধীকে সরাসরি প্রশ্ন করেন যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন বা তাঁকে কোনো বার্তা পাঠিয়েছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে কিছুটা রহস্য বজায় রেখেই রাহুল গান্ধী জানান যে বার্তা আসছে এবং জ্ঞানেশ কুমার নিজেও নাকি এই সাংবাদিক বৈঠক দেখছেন। এরপরই জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি এবং কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন যে, তাঁর অবিলম্বে ‘রাজসাক্ষী’ হয়ে যাওয়া উচিত। কংগ্রেস নেতার দাবি, জ্ঞানেশ কুমার নিজে কোনো গুরুতর অপরাধ করলেও তিনি এই পুরো ষড়যন্ত্রের মূল বা প্রধান মাস্টারমাইন্ড নন। তিনি কোনো ভুল করে থাকতে পারেন, কিন্তু তাঁর নেপথ্যে থাকা আসল শক্তির আসল রূপটি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা উচিত। তবে ঠিক কী ধরনের বা কার মাধ্যমে এই বার্তা তাঁর কাছে এসে পৌঁছচ্ছে কিংবা সেই বার্তার আসল বিষয়বস্তু কী ছিল, সে বিষয়ে রাহুল গান্ধী সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চাননি এবং কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।

জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করার পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং শিল্পপতি গৌতম আদানিদের দিকে সরাসরি আঙুল তুলেছেন রাহুল গান্ধী। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেছেন যে, জ্ঞানেশ কুমার একা এই সিদ্ধান্তগুলি নেননি, বরং দেশের এই শীর্ষ আধিকারিকরা তাঁকে চরম চাপের মুখে রেখে এমন কাজ করাতে বাধ্য করেছেন। রাহুল গান্ধী সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে বলেন যে, তিনি যেন আর অহেতুক ঘাবড়ে না যান কারণ তাঁরা তাঁকে ছাড়বেন না। রাতে যে জ্ঞানেশ কুমার ঠিকমতো ঘুমোতে পারছেন না, সেই কথাও রাহুলের বক্তব্যে প্রতিধ্বনিত হয়েছে। বিরোধী নেতার সাফ কথা, জ্ঞানেশ কুমারের উচিত সমস্ত পদ ছেড়ে অবিলম্বে পদত্যাগ করা, যা তাঁর নিজের জন্য এবং দেশের সংবিধানের জন্য একটি বড় পরিসেবা হিসেবে গণ্য হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, পদত্যাগ করলে বিরোধী শিবির তাঁকে ক্ষমা করার বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করতে পারে।
অন্যদিকে, সোমবারের এই উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) শীর্ষ নেতারাও ময়দানে নেমে পড়েছেন। সিজেপির প্রতিনিধি দল অর্থাৎ আশুতোষ রাঙ্কা, সৌরভ দাসরা সোমবার সকালে যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির সরকারি অনুমতির আবেদন নিয়ে পার্লামেন্টারি স্ট্রিট থানায় গিয়ে উপস্থিত হন এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। থানা থেকে বেরিয়ে এসে সিজেপি নেতারা অত্যন্ত কড়া সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যদি পুলিশ প্রশাসন তাদের এই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আনুষ্ঠানিক অনুমতি না দেয়, তবে তারা ফের রাজ্যজুড়ে আরও তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবেন। রাজধানীতে যখন ইন্ডিয়া জোট এবং বিভিন্ন ছাত্র-যুব সংগঠনের পক্ষ থেকে লাগাতার বিক্ষোভ এবং মিছিলের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই CJP-র এই অতিসক্রিয়তা প্রশাসনের মাথাব্যাথা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের এই লাগাতার আন্দোলন এবং রাহুল গান্ধীর একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি রাজধানীর রাজনীতিকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের বাইরে আইনি লড়াই এবং অন্যদিকে রাজপথের এই গণআন্দোলন—সব মিলিয়ে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব যে আগামী দিনে পড়তে চলেছে তা বলাই বাহুল্য। রাহুল গান্ধী যেভাবে সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রাজসাক্ষী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ভেতরকার চাপের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, তাতে আগামী দিনে প্রশাসনের অন্দরে আরও বড় কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলেই ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান। রাজধানীর এই তীব্র রাজনৈতিক ডামাডোল এবং পুলিশি কড়াকড়ির মাঝে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



