Mary Millben CJP Rumors: সমাজমাধ্যমে ভাইরাল আনভেরিফাইড দাবি! সিজেপি-র অর্থায়ন নিয়ে মেরি মিলবেনের নাম জড়ানোর ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: সমাজমাধ্যমের দেওয়ালে সম্প্রতি একটি চাঞ্চল্যকর ও পুরোপুরি আনভেরিফাইড দাবি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যা ঘিরে জাতীয় রাজনীতি ও সাইবার দুনিয়ায় তীব্র কৌতূহল ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির আন্দোলন যখন রাজধানীর রাজপথ উত্তপ্ত করে তুলেছে, ঠিক সেই সময়ই আমেরিকার জনপ্রিয় গায়িকা মেরি মিলবেনের নাম করে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। ওই ভাইরাল হওয়া তথ্যে অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করা হচ্ছে যে, ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি-র চলমান রাজনৈতিক কার্যকলাপে নাকি মোদি-বিরোধী আমেরিকানরা বড় অঙ্কের আর্থিক মদত জোগাচ্ছে। যদিও মূলধারার কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম বা তদন্তকারী সংস্থার তরফে এই খবরের সত্যতা বা নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বা জোরালো প্রমাণ সামনে আসেনি, তবুও সাইবার দুনিয়ার এই ভাইরাল বয়ান মুহূর্তের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই আনভেরিফাইড দাবি অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতা এবং নির্দিষ্ট শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক চক্র কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে আমেরিকায় পড়তে যাওয়া বা উচ্চশিক্ষা নেওয়া কোনো তরুণ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিকে বেছে নিয়ে তাকে আদর্শগতভাবে প্রভাবিত করার পর স্বদেশে ফিরিয়ে এনে বিশৃঙ্খলা, প্রতিবাদ ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কোটি কোটি ডলার অর্থায়ন করা হয় বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। মেরি মিলবেনের নাম করে ছড়িয়ে পড়া এই বয়ানকে কেন্দ্র করে সাইবার দুনিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের বিতর্ক শুরু হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, এই ধরনের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর দাবিগুলো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সত্যতা বা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি, বরং এটি শুধুই সোশ্যাল মিডিয়ার অন্দরে ঘুরপাক খাওয়া একটি অপ্রমাণিত বয়ান মাত্র।
Mary Millben CJP: মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেন ও ককরোচ জনতা পার্টির ফাইল ছবি (1)
উল্লেখ্য, মেরি মিলবেন অতীতেও বিভিন্ন সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি তাঁর গভীর শ্রদ্ধা এবং বিভিন্ন নীতির অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন। ২০২৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক সফরের সময় তাঁর গাওয়া ভারতের জাতীয় সংগীত বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছিল এবং তিনি খোদ মোদীর ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি নরেন্দ্র মোদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনকে ‘ভারতীয় স্বপ্নের উজ্জ্বল প্রতীক’ বলে অভিহিত করতেও পিছপা হননি। ফলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি বড় অংশের মতে, মেরি মিলবেনের রাজনৈতিক ঝোঁক বরাবরই বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের অনুকূলে রয়েছে, আর সেই কারণেই সিজেপির চলমান আন্দোলনকে লক্ষ্য করে এই ধরনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক মেরুকরণ ও উত্তেজনার জন্ম দিচ্ছে।
এদিকে এই ধরনের আনভেরিফাইড ও ভিত্তিহীন অভিযোগ সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরেই অত্যন্ত তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি এবং তাঁর দল এই সমস্ত আর্থিক তছরুপ, বিদেশি তহবিল গ্রহণের অভিযোগ এবং ষড়যন্ত্রের তত্ত্বকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। ইতিপূর্বে এক সাক্ষাৎকারে দীপকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন যে মার্কিন মুলুকের তাঁর উচ্চশিক্ষার পুরো খরচ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মেধাভিত্তিক বৃত্তি এবং নিজের নেওয়া ব্যাংক ঋণের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। তাছাড়া, দলের বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংগঠনের ছোটখাটো খরচ চালানোর জন্য তিনি এবং তাঁর সমমনোভাবাপন্ন বন্ধুরা সম্পূর্ণ নিজেদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, যৌথ অবদান ও অভ্যন্তরীণ অনুদানের ওপরই নির্ভর করেন। বিদেশি কোনো শক্তির মদত বা গোপন তহবিল নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অবাস্তব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে সিজেপি নেতৃত্ব।
Advertisement of Andaman vibes
সব মিলিয়ে, খবরের সত্যতা ও উৎস যাচাই না করেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ধরনের আনভেরিফাইড দাবি বর্তমান ডিজিটাল যুগে রাজনৈতিক প্রচার, প্রোপাগান্ডা এবং প্রতিবাদের লড়াইকে আরও বেশি জটিল ও কুয়াশাচ্ছন্ন করে তুলছে। এক দিকে যখন নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী ও এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে রাজপথ কাঁপিয়ে তুলছে সিজেপি, অন্য দিকে তখন এই ধরনের ভার্চুয়াল বিতর্ক সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে এক গভীর বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এই ধরনের সংবেদনশীল খবরের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ ও সচেতন নাগরিকদের গুজবে কান না দিয়ে সবসময় তথ্য যাচাই বা ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের ওপর ভরসা রাখা উচিত বলে মনে করছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। আগামী দিনে এই ভাইরাল দাবির সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং এর রাজনৈতিক অভিঘাত কোথায় গিয়ে ঠেকে, এখন সেটাই দেখার প্রধান বিষয়।