Delhi Protest Cost Ramlila Maidan: যন্তর মন্তরে নিষেধাজ্ঞা জারির পর রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভের ভাড়ায় চোখ কপালে ওঠার জোগাড়, বিপাকে আন্দোলনকারীরা
রিপোর্ট: কিংশুক সিংহ রায়
New Delhi: গণতন্ত্রের দেশে শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজেদের দাবি দাওয়া নিয়ে আন্দোলন বা প্রতিবাদ করা প্রতিটি নাগরিকের জন্মগত ও সংবিধানসম্মত অধিকার। কিন্তু দেশের রাজধানী দিল্লিতে সংসদের কাছাকাছি এলাকায় সেই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার পথ এখন আর আগের মতো অবাধ ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে থাকছে না। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে যে প্রশাসনিক নিয়ম সামনে এসেছে, তাতে রাজধানীর বুকে রাজনৈতিক বা সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে গেলেও বিক্ষোভকারীদের পকেট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হবে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী শহরের ঐতিহাসিক প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে বিকল্প ময়দানগুলিতে প্রতিবাদ দেখানোর জন্য চড়া আর্থিক মূল্য ধার্য করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এখন থেকে যন্তর মন্তরে আর কোনো ধরনের জমায়েত বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করা যাবে না। এর বিকল্প হিসেবে প্রশাসন তিনটি সুনির্দিষ্ট ময়দানকে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত এবং নিকটবর্তী স্থানটি হলো রামলীলা ময়দান। এছাড়া উত্তর দিল্লির বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি ময়দানকেও বিক্ষোভস্থল হিসাবে বেছে নেওয়া হয়েছে। তবে সমস্যা তৈরি হয়েছে দূরুত্ব নিয়ে। যন্তর মন্তর থেকে রামলীলা ময়দানের দূরত্ব প্রায় ৩ কিলোমিটার হলেও বাকি দুটি মাঠ যথাক্রমে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার এবং ৪৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যা সাধারণ মানুষ বা রাজনৈতিক কর্মীদের যাতায়াতের পক্ষে অত্যন্ত অসুবিধাজনক।

বিকল্প জায়গাগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি থাকা রামলীলা ময়দানে কোনো আন্দোলন বা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গেলে উদ্যোক্তাদের এখন বিপুল আর্থিক বোঝা টানতে হবে। প্রায় ১২ একর আয়তনের এই ঐতিহাসিক মাঠে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হতে পারে। এই ময়দানের প্রতি দিনের ভাড়ার হার ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিভিন্ন কর ও সিকিউরিটি ডিপোজিট যুক্ত হয়ে মোট খরচের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকায়। এর মধ্যে অবশ্য ৫৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য হলেও বাকি প্রায় ৬৬ হাজার টাকা সম্পূর্ণ অফেরতযোগ্য হিসেবে কেটে নেওয়া হবে। অতীতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য উদ্যোক্তাদের কোনো অর্থই দিতে হতো না, শুধুমাত্র পুলিশের অনুমতি প্রয়োজন হতো।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী রামলীলা ময়দান ব্যবহার করতে হলে প্রথমে দিল্লি পুরসভার উদ্যানপালন বিভাগের থেকে অনুমতি নিতে হয় এবং পরবর্তীতে পুলিশের ‘নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট’ জোগাড় করে তবেই ভাড়া মেটাতে হয়। যদিও ময়দানের একটি ক্ষুদ্র অংশে নামমাত্র মানুষের জমায়েতের জন্য বিনামূল্যে জায়গা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবে বড় কোনো গণআন্দোলনের ক্ষেত্রে তা একেবারেই বেমানান। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, চলতি বছরের জন্য এই ময়দানের সিংহভাগ বুকিং ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গেছে এবং শুধুমাত্র বছরের শেষ দিকে কয়েকটি দিন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে, দিল্লির পুলিশ প্রশাসনের এই কড়া নীতি রাজধানী শহরের প্রতিবাদের মানচিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দিচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের পথকে কঠিন করে তুলছে।




